মাতবে বিশ্ব মাতবে দেশ


136 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
মাতবে বিশ্ব মাতবে দেশ
মে ৩০, ২০১৯ খেলা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এলো বিশ্বকাপের মৌসুম

অনলাইন ডেস্ক ::

চিমনি মাথায় লাল ইটের বাড়ি, মাটির নিচ দিয়ে ঝড়ের গতিতে শহরকে এফোঁড়-ওফোঁড় করা টিউব রেল, মাথার ওপর ঘুরতে থাকা লন্ডন আই- টেমসের ধারে ঐতিহ্য আর অকপট সৌন্দর্যের স্পন্দন নিয়ে বেশ আছে লন্ডন। এখানেই আজ বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে বিশ্বক্রিকেটের মহোৎসব। কেনিংটন ওভালে ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ দিয়েই উদ্বোধনের লাল ফিতে কাটা হবে। ক্রিকেটের জন্মভিটায় এমন বারোয়ারি আয়োজনে লন্ডনের তো কনের সাজেই থাকার কথা! পারদ চড়া জ্বর না এলেও অন্তত গা ম্যাজম্যাজ তো করারই কথা! কিন্তু কোথায় মাঠের পাশে- ‘গ্রেটেস্ট ক্রিকেট সেলিব্রেশন’ লেখা চওড়া একটা ব্যানার আর সন্ধ্যায় রানীর বাড়ির পাশে দ্য মলে এক ঘণ্টার ঘরোয়া গান-বাজনা ছাড়া বিশ্বকাপকে খুঁজতে হবে গুগলে সার্চ দিয়েই! আসলে ইংল্যান্ডের ‘স্পোর্টস শেয়ারবাজারে’ এ মুহূর্তে ক্রিকেট নয়, সূচক ঊর্ধ্বে ফুটবলের। উয়েফার দুটি টুর্নামেন্টে অল ইংলিশ ফাইনাল, লন্ডনের চোখ আপাতত তাকিয়ে তাই বাকু আর মাদ্রিদে! প্রেসবক্সে থাকা মাইক আথারটনের দাবি, বিশ্বকাপ ক্রিকেটের উন্মাদনা বোঝা যাবে পরের সপ্তাহে! তবে বিশ্বকাপ আয়োজনের সব মঞ্চ তৈরি। শুধু ইংল্যান্ড নয়, ক্রিকেট বিশ্বকাপ নিয়ে মাতবে বিশ্ব, মাতবে বাংলাদেশও।

এ নিয়ে পাঁচবার বিশ্বকাপের আয়োজন করছে ইংল্যান্ড। ১৯৭৫, ১৯৭৯, ১৯৮৩ আর ১৯৯৯- প্রথম দু’বার তো স্বয়ং রানী এলিজাবেথ ছবি তুলেছেন অংশগ্রহণকারী সব দলের সঙ্গে। এখন অবশ্য বয়স হয়েছে তার। এই চুরানব্বই বছর বয়স নিয়ে খুব একটা বাড়ির বাইরে যান না তিনি। ব্রিটিশ সাংবাদিকের দেওয়া তথ্যমতে, শুরুতে না থাকলেও শেষদিকে তিনি সব দলকে আমন্ত্রণ জানাতে পারেন বাকিংহাম প্যালেসে কফি খাওয়ার জন্য। আসলে ঢাকঢোল পিটিয়ে বাইরে না

দেখালেও কুড়ি বছর পর ফের ক্রিকেটের বিশ্বআসর মঞ্চস্থ করতে পুরোপুরি তৈরি ইংল্যান্ড। এরই মধ্যে বাংলাদেশসহ ভারতের সবচেয়ে বড় বহরের সাংবাদিক দল এসে গেছে। হিথ্রো বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন অফিসাররাও ব্যস্ত সময় পার করছেন ক্রিকেট ম্যাচ দেখতে আসা উপমহাদেশীয় সাংবাদিকদের পাসপোর্টে সিল মারতে। ইংলিশদের মধ্যে ফুটবল নিয়ে আগ্রহ থাকলেও এখনকার প্রবাসী বাংলাদেশি, ভারতীয়, পাকিস্তান আর লংকানদের মধ্যে বিশ্বকাপের আঁচ লেগেছে। টাইগারদের ম্যাচ দেখার জন্য ছুটি চেয়ে নিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

এই ইংল্যান্ড থেকেই কুড়ি বছর আগে প্রথম বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। প্রথম প্রেমের মতোই তাই ইংল্যান্ড আর বিশ্বকাপ বাংলাদেশিদের কাছে একটা আলাদা কিছু। গতকাল কার্ডিফ থেকে সন্ধ্যায় লন্ডনে এসেছেন মাশরাফিরা। ভারতের সঙ্গে প্রস্তুতি ম্যাচে যাই হোক, আসল ম্যাচে টাইগাররা যে সহজে কাউকে ছেড়ে দেবে না এটা লন্ডনে আসা ভারতীয় সাংবাদিকরাও বিশ্বাস করেন। আজ বিশ্বকাপের ১২তম আসরের যাত্রা শুরু হলেও টাইগারদের প্রথম ম্যাচ ২ জুন, এই ওভালেই দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে। গতকাল সাংবাদিকদের সামনে এসে ইংলিশ অধিনায়ক ইয়ার মরম্যান বলছিলেন এবারের ফরম্যাটটাই এমন যে, ধারাবাহিক না থাকলে কিছু করা যাবে না। ১৯৯২ বিশ্বকাপের পর এবার আবার সেই ফরম্যাটেই খেলা হচ্ছে, যেখানে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দল প্রতিটি দলের মুখোমুখি হবে। লম্বা এ আসর শেষ হতেও পাক্কা ৪৫ দিন সময় লাগবে। তাই লম্বা এ যাত্রায় শরীর এবং মন দুটোই চাঙ্গা রাখা চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। কোহলিরা এরই মধ্যে তাদের স্ত্রীদের নিয়ে আসার অনুমতি পেয়েছেন। আজকালের মধ্যে মাশরাফিদের পরিবারও লন্ডনে এসে যাবে বলে খবর। এবারের ঈদটাও সপরিবারে ইংল্যান্ডেই কাটাবে টাইগাররা। লম্বা সময়ের পাশাপাশি আরও একটি ব্যাপার বেশ আলোচনায়, তা হলো নিরাপত্তা। পার্ক প্লাজার রিভার ব্যাংকে যে হোটেলটিতে থাকছেন মাশরাফিরা, সেখানেও নিরাপত্তার দায়িত্ব নিয়েছে আইসিসি। তবে বাড়তি কিছু নয়, আর বাকি সবার জন্য যেমন, তেমনই। শুধু সেখানে সাধারণের (এশিয়ান কেউ) যাতায়াতে কড়াকড়ি করা হয়েছে।

তবে যা চাইলেও করা যায় না, সেই আবহাওয়াকে কিন্তু সমীহই করে চলেছে লন্ডন। গ্রীষ্ফ্মের শুরু হলেও গায়ে দুস্তর জ্যাকেট না পরে বেরোনো যাচ্ছে না। ১২ থেকে ১৩ ডিগ্রি ঠাণ্ডার সঙ্গে মৃদু হাওয়া। যদিও স্থানীয়দের কাছে এটাই ট্রাভেল প্যাকেজ খোঁজার মোক্ষম সময়। জুনের মাঝামাঝি গিয়ে নাকি ২৩ ডিগ্রির গরম উঠে যাবে। সে সময় অবশ্য একটু সুবিধাও পাবে টাটগাররা। কেননা, এখনকার আবহাওয়ায় ওভালে যে সুইং হচ্ছে, সেটা ওই সময় হয়তো থাকবে না। যদিও জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যেই পাঁচটি ম্যাচ খেলা হয়ে যাবে বাংলাদেশের। ২ জুন দক্ষিণ আফ্রিকা, ৫ জুন নিউজিল্যান্ড, ৮ জুন ইংল্যান্ড, ১১ জুন শ্রীলংকা এবং ১৭ জুন প্রতিপক্ষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এবারের সেমিফাইনালে যেতে হলে চারটি দলকে অন্তত ছয়টি করে ম্যাচ জিততে হবে- এমনটাই ধরে রেখেছেন বিশেষজ্ঞরা এবং ওভালে থাকা ব্রিটিশ সাংবাদিকদের একটি বড় অংশের ভোট তাদের দলের দিকেই। এ বিশ্বকাপে নাকি ইংল্যান্ডই ফেভারিট। এবার অন্তত ঘরের মাঠ থেকে ট্রফি কাউকে তারা নিতে দিতে দেবে না। এ পর্যন্ত ২০১০ সালে টি২০ বিশ্বকাপ ছাড়া আইসিসির কোনো ট্রফি জিততে পারেনি ইংলিশরা। একটা পোড়া ভাগ্য নাকি তাদের তাড়িয়ে বেরিয়েছে প্রজন্মের পর প্রজন্ম। ওভালের মাঠে থাকা এক বয়স্ক স্বেচ্ছাসেবক কাজের ফাঁকে গল্পে গল্পে বলা বিশ্বাসের টুকরো- ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলেও আমাদের একটা আকাল গেছে, স্পেন- জার্মানি আর ইতালির রাজত্ব চলেছে। এবার কিন্তু আমরা সেটা ভেঙে দিতে পেরেছি। ইউরোপিয়ান ফুটবলের দুটো মুকুট আসছে ইংল্যান্ডে। দেখবেন, ক্রিকেট থেকেও আরেকটি মুকুট উঠবে ইংল্যান্ডের মাথায়।

ভদ্রলোকের বিশ্বাসে আঘাত না দিয়েই বোঝা যায় লন্ডনকে বাইরে থেকে নয়, দেখতে হবে ভেতরের অনুভব থেকে। বিশ্বকাপের মঞ্চ সাজিয়ে সে তৈরি আছে তার মতো করেই। শান্ত ও পরিপাটি হয়ে।