মাকে হত্যা করল বাবা, দাঁড়িয়ে দেখল ছেলে !


455 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
মাকে হত্যা করল বাবা, দাঁড়িয়ে দেখল ছেলে !
জুন ২, ২০১৮ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::
দরজা বন্ধ করে ঘরের ভেতরে মায়ের গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ধরেছে বাবা, দৃশ্যটি বাইরে থেকে দেখে দরজা খোলার জন্য কান্নাকাটি শুরু করে শিশু তামিম। এক পর্যায়ে দরজা খুলে বাবা চলে যাওয়ার পর ঘরে গিয়ে মাকে জাগানোর চেষ্টা করে শিশুটি। কিন্তু তার আগেই তামিমের মা মুর্শিদার জীবন প্রদীপ নিভে গেছে।

শনিবার সকালে ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় এই ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, উপজেলার সরিষা ইউনিয়নের মহেশপুর কুনিয়াপাড়া গ্রামের মঞ্জুরুল হকের ছেলে জহিরুল ইসলাম প্রায় ৫ বছর আগে বিয়ে করেন মাইজবাগ ইউনিয়নের কুমুরিয়ারচর গ্রামের আবদুল খালেকের মেয়ে মুর্শিদা বেগমকে। এ দম্পতির তিন বছর বয়সী তামিম নামে একটি ছেলে রয়েছে।

নিহত মুর্শিদার মা আনোয়রা বেগম জানান, জামাই জহিরুল অসুস্থ্য শুনে শুক্রবার বিকেলে ছোট মেয়ে মদিনাকে নিয়ে মেয়ের বাড়িতে আসেন তিনি। শনিবার সকালে তিনি একটি ঘরে ঘুমাচ্ছিলেন। এক সময় নাতীর কান্না শুনে এসে দেখতে পান মেয়ের নাক-মুখ দিয়ে রক্ত ঝড়ছে।

নিহতের ছোট বোন মদিনা জানায়, তার বোনের ঘরের দরজায় তামিম কাঁদছিল। তামিমের কান্না দেখে দরজা ধাক্কালে তার ভগ্নিপতি দরজা খুলে বেরিয়ে যায়। পরে ঘরে গিয়ে সে দেখতে পায় তার বোনের গলায় ওড়না পেঁচানো। নাক-মুখ দিয়ে রক্ত পড়ছে। এ সময় মদিনার চিৎকারে লোকজন ছুটে আসে। কিন্তু তার ভগ্নিপতি পালিয়ে যায়। পরে মুর্শিদাকে উদ্ধার করে ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এরপর তড়িঘড়ি করে মরদেহ হাসপাতাল থেকে বাড়ি নিয়ে এসে পালিয়ে যান জহিরুলের পরিবারের লোকজনও।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মো. বদরুল অালম খান বলেন, পারিবারিক কলহের জেরে গৃহবধূকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।