মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত মামার বাড়ি ধ্বংসের পথে


370 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত মামার বাড়ি ধ্বংসের পথে
ফেব্রুয়ারি ১৮, ২০২০ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস,এম, আলাউদ্দিন সোহাগ ::

সংরক্ষণের অভাবে ধ্বংস ও হারিয়ে যেতে বসেছে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত পাইকগাছার কাটিপাড়ার কবির মামার বাড়ি। স্থানীয়দের মতে, তৎকালীন কবি তার মামার বাড়িতেই জন্মগ্রহণ করেন। মামার বাড়ি কবির শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত একটি স্থান। এটি সংরক্ষণে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে এগিয়ে আসার জন্য দাবী করেেেছন এলাকার সচেতন মহল।
বাংলা সাহিত্যের মহাপুরুষ, আধুনিক বাংলা কাব্যের রূপকার, মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ সালের ২৫ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। ১৮৫৮ সাল থেকে ১৮৬২ সাল পর্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যেই রচিত হয় কবির সমুদয় সাহিত্যকীর্তি। কবি মধুসূদন দত্তের স্মৃতিবিজড়িত কপোতাক্ষ নদের পানিকে মায়ের দুধের সঙ্গে তুলনা করে, তাকে চির অমর করে রাখার জন্য রচনা করেছিলেন বিখ্যাত সনেট ‘কপোতাক্ষ নদ’। সনেট মধুসূদনের অমর সৃষ্টি।
মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের বাবা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন যশোর জেলার কেশবপুর থানার কপোতাক্ষ তীরের সাগরদাঁড়ী গ্রামের প্রভাবশালী জমিদার। মা জাহ্নবী দেবী ছিলেন খুলনা জেলার পাইকগাছা উপজেলার রাড়–লী ইউনিয়নের কাটিপাড়া গ্রামের গৌরীচরণ ঘোষের মেয়ে। মামার নাম বংশী লাল ঘোষ। মামার বাড়ি এলাকার শংকর দেবনাথ জানান, তৎকালীন বেশির ভাগ নারী পিত্রালয়েই সন্তান প্রসব করতেন। এলাকার প্রবীণদের মধ্যে এখনো যারা জীবিত রয়েছেন তারা সবাই কবি মামার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেছেন বলে অভিমত দিয়েছেন। মহাকবির শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলোর মধ্যে তার মামার বাড়ি অন্যতম। তৎকালীন কবির মামার বাড়ির মন্দিরে প্রতি বছর দোল উৎসব উদযাপিত হতো। আর এ উৎসব উপভোগ করতে কবি তার মায়ের সঙ্গে মামার বাড়িতে আসতেন। এমনকি ১৮৪২ সালে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করার পরও কবি সর্বশেষ একবার তার মামার বাড়িতে এসেছিলেন। এলাকায় প্রচলন আছে, খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করায় মামার বাড়ির নারীরা তাকে বাড়িতে ঢুকতে দেননি। কাছারি বাড়িতেই কবিকে বসতে এবং খেতে দেয়া হয়। বর্তমানে কবির মামাদের মূলবাড়িটি যেখানে ছিল সেখানে প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। স্মৃতি হিসেবে এখনো অরক্ষিত অবস্থায় কালের সাক্ষী হিসেবে দাঁড়িয়ে রয়েছে ৩টি মন্দিরের অংশ বিশেষ। ১৭২০ সালে স্থাপিত হয় ওই মন্দিরগুলো। যার একদিকে রয়েছে দোল মন্দির এটি সবচেয়ে বেশি উচ্চ। মাঝে রয়েছে শিবমন্দির, তার পরেই রয়েছে চ-ী মন্দির। সংরক্ষণের অভাবে মন্দিরগুলোও আজ ধ্বংস হতে চলেছে।
উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ আলী জানান, আমরা উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে কবির স্মৃতিবিজড়িত সাগরদাঁড়ীর বসতবাড়ি ও পাইকগাছার কাটিপাড়ার মামার বাড়ি পরিদর্শন করেছি। সাগরদাঁড়ীর স্মৃতিবিজড়িত স্থানটি ইতোমধ্যে সরকারিভাবে সংরক্ষণের উদ্যোগ গ্রহণ করায় সেটি ধ্বংস হওয়ার আর কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে মামার বাড়ি কবির স্মৃতিবিজড়িত স্থানের মধ্যে অন্যতম। এটিও সংরক্ষণ করা সরকারের দায়িত্ব। খুব দ্রুত এগুলো সংরক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তা না হলে ইতিহাস থেকে হয়তো একদিন হারিয়ে যাবে কবির শৈশবের স্মৃতিবিজড়িত মামার বাড়ির চিহ্ন। সচেতন এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে কবির মামার বাড়ির সব স্মৃতি, সব স্থাপনা সংরক্ষণ করে এখানেই গড়ে তোলা হোক পর্যটন কেন্দ্র। এ ব্যাপারে সরকার ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নেবে এমনটাই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর।

#