রায় পড়ে শোনানো হলো সাকা-মুজাহিদকে


304 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
রায় পড়ে শোনানো হলো সাকা-মুজাহিদকে
নভেম্বর ১৯, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডেস্ক :
ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন (রিভিউ) খারিজ করে আপিল বিভাগের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় পড়ে শোনানো হয়েছে একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপি নেতা সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী ও জামায়াত নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদকে।

বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের ডেপুটি রেজিস্ট্রার আফতাবুজ্জামান ও সিনিয়র আইন গবেষক ফাহিম ফয়সালের নেতৃত্ব চারজনের একটি দল রায়ের কপি নিয়ে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রবেশ করে।

এরপর রায়ের কপি কারা কর্তৃপক্ষের হাতে হস্তান্তর করেন ট্রাইব্যুনালকর্মীরা। পরে কারা কর্তৃপক্ষ পূর্ণাঙ্গ রায় দণ্ডপ্রাপ্তদের পড়ে শোনায়।

এর আগে সন্ধ্যায় পূর্ণাঙ্গ রায়ে সই হয়। আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আপিল বিভাগের অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার অরুনাভ চক্রবর্তী ও কয়েকজন কর্মকর্তা রায়ের কপি নিয়ে ট্রাইব্যুনালে পৌঁছান। পরে রায়ের কপি নিয়ে ট্রাইব্যুনালের দুই কর্মকর্তা নাজিম উদ্দিন রোডে কেন্দ্রীয় কারাগারের দিকে রওনা হন।

এর আগে বুধবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সাকা চৌধুরী ও জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন খারিজ করে তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

স্বাধীনতার ঊষালগ্নে বুদ্ধিজীবী হত্যা এবং ফরিদপুরে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর বর্বর নির্যাতন ও গণহত্যার দায়ে ২০১৩ সালের ১৭ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ একাত্তরের বদর বাহিনীর প্রধান মুজাহিদকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দেন। এর বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ আপিল করে। আদালত মুজাহিদের আপিল আংশিক মঞ্জুর করে চূড়ান্ত রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। পরে এই রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন করে আসামিপক্ষ।

অন্যদিকে ১৯৭১ সালে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ২০১৩ সালের ১ অক্টোবর সাকা চৌধুরীকে ফাঁসির আদেশ দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আদালতে আপিল করেন সাকা চৌধুরী। আপিলে তার মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল থাকে।

সাকা চৌধুরীর ফাঁসির সাজা বহাল রেখে আপিল বিভাগের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয় ৩০ সেপ্টেম্বর। এর ১৪ দিনের মাথায় ওই রায় পুনর্বিবেচনার জন্য আবেদন করেন সাকা চৌধুরী।

২০ অক্টোবর সুপ্রিম কোর্টের অবকাশকালীন চেম্বার আদালত ওই আবেদন শুনানির জন্য ২ নভেম্বর দিন নির্ধারণ করেন। পরে সাকা চৌধুরীর আইনজীবীর সময়ের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে শুনানির দিন ১৭ নভেম্বর পুনর্নির্ধারণ করেন আপিল বিভাগ। ১৭ নভেম্বর শুনানি শেষে আদালত ১৮ নভেম্বর বুধবার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার আদালত সাকা চৌধুরী ও মুজাহিদের রিভিউ খারিজ করে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।

নিয়ম অনুযায়ী এখন এই দুই যুদ্ধাপরাধী শুধু রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করতে পারবেন। সেটি নিষ্পত্তি হয়ে গেলে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্ত অনুসারে ব্যবস্থা নেবে সরকার।