এই মহাদুর্যোগে বরিং কাটাতে আশাশুনি থানা চত্বরে প্রীতিভোজ ও নাচ-গানের আয়োজন !


563 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
এই মহাদুর্যোগে বরিং কাটাতে আশাশুনি থানা চত্বরে প্রীতিভোজ ও নাচ-গানের আয়োজন !
মে ২৬, ২০২০ আশাশুনি জাতীয় ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

॥ এম কামরুজ্জামান ॥


সুপার সাইক্লোন আম্পানের ভয়াল তান্ডব আর করোনা ভাইরাসের আগ্রাসনে সাতক্ষীরার উপকূলবর্তী উপজেলা আশাশুনি ও শ্যামনগরের মানুষ ভয়ানক দুর্যোগের মধ্যে দুর্বিসহ জীবন যাপন করছে।

এই দুই উপজেলার হাজার হাজার মানুষ নদীর বানের সাথে রিতিমতো যুদ্ধ করে চলেছে। কবে বা কতদিন পরে শেষ হবে তাদের এই অস্ত্রহীন ভয়ানক যুদ্ধ তা কেউ জানেও না।

সুপার সাইক্লোন আম্পানের ভয়াল থাবায় এই মুহুর্তে আশাশুনির প্রতাপনগর ইউনিয়নের ১৭ টি গ্রামের উপর দিয়ে বয়ে যাচ্ছে জোয়ার-ভাটা। শ্রিউলা ইউনিয়নের কয়েক হাজার মানুষের ঘরের ভিতর কোমর পানি। দুর্গত এলাকায় জোয়ারের পানি হু হু করে বাড়ছে। খাদ্য সংকট। রান্নার জায়গা নেই। অনেকে খেয়ে, নাখেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

নদীতে যখন জোয়ার শুরু হচ্ছে তখন আশাশুনি-কোলা-হিজলা সড়কের উপর কোমর সমান পানি প্রবল বেগে ধেয়ে আসছে গ্রামের দিকে। গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হচ্ছে। এই এলাকার মানুষ আইলা, সিডরের মতো বড় বড় দুর্যোগ মোকাবেলা করেছে। কিন্তু এমন ভয়ানক দুর্যোগের মুখোমুখি আগে কখনো পড়েনি।

দুর্গত মানুষগুলো আজ বেড়িবাধ সংস্কারের জন্য মরিরা। হাজার হাজার মানুষ আজ বাধ রক্ষায় ঝাপিয়ে পড়েছে।তাদের জীবন কাহিনী আজ সব মানবতাকে যেন হার মানিয়েছে।

ঈদের আনন্দ তো দূরের কথা। ঈদুলফেতর যে কবে, কখন, কিভাবে চলেগেছে তা কেউ বলতেও পারে না।

সুপার সাইক্লোন আম্পান এবং করোনা ভাইরাসের এই মহাদুর্যোগে সাধারণ মানুষ ঈদের আনন্দ ভূলে গেলেও, ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে একটুও ভূলেনি আশাশুনি থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত) মাহাফুজুর রহমান।

ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে তিনি ঈদের দিন আশাশুনি থানা চত্বরে সুসজ্জিত প্যান্ডের করে বাইরে থেকে গান-নাচের শিল্পী এনে আয়োজন করেন প্রীতিভোজ ও জমজমাট সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

ঘুর্ণিঝড় আম্পানের তান্ডবে ক্ষত-বিক্ষত আশাশুনি উপজেলার মানুষ যখন চরম বিপর্যয়ের মধ্যে খেয়ে নাখেয়ে দিনাতিপাত করছে ঠিক সেই মুহুর্তে থানা চত্বরে এ ধরনের প্রিতিভোজের আয়োজন নিয়ে অনেকেই করেছেন বিরুপ মন্তব্য, আলোচনা, সমালোচনা।

এ ব্যাপারে আশাশুনি থানার ওসি (ভারপ্রাপ্ত) মাহাফুজুর রহমান বলেন ‘ করোনার কারনে দীর্ঘ দুই-তিন মাস ধরে বরিং জীবন কাটাচ্ছি। বরিং কাটাতে,আনন্দ উপভোগ করতে থানার ভিতর ঈদ উপলক্ষে একটু গান-বাজনার আয়োজন করেছিলাম মাত্র। আর কিছু নয়’।

করোনা মোকাবেলায় সব ধরনের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সরকার বন্ধ ঘোষনা করেছে। এর পরও কিভাবে প্রীতিভোজ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করলেন জানতে চাইলে ওসি মাহফুজুর রহমান উত্তরে বললেন ‘হ্যা সরকারি নিষেধ এটা সঠিক। কিন্তু আমি তো আমার থানা চত্বরে করেছি, বাইরে তো করেনি ’।

সেই একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে সর্বশেষ করোনা যুদ্ধে প্রমান করেছে বাংলাদেশ পুলিশ কতখানি মানবিক, দেশপ্রেমিক। পুলিশ এখন মানবিক পুলিশ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। করোনা ভাইরাসে যারা নিহত হয়েছেন তাদের জানাজা-দাফন-কাফনে পুলিশের মত আপন, নিকট স্বজন আর যেন কেউ নেই। পুলিশের মানবিকতা দিয়ে আজ সেটা প্রমানীত।

সেই মানবিক পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হয়ে এধরনের মহাদুর্যোগের ভিতর থানা চত্বরে নাচ-গান, আনন্দ উৎসব ও প্রীতিভোজের আয়োজন করাটা কতখানি মানবিকতার পরিচয় দিয়েছেন তা একবার ভেবে দেখা দরকার….।

সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান ইতোমধ্যে একজন করোনা যুদ্ধা খ্যাতি অর্জন করেছেন। অসহায় মানুষের পাশে গিয়ে সাধ্যমত দাঁড়াচ্ছেন।নিজস্ব তহবিল গঠন করে খাদ্য সামগ্রী কর্মহীন মানুষের বাড়িতে বাড়িতে পৌছে দিচ্ছেন। সুপার সাইক্লোব আম্পানের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করে চলেছেন। এমনই একজন মানবিক পুলিশ সুপারের অধিনস্ত একজন পুলিশ কর্মকর্তার এ ধরনের আয়োজন কতটুকু মানবিক হয়েছে তা খতিয়ে দেখা উচিত বলে মনে করেন সাতক্ষীরার সচেতন মহল।