মন্ত্রিত্ব থাকবে না বিতর্কিতদের, পদ হারাবেন দুর্নীতিবাজরা


371 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
মন্ত্রিত্ব থাকবে না বিতর্কিতদের, পদ হারাবেন দুর্নীতিবাজরা
জুলাই ১১, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়বেন বিতর্কিত মন্ত্রীরা। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বেও আসবে পরিবর্তন। দলের নিষ্ক্রিয় নেতাদের তালিকা চূড়ান্ত করা হবে। এই সব নেতা জাতীয় সম্মেলনের পর দলের পদ-পদবি হারাবেন। এ বছরের ডিসেম্বর মাসে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার পর পরিবর্তনের পথরেখা তৈরি হয়েছে বলে কয়েকজন শীর্ষ নেতা সমকালকে জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, সৈয়দ আশরাফকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরিয়ে সবার জন্য সতর্কবার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি এই বার্তার মাধ্যমে দুর্নীতিবাজ, বিতর্কিত ও নিষ্ক্রিয়দের সরকার এবং দল থেকে বাদ দিয়ে দল গোছানোর পাশাপাশি সুশাসন প্রতিষ্ঠার ইঙ্গিত দিয়েছেন। নিষ্ক্রিয়তার কারণে শাস্তি পেয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। ঈদের পর দুর্নীতি ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িতদের মন্ত্রিসভা থেকে বাদ দেওয়া হবে। এ অবস্থায় দলীয় কর্মকাণ্ডে নিজেকে সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর বেইলি রোডের মন্ত্রিপাড়ায় তার বাসভবনে গিয়ে দেখা করেছেন আওয়ামী লীগের এমন কয়েকজন নেতা সমকালের সঙ্গে আলাপকালে জানিয়েছেন, সৈয়দ আশরাফ আগামী ১৫ জুলাই লন্ডন যাচ্ছেন। ৩০ জুলাই তার দেশে ফেরার কথা। একাধিক মন্ত্রী বলেছেন, মন্ত্রিত্বের ‘ভারমুক্ত’ হওয়ায় সৈয়দ আশরাফ দলের জন্য বেশি কাজ করতে পারবেন। অর্থমন্ত্রীও এমন কথাই বলেছেন।

গতকাল সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে দেখা করেছেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. নূহ-উল-আলম লেনিন। তিনি সমকালকে বলেছেন, মন্ত্রিত্ব থেকে বাদ পড়লেও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে মনোযোগী হওয়ার বেলায় নতুন করে সুযোগ তৈরি হয়েছে সৈয়দ আশরাফের। নিশ্চয়ই লন্ডন সফর শেষে দেশে ফিরে আসার পর তিনি সক্রিয় হবেন।

দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য এবং সেতু ও সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের গতকাল সাংবাদিকদের বলেছেন, সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে আরও বেশি সময় দেওয়ার জন্যই সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে মন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করায় দলে কোনো বিরূপ প্রভাব পড়বে না। এলজিআরডি মন্ত্রণালয় থেকে সৈয়দ আশরাফকে সরিয়ে দেওয়া প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের নেতারা মুখ খুলতে চাইছেন না। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম নিজেও কিছু বলছেন না। গতকাল তার ঘনিষ্ঠরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে একান্তে বৈঠকের প্রসঙ্গ জানতে চাইলে তিনি এ নিয়ে তাকে প্রশ্ন না করার অনুরোধ করেছেন। আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারক নেতারা বলেছেন, সৈয়দ আশরাফের সততা ও আস্থা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কোনো ক্ষোভ নেই। তিনি তার নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন। গত মঙ্গলবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে তার অনুপস্থিতির কারণেই প্রধানমন্ত্রী তাকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বিষয়টি তা নয়। কমপক্ষে তিন মাস আগেই সৈয়দ আশরাফুল ইসলামকে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

এ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত সিলেটে সাংবাদিকদের বলেছেন, সৈয়দ আশরাফকে মন্ত্রণালয় থেকে সরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি তিনিসহ শীর্ষ নেতারা আগেই জানতেন। তা ছাড়া সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম যখন সাধারণ সম্পাদক হন, তখনই তাকে দপ্তরবিহীন মন্ত্রী করার প্রস্তাব ছিল। সে প্রস্তাবই হয়তো এতদিন পর প্রধানমন্ত্রী বাস্তবায়ন করেছেন। দলের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত গতকাল ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, দেশ, জাতি ও দলের স্বার্থেই সৈয়দ আশরাফকে মন্ত্রিত্ব থেকে সরানো হয়েছে। তবে ‘আপাদমস্তক রাজনীতিক’ সৈয়দ আশরাফের কাছে মন্ত্রিত্ব বড় নয়। সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের আগে থেকেই মন্ত্রিসভায় রদবদল নিয়ে আওয়ামী লীগে ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে। সৈয়দ আশরাফকে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর সেই আলোচনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। আবার অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতও তা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, মন্ত্রিসভায় আরও পরিবর্তন আসছে। তবে মন্ত্রিসভা থেকে কারা বাদ পড়ছেন, কোন কোন মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন আসছে কিংবা নতুনদের মধ্যে কারা মন্ত্রিসভায় আসছেন_ এ সব নিয়ে কিছুই বলেননি অর্থমন্ত্রী।

জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় একজন মন্ত্রীকে বাদ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। নিকটাত্মীয়ের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ থাকায় বাদ পড়তে পারেন আরেকজন মন্ত্রী। সাংবাদিকদের সম্পর্কে আপত্তিকর মন্তব্যের কারণে আলোচনায় থাকা একজন মন্ত্রীর ভাগ্যও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এ ছাড়াও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্বে পরিবর্তন আসতে পারে। এর মধ্যে সরকারের প্রধান শরিক দলের একজন নেতাও রয়েছেন। আওয়ামী লীগ নেতারা বলেছেন, সংসদের গত অধিবেশনে সরকারি দলের প্রশ্নবিদ্ধ লোকজনের কারণে আর্থিক খাতে দুর্নীতি ঠেকানো যাচ্ছে না বলে অভিযোগ এনেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এ ছাড়াও কিছুদিন ধরে এমন গুরুতর অভিযোগ নিয়ে আওয়ামী লীগ ঘরানার রাজনীতিতে আলোচনা হচ্ছে। বিশেষ করে কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতার বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে জেলা ও থানা পর্যায়ে ছাত্রলীগ এবং যুবলীগের কমিটি গঠনের অভিযোগ রয়েছে। দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী বলেছেন, আগামী ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন হবে। সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য নুহ-উল-আলম লেনিন জানিয়েছেন, ৫৩টি সাংগঠনিক জেলার সম্মেলন হয়েছে। অন্য জেলাগুলোর সম্মেলনের পর নির্ধারিত সময়ে জাতীয় সম্মেলন হবে। এই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে দুর্নীতিবাজ নেতারা বাদ পড়বেন বলে দলের শীর্ষ নেতারা জানিয়েছেন।
সূত্র : সমকাল অন লাইন