মানুষ বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে : প্রধানমন্ত্রী


140 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
মানুষ বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে : প্রধানমন্ত্রী
ফেব্রুয়ারি ২২, ২০১৯ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নবাণিজ্যের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, যারা নির্বাচন নিয়ে এই ধরনের ব্যবসা করেছে, ট্রেড করেছে, বাণিজ্য করেছে, অকশনে দিয়েছে, তারা জেতার স্বপ্ন দেখে কিভাবে? আর জিতবে কিভাবে? সব থেকে বড় কথা যুদ্ধাপরাধী জামায়াত, তাদের মনোনয়ন দেওয়ায় জনগণ বিএনপি থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের এদেশের মানুষ ভোট দেবে না, দেয়নি। একদিকে যুদ্ধাপরাধী, অগ্নিসন্ত্রাসী তারপরে নির্বাচন নিয়ে যে দুর্নীতি এবং বাণিজ্য, তারা কোথা থেকে ভোট পাবে?

আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেছেন, বাঙালি যখনই একটু তার সুযোগ পায়, তখনি একটা আঘাত আসে। আর এই প্রক্রিয়াটা তো বলতে গেলে এখনো যেন অব্যাহত আছে। বাংলাদেশের জনগণ ও আর মাটির সন্তান রাষ্ট্র পরিচালনা করুক, এটাও বোধহয় অনেকের সহ্য হয় না। বাংলাদেশের মানুষ যখন ভাল থাকে তখন আমাদের দেশের কিছু মানুষ আছে, তারা খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে মানসিকভাবে।

শুক্রবার রাজধানীর খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ২১ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, একটানা দশ বছর সরকার গঠন করে আমরা উন্নয়ন করেছি বলেই আজকে উন্নয়নটা দৃশ্যমান। বিশ্ববাসীর কাছে বাংলাদেশ একটা সম্মান পেয়েছে, একটা মর্যাদা পেয়েছে এবং উন্নয়নের রোল মডেল হিসাবে স্বীকৃতি পেয়েছে। আমরা ক্ষুধা দূর করতে পেরেছি। এখন দেশ দারিদ্রমুক্ত করবো।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২০ সাল জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করবো এবং ২০২১ সাল স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী। ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২১ সালের মার্চ মাস, মুজিব বর্ষে ইনশাল্লাহ বাংলাদেশ দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসাবেই অধিষ্ঠিত হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশকে আমরা আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই। ২০৪১ সালের মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ হবে একটা উন্নত সমৃদ্ধ দেশ। আমরা সেখানেই থেমে থাকবো না, আমরা ২১০০ সালে বাংলাদেশ কেমন হবে, ডেল্টা প্ল্যান প্রণয়ন করে সেটার বাস্তবায়নও আমরা শুরু করেছি।

প্রধানমন্ত্রী ভাষা আন্দোলনের বিভিন্ন প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের কথা স্মরণ করেন। এরপর ভাষা আন্দোলন থেকে স্বাধীকার আন্দোলন ১৯৭৫’র ১৫ আগস্ট কালরাত্রির পর ক্ষমতায় আসা সরকারগুলোর সমালোচনা করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন করে এই দেশটাকে একটি উন্নত সমৃদ্ধ দেশ করে জাতির পিতার স্বপ্ন আমরা পূরণ করবো।

ভাষা শহীদের আত্মদানের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার সুফল যেন বাংলার প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে যায়, আমরা সেইভাবে দেশকে গড়ে তুলবো। একেবারে গ্রামের মানুষটাও একটা নাগরিক সুবিধা পাবে, উন্নত জীবন পাবে, সুন্দরভাবে বাঁচবে, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। সেইভাবে আমরা দেশকে গড়ে তুলবো। যে স্বপ্ন জাতির পিতা দেখেছিলেন, সেই স্বপ্নযাত্রা যেন সফল হয়, সেটাই আমাদের লক্ষ্য। ইনশাল্লাহ, তা আমরা করতে পারবো।

বাংলা ১৪০০ শতাব্দী উদযাপনে তৎকালীন বিএনপি সরকারের বাধার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা সেই ১৪০০ সাল বরণ করবো। খালেদা জিয়া তখন প্রধানমন্ত্রী। আমাদের ১৪০০ সাল বরণ করতে দেবে না। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আমরা অনুষ্ঠান করবো, আমাদেরকে অনুষ্ঠান করতে দেবে না। পুলিশ ঘেরাও করে রাখলো। বাঙালি তো বাধা মানে না, বাধা মানতে জানে না। স্রোতের মতো মানুষ ওখানে ঢুকে গেল।

সে ঘটনার স্মৃতিচারণ করে তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু তো ৭মার্চের ভাষণে বলে গেছেন, বাঙালিকে কেউ দাবায়ে রাখতে পারবা না’। তাই খালেদা জিয়াও, দাবায়ে রাখতে পারে নাই। আমরা সেই ১৪০০ সাল আমরা বরণ করে নিয়েছিলাম। যেটা আমাদের ভাষা সৃংস্কৃতি কৃষ্টির সঙ্গে সম্পর্কিত।

তিনি বলেন, আমাদেও সবকিছু অর্জন করতে হয়েছে সংগ্রামের মধ্য দিয়ে, আন্দোলনের মধ্য দিয়ে। আমরা পরপর তিন বার সরকারে এসেছি। সরকারে আসা অর্থ্যাৎ জনগণের যে আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছি, এই বিশ্বাসের মর্যাদা আমাদের দিতে হবে। উন্নয়নের যে ধারাটা এখন সূচিত হয়েছে, এই ধারা অব্যাহত রেখে বাংলাদেশকে আমাদের এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। যে বাংলাদেশ হবে ক্ষুধামুক্ত দারিদ্রমুক্ত সোনার বাংলাদেশ, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন জাতির পিতা দেখেছিলেন। আর সেটাই আমাদের লক্ষ্য।

ভাষা আন্দোলন নিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, এটাই আমাদের সব থেকে গৌরবের, যে ভাষার জন্য রক্ত দেওয়া। ভাষার জন্য রক্ত দিয়ে ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা, এই মহৎ দৃষ্টান্ত আমরা স্থাপন করেছি। বাংলাদেশ কিন্তু একটা ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র। ইউরোপের রাষ্ট্রগুলো দেখবেন, প্রত্যেকটি রাষ্ট্রই কিন্তু তাদের ভাষাভিত্তিক। আর বাংলাদেশ আমাদের এই দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র দেশ। একটা ভাষাভিত্তিক রাষ্ট্র হিসাবে প্রতিষ্ঠা লাভ করেছে। সেই স্বাধীনতা আমরা অর্জন করেছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে। ৭৫’র পর যারা ক্ষমতায় এসেছিল তারা না বাংলা ভাষায় বিশ্বাস করে, না বাংলা সংস্কৃতিতে বিশ্বাস করে, না সাহিত্যে বিশ্বাস করে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মানুষ যখন একটু ভাল থাকে, আমাদের দেশের কিছু মানুষ আছে, তারা খুব অসুস্থ হয়ে পড়ে মানসিকভাবে। আর যখন কোন মার্শাল’ ল হয়, বা যখন এমার্জেন্সি হয়, যখন কোন অসাংবিধানিক সরকার ক্ষমতায় আসে তখন এই গোষ্ঠীটা খুব তৃপ্তির সঙ্গে থাকে। তখন আবার তাদের মূল্য বেড়ে যায়। কারণ জনগণের মূল্য তাদের কাছে কিছু না, তাদের কাছে নিজেরা ক্ষমতায় যেতে পারলে বা ক্ষমতার একটু বাতাস পেলে; সেই বাতাসটুকুর আশায় তারা বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে সবসময় ছিনিমিন খেলায় ব্যস্ত থাকে।

বক্তব্যের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বুধবার রাতে রাজধানীর চকবাজারের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় নিহতদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনার পাশাপাশি শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করেন তিনি।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদ সদস্য আমির হোসেন আমু, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির নানক, আবদুর রহমান, কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলন, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য আখতারজ্জামান, মেরিনা জাহান কবিতা, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগ উত্তরের সভাপতি একেএম রহমতউল্লাহ, সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান প্রমুখ। পরিচালনা করেন আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ ও উপপ্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন।