মামা-ভাগ্নের ‘৪২০ কারবার’


197 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
মামা-ভাগ্নের ‘৪২০ কারবার’
আগস্ট ১৯, ২০২০ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

মামা-ভাগ্নে যেখানে আপদ নেই সেখানে- বহুল প্রচলিত এই প্রবাদের সঙ্গে মিল রেখেই যেন নির্বিঘ্নে ‘ফোর টোয়েন্টি (প্রতারণা বোঝাতে ব্যবহৃত, দণ্ডবিধির ৪২০ ধারা) কারবার’ চালিয়ে আসছিল তারা। কখনও ভাগ্নে বেলায়েত শেখ নেতৃত্ব দেয় প্রতারক দলের, তো কখনও মামা আবুল হোসেন ওরফে হাসেম। ডলার বিক্রির নামে প্রতারণা, পশুর হাটে কম টাকা দিয়ে গরু নিয়ে উধাও, ডাবের পানির সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে সর্বস্ব লুট করার মতো বহু ঘটনার হোতা তারা। এত নিখুঁতভাবে তারা মানুষকে ঠকায় যে, ভুক্তভোগীরও তা বুঝতে সময় লেগে যায়। এ কারণে সহযোগীরা তাদের ‘ফোর টোয়েন্টির গুরু’ হিসেবে মানে। তবে ‘চোরের ১০ দিন গৃহস্থের একদিন’ বলেও একটি কথা আছে। আর তাই এবার রাজধানীর বিভিন্ন পশুর হাটে প্রতারণা করে ধরা পড়ে মামা-ভাগ্নেসহ চক্রের ৩৫ সদস্য। তাদের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে এসেছে প্রতারণার নানা কাহিনি।

বাড্ডা থানার ওসি পারভেজ ইসলাম বলেন, ‘মামা-ভাগ্নের এই চক্র নানারকম প্রতারণায় জড়িত। ভাগ্নে বেলায়েত শেখই বেশি ধূর্ত। সে একেক সময় একেক কৌশলে মানুষকে ঠকিয়ে আসছে। প্রায় ১০ বছর আগে উত্তরায় ডাব বিক্রি করত বেলায়েত। তবে সেটা ছিল তার আড়াল। সুযোগ বুঝে সে ডাবের মধ্যে চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে টার্গেট ব্যক্তিকে অচেতন করে ফেলত। পরে তার সহযোগীরা ওই ব্যক্তির সর্বস্ব কেড়ে নিয়ে চম্পট দিত। তিন বছর আগে বনানীতে ডলার প্রতারণার মামলায় তার বিরুদ্ধে চার্জশিট হয়। সর্বশেষ বাড্ডার আফতাবনগরে কোরবানির পশুর হাটে অভিনব কৌশলে সক্রিয় হয় তারা।’

পুলিশ জানায়, পশুর হাটে ক্রেতা সেজে ঢুকে এক হাজার ও ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিলের ভেতর ১০, ২০, ৫০ টাকার পুরোনো নোট দিয়ে লাখ টাকা দামের গরু নিয়ে উধাও হচ্ছিল প্রতারকরা। এক লাখ ১৩ হাজার টাকায় গরু বিক্রির পর টাকা গুনতে গিয়ে বিক্রেতা দেখেন, তিনি পেয়েছেন মাত্র ১৩ হাজার ৮০০ টাকা। এমন কয়েকটি অভিযোগ পেয়ে অভিযানে নামে পুলিশ। ৩১ জুলাই রাজধানীর বাড্ডাসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে চক্রের ৩৫ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে বাড্ডা, মতিঝিল ও সূত্রাপুর থানায় চারটি মামলা হয়েছে। তাদের মধ্যে ছয়জন পরে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

বাড্ডা থানার এসআই মো. হানিফ জানান, পশুর হাটে সক্রিয় ছিল দুটি চক্র। এর মধ্যে একটির হোতা আলমগীরকে পাওয়া না গেলেও তার কয়েক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে বেশিরভাগ সহযোগীসহ ধরা পড়ে বেলায়েত ও তার মামা আবুল হোসেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মামা-ভাগ্নে চার বছর ধরে প্রতারণার কথা স্বীকার করেছে। তবে এর আগেও তাদের অপরাধ সম্পৃক্ততার তথ্য পেয়েছে পুলিশ। বেলায়েতের বিরুদ্ধে অন্তত পাঁচটি মামলা রয়েছে। তার দুই ভাই লিয়াকত ও মজিবরও অস্ত্রবাজি-সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল। প্রায় ১২ বছর আগে তারা ঢাকা ও মাদারীপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে পৃথক ‘বন্দুকযুদ্ধে’ নিহত হয়।

চক্রের ডলার প্রতারণা সম্পর্কে পুলিশ জানায়, প্রথমে তারা অশিক্ষিত ও বোকা মানুষ সেজে কয়েকটি ডলার নিয়ে কারও কাছে গিয়ে খুব কম দামে বিক্রির কথা বলে। এতে সেই লোক আগ্রহী হলে তাকে ফাঁদে ফেলা হয়। ডলারের আকারে কাগজ কেটে বান্ডিল তৈরি করে তার ওপরে-নিচে দুটি আসল ডলার দেওয়া হয়। তবে পুরোটাই ডলারের বান্ডিল ভেবে তা কিনে প্রতারণার শিকার হয় মানুষ। এই কৌশলই একটু ঘুরিয়ে তারা পশুর হাটে কাজে লাগিয়েছে। সারা বছর গ্রামগঞ্জের পশুর হাটেও তারা এমন প্রতারণা করে। এবার ধরা পড়ার আগে ২৬ জুলাই রাতে তারা সিলেটে যায়। সেখানে দু’দিন অবস্থান করে তারা একাধিক পশুর হাট থেকে কৌশলে গরু হাতিয়ে নেয়।