মানসিক রোগী মানেই পাগল নয়


403 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
মানসিক রোগী মানেই পাগল নয়
অক্টোবর ১০, ২০১৫ ফটো গ্যালারি স্বাস্থ্য
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
মানসিক স্বাস্থ্য শব্দটিতে অনেকেই চমকে উঠেন। না, চমকানোর কোনো কারণ নেই। কারণ মানসিক স্বাস্থ্য মানেই মানসিক কোনো রোগ নয়। আবার মানসিক রোগ না থাকাকেই মানসিক স্বাস্থ্য বলে না। মানসিক স্বাস্থ্যের বিভিন্ন দিক জানতে মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে কথা বলে লিখেছেন- শামছুল হক রাসেল

বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস আজ। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও পালিত হচ্ছে এ দিনটি। এদেশের ১৬.০১% অর্থাৎ ১/৬ ভাগ মানুষ মানসিক রোগে ভুগছেন। এ সংখ্যাটি নেহাত কম নয় এবং চোখ বড় করার মতো। তাই আমাদের অঙ্গীকারাবদ্ধ হতে হবে এ বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর মৌলিক চাহিদা ও মানবাধিকার প্রশ্নে। সন্তান, ভাই-বোন, স্বামী-স্ত্রী, পিতা-মাতা, আত্মীয়-স্বজনের জন্য আমাদের হাতকে সম্প্রসারিত করতে হবে। মানসিক রোগীকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদানের ব্যবস্থা করতে হবে। তাদের সুস্থ জীবনযাপনের জন্য সব প্রকার সহায়তা প্রদান আবশ্যক। তাদের নিজস্ব মতামত, দৃষ্টিভঙ্গিকে সম্মান প্রদান করা অবশ্যই উচিত। মানসিক অসুস্থতা মানেই উন্মাদগ্রস্ততা নয়। চলমান জীবনে প্রতিটি মানুষের জীবনে এ ধরনের সংকট জটিলতা acut stress disorder কিংবা reactive depression আসতেই পারে। প্রাথমিক অবস্থায় সমস্যার সমাধান না হলে দীর্ঘমেয়াদি মানসিক অস্থিরতা চলে আসতে পারে। তাই একা একা পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে না পারলে মনের চিকিৎসার জন্য সচেতনতা বাড়ানো উচিত। যেমনটি করেছেন ডায়ানা, চালর্স। মনোরোগ চিকিৎসক, থেরাপিস্ট বন্ধুর মতো হাত বাড়িয়ে দেবেন, সংকট উত্তরণের বৈজ্ঞানিক পন্থাটি খুঁজে দেবেন। মনে রাখতে হবে, সব ধরনের মানসিক অসুস্থতা কিংবা সংকটের বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা এবং সমাধান রয়েছে।

মানসিক স্বাস্থ্য শব্দটিতে অনেকেই চমকে উঠেন। না, চমকানোর কোনো কারণ নেই। কারণ ‘মানসিক স্বাস্থ্য’ মানেই মানসিক কোনো রোগ নয়। জেনে রাখুন, মানসিক রোগ না থাকাকেই মানসিক স্বাস্থ্য বলে না।

একটি বিষয় মনে রাখা ভালো যে, মানসিক স্বাস্থ্যের বিভিন্ন স্তর রয়েছে। এমন কোনো বৈশিষ্ট্য নেই যা মানসিক সুস্বাস্থ্যের প্রমাণ হিসেবে এককভাবে সুস্পষ্ট। বলা যায়, মানসিক সুস্থতা ও অসুস্থতার মধ্যে পরিচ্ছন্ন কোনো বিভাজন রেখা নেই। একজন সুস্থ মানসিক স্বাস্থ্যসম্পন্ন ব্যক্তির বৈশিষ্ট্যগুলো কী কী, উত্তর পেলেই সুস্থতা সম্পর্কে ধারণা লাভ করা সহজ হবে।

দেহ ও মন মিলেমিশে একাকার, একইসূত্রে এবং ছন্দে গাথা। বুকের বাম দিকে আলতো করে হাত রেখে আমরা হৃদয়ের কথা বলি, মনের অভিব্যক্তির স্থান নির্ধারণ করি। অনেকের মনে প্রশ্ন জাগে মন কী, কোথায়? আসলে মন ব্রেনেরই অংশ; চিন্তা-চেতনা, বুদ্ধিবৃত্তির সঙ্গে সম্পৃক্ত। দেহ আমরা দেখি, মন দেখি না। আবেগ, অনুভূতি, আচার-আচরণ এবং নানাবিধ ক্রিয়াকলাপের মাধ্যমেই ‘মনের’ চিত্রটি বাইরে বেরিয়ে আসে, প্রতিভাত হয়। দেহের আছে সুস্থতা, অসুস্থতা। মনেরও তেমনি রয়েছে সুখ, অসুখ। দেহ অসুস্থ হলে দেহের কলকব্জায় উলটপালট কিছু ঘটলেই আমরা উদ্বগি্ন হই, ছুটে যাই চিকিৎসকের কাছে। এতক্ষণে নিশ্চয় একটি স্বচ্ছ ধারণা সৃষ্টি হয়েছে যে, মানসিক রোগী মানেই পাগল নয়। ‘পাগল’ শব্দটি ব্যবহার করে আমরা একটি সামাজিক অপরাধ করছি। কারণ এতে সামাজিক আচরণ স্থূল হয়ে পড়ছে। এই স্থূলতার কারণে মন নিয়ে কারও সমস্যা হলে হীনম্মন্যতায় আক্রান্ত হচ্ছে, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করে সুস্থ হওয়ার পথে ভ্রান্ত একটি সামাজিক দেয়ালে বাধা পাচ্ছে। লোকলজ্জার বক্রহাসি, কটাক্ষ উপেক্ষা করে সাধারণ নিউরোটিক রোগীরা মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের জন্য যেতে পারছে না। সুতরাং এ বিষয়ে বাড়াতে হবে সামাজিক সচেতনতা।—সুত্র:-বাংলাদেশ প্রতিদিন।