সাতক্ষীরাকে তিলোত্তমা শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই : ভয়েস অব সাতক্ষীরার সাথে একান্ত সাক্ষাতকারে চিশতি


469 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
সাতক্ষীরাকে তিলোত্তমা শহর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই : ভয়েস অব সাতক্ষীরার সাথে একান্ত সাক্ষাতকারে চিশতি
অক্টোবর ২৪, ২০১৫ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক :
সাতক্ষীরা জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক ও কাশেম গ্রুপের চেয়ারম্যান তাজকিন আহমেদ চিশতি আসন্ন সাতক্ষীরা পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী হিসেবে প্রচারণা শুরু করেছেন। পৌর নির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী এই তরুণ নেতা ভয়েস অব সাতক্ষীরার সাথে একান্ত সাক্ষাতকারে তুলে ধরেছেন সাতক্ষীরার উন্নয়ন, উৎপাদন তথা গণমানুষের নিয়ে তার আগামী দিনের প্রত্যাশা।

প্রথাগত ধ্যান-ধারণা পরিবর্তনের অঙ্গিকার নিয়ে জনগনের সামনে হাজির হওয়া এই নেতা বলেছেন, পৌর পিতা নয় বন্ধু হতে চাই। কারো উপর চড়ি ঘুরাতে চাই না। নির্বাচিত হলে আমি এখন যেমন আছি, ভবিষ্যতেও তেমন থাকবো। আমরা দরজা সকলের জন্য ২৪ঘন্টা খোলা থাকবে। তিনি আরো বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া, সিনিয়র ভাইচ চেয়ারম্যান তারেক রহমানের দোয়া দিয়ে আমি নির্বাচনের মাঠে নেমেছি। তারা আমাকে পৌর সভার নির্বাচনের জন্য মাঠে কাজ করার নির্দেশ নিয়েছেন। তিনি বলেন, দেশের মানুষ পরিবর্তন চাই। সকলে পরিবর্তনের পক্ষে। তাই পরিবর্তনের অঙ্গিকার নিয়ে তিলোত্তমা শহর হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছি। তিনি নির্বাচিত হলে সর্বপ্রথম প্রাণ সায়েরের খাল ঐতিহ্য ও পূর্বের গতি ফিরিয়ে আনতে কাজ করবেন।

শহরের কোন স্কুলের সামনে অবিভাবকদের বসার স্থান নেই উল্লেখ করে বলেন, নির্বাচিত হলে ব্যক্তিগত তহবিল থেকে শহরের প্রতিটি স্কুলের সামনে অবিভাবকদের জন্য সুন্দর ও আকর্ষণীয় বিশ্রামাগার করবেন। শহরে যারা দরিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করছে তাদের সন্তানদের লেখাপড়া বিশেষ উদ্যোগ নিবেন। বৈষম্যহীন সমাজ ব্যবস্থা গঠনে সচেষ্ট থাকবেন জানিয়ে এই তরুণ নেতা আরো জানান, দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারকদের সাথে কথা বলে জীবনে প্রথম জনগণের নির্বাচনের মাঠে নেমেছি। সাহস ও মানুষ সেবার ব্রত নিয়ে সামনে এগিয়ে যাচ্ছি। ছাত্রজীবনে ছাত্রদের কল্যাণে কাজ করেছি। তাদের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন সময় রাজপথে থেকে আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। প্রাক্তন এই ছাত্রনেতা আরো বলেন, বেকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে তিলোত্তমা শহর গড়ে তোলা হবে। নির্বাচিত হলে কোন এলাকাকে বিশেষ সুবিধে দেওয়া হবে না। অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য নিরসন করে সম্পদের সুষম বন্টন করা হবে। তিনি আরো বলেন, শহরের প্রাণ কেন্দ্র নিয়ে বয়ে যাওয়া প্রাণ সায়ের খাল মৃত হয়ে অবর্জনায় ভরে গেছে। এখানে এক সময় গহনা নৌকা আসত। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সুপরিকল্পিতভাবে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তারা খাল খননের নামে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতি করেছে। যার কারণে শহরে জলাবদ্ধতা সৃস্টি হচ্ছে। খালটি এখন মৃত অবস্থায় আছে। তিনি নির্বাচিত হলে শহরের জলাবদ্ধতা দূর করতে ও  খালের পুরাতন ঐতিহ্য ফিরিয়ে দিয়ে নান্দনিক ও দার্শনিক স্থানে পরিণত করব। এ জন্য শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে নিয়ে ‘প্রাণ সায়ের বাঁচাও আন্দোলন’ গড়ে তুলব।

সফল ব্যবসায়ী এই নেতা আরো জানান, জেলার মানুষ অত্যন্ত সহজ-সরল ও অবহেলিত। তাদের আর্ত সামাজিক উন্নয়নে জনসংখ্যাকে জনশক্তিকে রূপান্তর করতে হবে। এ জন্য তিনি সমাজের শিল্পপতিদের এগিয়ে আসার আহবান জানিয়ে আরো বলেন, বর্তমান প্রশাসন মাদকের বিরুদ্ধে যে ভাবে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নির্বাচিত হলে এ বিষয়ে তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করব। তিনি আরো জানান, শহরে শিশুদের মানসিক বিকাশের জন্য বিনোদনের কোন স্থান নেই। কিন্তু শহরে অনেক খাস জমি আছে। প্রশাসনের সহযোগিতা পেলে খাস জমিতে ব্যক্তি উদ্যোগে শিশুদের বিনোদনের জন্য শিশু পার্ক স্থাপন করবেন। তিনি আরো জানান, পৌরসভায় বয়স্ক ভাতা কার্ড, জন্ম নিবন্ধন, শিশু কার্ড, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন কাজে আসা মানুষেরা হয়রানির শিকার হন বলে ব্যক্তিগতভাবে অভিযোগ পেয়েছি।

তিনি নির্বাচিত হলে জনগণের অবাধা নিচরণ ক্ষেত্রে পরিণত করব। মানুষের হয়রানি জিরো টলারেন্সে নিয়ে আসবেন। তিনি আরো জানান, মুক্তিযোদ্ধারা জাতির বীর সন্তান। তাদের আত্মহতি ও রক্তের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে। জাতির এ বীর সন্তানদের তিনি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করবে। বেকারদের বিভিন্ন সময়ে ব্যক্তি উদ্যোগে সাহয্য করি দাবী করে এই নেতা আরো জানান, জেলার অর্থনীতি শক্তিশালী করতে হলে শিক্ষিত বেকারদের কর্মক্ষম করতে হবে। তাদের কর্মসংস্থানের জন্য সরকারের বিভিন্ন পদস্থ ব্যক্তিদের সাথে যোগাযোগ ও বেসরকারি শিল্পপতিদের উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এজন্য সরকারের কাছে সাতক্ষীরাকে বাণিজ্যিক কেন্দ্র ঘোষণারও দাবী জানান। তিনি বলেন, দাম্ভিকতা পরিহার করে বিবেককে জাগ্রত করে সৎ ও নিষ্টার সাথে পৌর বাসীর সেবা করার জন্য আদর্শ ও নীতিতে অটুট থাকবো। এ জন্য তিনি বিন¤্র চিত্তে পৌরবাসীর সাহায্য, সহযোগিতা ও দোয়া কামনা করেছেন।

তাজকিন আহমেদ চিশতি ১৯৮৯ সালে ছাত্রদল থেকে রাজনীতি শুরু করেন। সে বছর ৮ নং ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯২ সালে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্র সংসদের যুগ্ম সম্পাদক, ২০০১ সালে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০৮ সালে জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়ে অদ্যবধি দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে দায়িত্বে থাকা নির্বাচিত পৌর কাউন্সিলর মরহুম আবুল কাশেম ভ্যাদল এর পুত্র। চিশতি জেলা রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির আজীবন সদস্য।