মংলায় বিসিআইসির সার খালশ করে চার কোটি টাকার বিল বকেয়া : ৭শ’ নৌযান শ্রমিকের বেতন বোনাস বন্ধ


383 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
মংলায় বিসিআইসির সার খালশ করে চার কোটি টাকার বিল বকেয়া : ৭শ’ নৌযান শ্রমিকের বেতন বোনাস বন্ধ
জুলাই ১৬, ২০১৫ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ওয়াহেদ-উজ-জামান, খুলনা :
মংলা বন্দর দিয়ে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) আমদানিকৃত ইউরিয়া সার সাপ্লাইয়ার এম ট্রেডিং ও সাগর শিপিং প্রাইভেট লিমিটেডের কাছে নৌযান মালিকদের বকেয়া পাওনা রয়েছে ৪ কোটি টাকা। বিসিআইসির একাধিক বৈঠকে এ অর্থ পরিশোধ করার অঙ্গীকার করেও প্রতিষ্ঠান দ’ুটি এখনও নৌযান মালিকদের কোন টাকা পরিশোধ করেনি। ফলে নৌ মালিকরা শ্রমিক-কর্মচারিদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করতে পারছে না। এ কারণে প্রায় ৭শ’ নৌযান শ্রমিক-কর্মচারি এবার ঈদ উৎসব থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে খুলনা প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলেন খুলনা বিভাগীয় অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন মালিক গ্রুপের পক্ষ থেকে এ পাওনা পরিশোধের দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মালিক গ্রুপের মহাসচিব অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম বলেন, ওই দুই প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাওদুর রহমান সার আমদানিকারক বিসিআইসি’র একজন সাপ্লাইয়ার। বিসিআইসি’র যোগসাজসে ওই প্রতিষ্ঠান দু’টি টেন্ডারে গোপনে লো (কম) রেট দিয়ে সার সাপ্লাইয়ের কাজ নেয়। এরপর মংলা বন্দরে সারবাহী মাদার ভেসেল এনে পরিবহন বিল ও স্টিভেডরিং বিল না দিতে পেরে মাসের পর মাস জাহাজ আটকে রাখেন। ওই সাপ্লাইয়ার এম. ভি. জেনকো বে নামের একটি মাদার ভেসেল ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার নিয়ে গত ১৫ ফেব্রুয়ারি মংলা বন্দরে আসে। কিন্তু খালাসের টাকা ও জাহাজ ভাড়া পরিশোধ করতে না পারায় ৫ মাস আটকে রেখে চলতি জুলাই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে খালাস করে। গত ১৫ মে এম. ভি. এস. আটলান্টিক নামক অপর একটি মাদার ভেসেল ৩৩ হাজার মেট্রিক টন সার নিয়ে মংলা বন্দরে আসে। কিন্তু জাহাজ থেকে এখনও সার খালাস হয়নি। এছাড়া এম. ভি. কসফেয়ার নামে আরেকটি মাদার ভেসেল ৩৩ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার নিয়ে গত ৫ মার্চ মংলা বন্দরে আসে। জাহাজটি গত মাসে খালাস করা হয়। তবে খালাসের আগেই বিসিআইসির কর্মকর্তাদের যোগসাজসে ওই সাপ্লাইয়ার অবৈধভাবে বিসিআইসি থেকে বিল উত্তোলন করে নেন। এ কারণে বিসিআইসি’র দুই কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। গত দু’ বছরে ওই দু’ প্রতিষ্ঠানের কাছে পরিবহন ভাড়া বাবদ নৌযান মালিকদের পাওনা রয়েছে ৪ কোটি টাকা। পাওনা পরিশোধের বিষয়ে গত ৬ ও ৭ মে মালিক গ্রুপের কার্যালয়ে বিসিআইসির মহাব্যবস্থাপক (ক্রয়) এবং এম ট্রেডিং ও সাগর শিপিং প্রাইভেট লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাওদুর রহমানের উপস্থিতিতে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এরপর গত ১৭ মে বিসিআইসি’র মহাব্যবস্থাপকের কার্যালয়ে আরেক দফা বৈঠক হয়। বৈঠকে প্রথম কিস্তিতে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং পরবর্তীতে ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু এ পর্যন্ত কোন টাকা পরিশোধ করা হয়নি। ফলে বেতন-বোনাস দিতে না পারায় প্রায় ৭শ’ নৌযান শ্রমিক-কর্মচারি এবার ঈদের আনন্দ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে খুরশিদ আলম কাগুজী, ওয়াহিদুজ্জামান খান পল্টু, নূর ইসলামসহ খুলনা বিভাগীয় অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন মালিক গ্রুপ ও মংলা বন্দর ব্যবহারকারী সমন্বয় কমিটির নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।