মালয়েশিয়ায় মহান বিজয় দিবস পালিত


171 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
মালয়েশিয়ায় মহান বিজয় দিবস পালিত
ডিসেম্বর ১৬, ২০১৯ প্রবাস ভাবনা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

শেখ সেকেন্দার আলী,মালয়েশিয়া ::

মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের উদ্যোগে মহান বিজয় দিবস পালন করা হয়েছে। স্থানিয় সময় সকাল ৯টায় বাংলাদেশ দূতাবাসে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যোদিয়ে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।
জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন হাইকমিশনার মহ.শহীদুল ইসলাম। পতাকা উত্তোলন শেষে বীর শহীদদের রূহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়।
এরপর সকাল সাড়ে ৯ টায় হাইকমিশনের হলরুমে হাইকমিশনার মহ.শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও কাউন্সিলর (শ্রম ২) মো: হেদায়েতুল ইসলামের উপস্থাপনায় বিজয় দিবসের আলোচনা সভা অনুষ্টিত হয়। আলোচনার শুরুতে রাষ্ট্রপতির বাণী পাঠ করেন ডেপুটি হাইকমিশনার ওয়াহিদা আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন শ্রম কাউন্সিলর মো: জহিরুল ইসলাম, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাণী পাঠ করেন কাউন্সিলর (পাসপোর্ট ও ভিসা) মো: মশিউর রহমান তালুকদার, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বানী পাঠ করেন কাউন্সিলর (বাণিজ্যিক) মো: রাজিবুল আহসান।
আলোচনা সভায় হাইকমিশনার মহ. শহীদুল ইসলাম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সশ্রদ্ধ চিত্তে স্মরণ করেন। সেইসঙ্গে তিনি জাতীয় চার নেতাসহ মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে তার বক্তব্যে আরও বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশের অর্থনীতি ও উন্নতি। নিম্নমধ্যম আয়ের কাতারে শামিল হয়েছে ২ বছর আগেই। গত ৪৮ বছরে অর্থনৈতিক-সামাজিক সূচকগুলোয় অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন হয়েছে যা এশিয়া এবং কোন কোন ক্ষেত্রে অন্যান্য মহাদেশের দেশগুলোর চেয়ে এগিয়ে নিয়েছেন ।
মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালে বিশ্বমানচিত্রে জায়গা করে নেয় স্বাধীন দেশ- বাংলাদেশ। তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জারের তলাবিহীন ঝুড়ি উপাধি পাওয়া দেশটি আজ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে জনসংখ্যা ছিল সাড়ে ৭ কোটি। ওই সময় ৪০ শতাংশ খাদ্য বিদেশ থেকে আমদানি করতে হতো। বর্তমানে জনসংখ্যা প্রায় ১৭ কোটি কিন্তু খাদ্য আমদানি করতে হয় না। এছাড়া শিল্প খাতের অনেক উন্নয়ন হয়েছে। বর্তমানে গার্মেন্ট শিল্পে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম। চীনের পরেই আমাদের অবস্থান। একই অবস্থা সেবা খাতেও। তিনি বলেন, বৈষম্যের মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে আমাদের পিছিয়ে রাখা হয়েছিল।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে বাংলাদেশ এখন নিম্নমধ্যম আয়ের দেশ। সর্বশেষ বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৯০৯ ডলার। ১৯৭২ সালে তা ছিল ১২৯ ডলার। স্বাধীনতার ৪৮ বছর পর মাথাপিছু আয় বেড়েছে ১৫ গুণ। তবে বেশি উন্নয়ন হয়েছে বিভিন্ন সামাজিক সূচকে। শিক্ষার হার, জন্মনিয়ন্ত্রণ, মাতৃ ও শিশুমৃত্যু রোধসহ সামাজিক সূচকগুলোয় পাকিস্তানকে ছাড়িয়েছে অনেক আগেই। কোনো ক্ষেত্রে ভারতকেও ছাড়িয়ে গেছে বাংলাদেশ। অর্থনৈতিক আকারের দিক থেকে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৩৩তম।
তিনি বিজয় দিবসে প্রবাসী বাংলাদেশিদের আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। তিনি এক হয়ে ইতিবাচক কাজ করে এই প্রবাসে বাংলাদেশের সুনাম ও ভাবমূর্তি উজ্জল করার জন্য আহবান জানান। তিনি দেশ ও হাইকমিশনের বিরুদ্ধে যে কোন অপপ্রচার রোধ এবং সাবধান থাকার জন্য বলেন। তিনি বলেন বিগত ২০১৫ সাল থেকে এই হাইকমিশনের বেশ কিছু অর্জন এসেছে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনার কারণে যেমন রিহায়ারিং, ইকাড, ২ লক্ষাধিক লোকের নতুন কর্মসংস্থান, কনসুলার সেবার জন্য আলাদা ভবন, সুপরিসর স্থানে হাইকমিশন ইত্যাদি। তিনি প্রবাসে কমিউনিটির ইতিবাচক কাজের ফল স্বরুপ বাংলাদেশ সরকারের নানান উদ্যোগ এখানে বাস্তবায়ন হচ্ছে। তিনি মুজিব বর্ষ যথাযথ মর্যাদায় পালন করা হবে।
আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, হাইকমিশনের প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা কমোডর মোস্তাক আহমেদ, প্রথম সচিব কন্স্যুলার মো: মাসুদ আহমেদ, প্রথম সচিব পলিটিক্যাল রুহুল আমিন, শ্রম সচিব দ্বিতীয় ফরিদ আহমেদ, মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক, সামাজিক ও কমিউনিটি নেতারাসহ কমিশনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।