মহামায়া দেবী দুর্গার বোধন আজ


2049 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
মহামায়া দেবী দুর্গার বোধন আজ
অক্টোবর ৫, ২০১৬ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

কামরুজ্জামান মোড়ল, পাটকেলঘাটা ॥
প্রতি বছরই ঋতুর রাণী শরতে দুর্গতি নাশিনী দেবী দুর্গার আর্বিভাব ঘটে। সন্তানদের ডাকে সাড়া দিয়ে বিপদ নাশিনী মা দেবী দুর্গা মর্ত্যালোকে নেমে আসেন কল্যাণের জন্য, সংহতির জন্য। বাংলার ঋতুচক্রে ¯িœগ্ধ ও কোমল ঋতুর রাণী শরতের শেষভাগে মহাধুম ধামের মধ্যে হিন্দু সম্প্রদায় সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপুজা পালন করে থাকেন। শরৎ যেমন বাংলার চিরকালের শান্ত, ¯িœগ্ধ ও কোমল ঋতু তেমনি মহামায়া দেবী দুর্গা সন্তানদের শান্তি ও কল্যাণের প্রতীক। মাকে পাওয়ার আনন্দে যেমন ঢাকের বাদ্য ঢোলের বোলে মুখর হয়ে ওঠে, তেমনি হারানোর বেদনা আর চোখের জলে বিদায় খুবই কষ্টের। আজ বৃহঃবার বাংলা ১৯ আশ্বিন ৬ অক্টোবর পূর্বাহ্ন ৯/২৮ মিঃ মধ্যে শ্রী শ্রী শারদীয়া দুর্গা দেবীর শুক্লা পঞ্চমী বিহিত পুজা অনুষ্ঠিত হবে। সায়ংকালে দুর্গা দেবীর বোধন আজ। প্রাণের দেবী বিল্লবৃক্ষে অধিষ্ঠান করবেন। এরপর শুরু হবে পুজার আনুষ্ঠানিকতা। ৫ দিন ব্যাপী দুর্গাপুজাকে ঘিরে নেয়া হয়েছে নানা আয়োজন। বাঙালি হিন্দু সাংস্কৃতিকে সবার পরশে পবিত্র করা তীর্থ নীড়ে দুর্গাপুজা দুর্গোৎসবে পরিণত হয়। যেখানে নেই কোনো ভেদাভেদ সব মানুষকে, সমগ্র সমাজকে নিয়েই এ উৎসব। মহাশক্তি-মহামায়া দুর্গা পুত্র কন্যাকে নিয়ে বাপের বাড়িতে আসেন। দেবীর সঙ্গে বামে কন্যা প্রজ্ঞার প্রতীক স্বরসতী তারপর শৌর্যবীর্যের প্রতীক কার্তীক। ডাইনে সম্পদ দায়ীনি লক্ষী, পাশে জনগণের প্রতীক গণদেবতা গণেশ অর্থ্যাৎ হিন্দু সমাজে যারা নিন্ম বর্গের শুদ্র বলে পরিগণিত তাদের প্রতিনিধি। মাঝখানে মহিদর্শিনী মা দুর্গা। তার দশ হাতে দশ প্রহরম নিয়ে অসুর অর্থ্যাৎ সমাজের সব অশুভ শক্তি বিনার্ষীনি হিসাবে বিরাজিতা। মহাশক্তিশালীনি মা দুর্গা সার্বজনীন তিনি কোনো শ্রেনী বর্ণের বা সম্প্রদায়ের একচেটিয়া সম্পদ নন। তিনি সবার, সবাই তার। তাই বাঙালি হিন্দু সমাজের দুর্গোৎসব বিশেষ কোনো সম্প্রদায়-গোষ্ঠী, শ্রেণী কিংবা বর্ণের নই। এ উৎসবে কোনো বিভাজন থাকে না। দুর্গাপুজা কেবল পুজা নয় উৎসব। সবার মিলিত প্রাণের উৎসব। ব্রাক্ষণ ক্ষত্রীয় বৈশ্য শুদ্র কেউ ছোটো কেউ বড় নয়। এ উৎসব বর্ণের সঙ্গে বর্ণের, শ্রেণীর সঙ্গে শ্রেণীর। এক মতবাদীর সঙ্গে অন্য মতবাদীর। শাক্তের সঙ্গে বৈজ্ঞবের। ধনীর সঙ্গে দরিদ্রের। একের সঙ্গে অন্যের বহুর সঙ্গে বহুতরের মিলন। তাই সবাই মিলে দুর্গাপুজাকে দুর্গোৎসবে পরিণত করে থাকে। এবার মা দেবী দুর্গার আগমনও গমন ঘোড়ায় চড়ে। সনাতন শাস্ত্রীয় মতে মায়ের আগমন ও গমনে ঝড় ঝাঞ্জা অথবা খরার সম্ভাবনা রয়েছে।