মনোসেক্স চাষ করে লাভবান হচ্ছে সাতক্ষীরা অঞ্চলের মাছ চাষীরা : হেক্টর প্রতি ৫০ টন


2616 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
মনোসেক্স চাষ করে লাভবান হচ্ছে সাতক্ষীরা অঞ্চলের মাছ চাষীরা : হেক্টর প্রতি ৫০ টন
মার্চ ১২, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

গোলাম সরোয়ার :
সাতক্ষীরা অঞ্চলে মনোসেক্স চাষ করে লাভবান হচ্ছে মৎস্য চাষীরা। হেক্টর প্রতি ৫০ টন পর্যন্ত উৎপাদন করছে চাষীরা। অন্যনান্য প্রজাতি মাছের তুলনায় এটি দ্রুত বেড়ে উঠার পাশাপাশি বাজারে চাহিদা ভালো থাকায় চাষীদের কাছে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে মনোসেক্স উৎপাদন। ফলে এই প্রজাতি মাছটি উৎপাদন করে সাতক্ষীরা এলাকার সাধারন মানুষের যেমন পুষ্টির চাহিদা মিটছে তেমনি আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছে মৎস্য চাষীরা।
সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য অফিস সুত্রে জানা গেছে, গত ২০০৫ সালের দিকে সাতক্ষীরা জেলায় মনোসেক্স চাষ শুরু হয়। এর পর থেকে প্রসার হতে থাকে উৎপাদন। বর্তমান জেলার সবকটি উপজেলাতেই ব্যাপক হারে চাষ হচ্ছে মনোসেক্স। সুত্রটি আরো জানায়, চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছর সাতক্ষীরার সাতটি উপজেলার ৬০ হাজারের অধিক ঘেরে ৯ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে মনোসেক্স চাষ করা হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৭৫ হাজার মেট্রিকটন।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলার সুপারিঘাটা গ্রামের মৎস্য চাষী আরশাদ আলী গাজী। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি চিংড়ি চাষ করে আসছেন। কিন্ত ভাইরাসসহ বিভিন্ন রোগবালাইয়ের ক্রমাগত ভাবে লোকসান দেখা দেয়ায় তিনি চিংড়ি চাষ কমিয়ে মনোসেক্স চাষ করছেন ৫/৬ বছর যাবত। চলতি মৌসুমেও ৮ বিঘা পরিমান জমিতে এ প্রজাতি মাছের চাষ করেছেন তিনি। আরশাদ আলী জানান, গত বছর একই পরিমান জমিতে মনোসেক্স চাষ করে উৎপাদ খরচ উঠিয়েও সাড়ে ৪ লাখ টাকা লাভ করেন। বিঘা প্রতি ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা হয় মনোসেক্স চাষে। তবে এবছর বাজারে মাছের যে চাহিদা ও দাম পাওয়া যাচ্ছে তাতে করে ৫ লাখ টাকা লাভ হবে বলে আশা করছেন তিনি।
একই ভাবে সাতক্ষীরা এলাকায় মনোসেক্স পোনা উৎপাদনকারী একাধিক হ্যাচারী গড়ে উঠেছে। এসব হ্যাচারীর মধ্যে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বাঁশঘাটা এলাকার কোয়ালিটি সাইন্টিফিক হ্যাচারী এন্ড ফিসারিজ অন্যতম।এখানে উৎপাদন করা হচ্ছে মনোসেক্স, জেনোয়ার ও সুপ্রীম তেলাপিয়া মাছের পোনা। হ্যাচারীটি ২০১০ প্রতিষ্টিত হলেও তারা উৎপাদনে যায় ২০১৩ সালের শুরুর দিকে। ব্যাপক চাহিদার থাকার কারনে প্রথম বছরেই লাভে যায় এই হ্যাচারীটি। গত দু‘বছরে জেলার চাহিদা মিটিয়েও এ হ্যাচারীর সরবরাহ করা হয় খুলনা, যশোর, কুষ্টিয়া, পাবনা, ও নোয়াখালী অঞ্চলে। কোয়ালিটি হ্যাচারীর সত্বাধিকারী মো. এরশাদ ও ছাদেক আলী জানান, তাদের উৎপাদিত মনোসেক্স, জেনোয়ার ও সুপ্রীম তেলাপিয়া মাছের পোনার গুনগতমান ভালো হওয়ায় উৎপাদন চাহিদা বেড়েই চলেছে। তারা বলেন, চলতি মৌসুমে উৎপাদন চাহিদা রয়েছে ৪ কোটির উপরে। তবে প্রতি বছরই এর চাহিদা বাড়ছে বলে তিনি।
সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. আব্দুর রব জানান, বাজারে প্রতিদিন হাজার হাজার মন মনোসেক্স মাছ উঠছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও জেলার বাইরে চলে যাচ্ছে এসব মাছ। তিনি বলেন, ঢাকার পাইকারী মাছ ব্যবসায়ীরা সাতক্ষীরা থেকে অন্যান্য সাদা মাছের পাশাপাশি এ প্রজাতি মাছ কিনে নিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া অন্যসব মাছের তুলনায় এ মাছটির দাম  সাধারন ক্রেতাদের হাতের নাগালে থাকার কারনেও মধ্যবিত্ত ও নিম্মবিত্ত মানুষের কাছে ব্যাপক জনপ্রিয়।
সাতক্ষীরা জেলা মৎস্য অফিসার মো. আব্দুল অদুদ জানান, গত এক দশকের ব্যবধানে সাতক্ষীরা অঞ্চলের মৎস্য চাষীদের কাছে খুবই জনপ্রিয় উঠেছে মনোসেক্স উৎপাদন। তিনি বলেন, এলাকার চাষীরা হেক্টর প্রতি ৫০ টন পর্যন্ত উৎপাদন করছে এ প্রজাতির মাছটি। তবে অন্যান্য সাদা মাছের তুলনায় মনোসেক্স চাষে খরচের পরিমানটা বেশি। তবে এখন চিংড়ি ঘেরের সাথে এ প্রজাতের মাছ চাষ করে ব্যাপক লাভবান হচ্ছে চাষীরা। সে অনুপাতে এ মাছের পোনা চাহিদা ব্যাপক। তিনি জানান, সাতক্ষীরা সকল উপজেলাতে মনোসেক্স ও তেলাপিয়া উৎপাদন করা হচ্ছে। এভাবে মনোসেক্স মাছের পোনা উৎপাদনকারী হ্যাচারীগুলোও বেশ লাভজনক অবস্থানে রয়েছে বলে জানান তিনি। #