মালয়েশিয়ায় যাওয়ার অনুমতি পেয়েছে ৬০ হাজার বাংলাদেশী


412 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
মালয়েশিয়ায় যাওয়ার অনুমতি পেয়েছে ৬০ হাজার বাংলাদেশী
অক্টোবর ৯, ২০১৮ প্রবাস ভাবনা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

শেখ সেকেন্দার আলী,মালয়েশিয়া ::
অবশেষে পাইপলাইনে আটকে থাকা ৬০ হাজার বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া শুরু করলো মালয়েশিয়া।
জিটুজি-প্লাসে অনলাইনে নিবন্ধনের মাধ্যমে দেশটিতে কর্মী পাঠিয়ে আসছিল বাংলাদেশ। একতরফা ও অনৈতিকভাবে ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ ওঠার পর ১ সেপ্টেম্বরের পর বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ বাতিল করে দেশটি।
এই প্রেক্ষাপটে দক্ষ কূটনৈতিক তৎপরতায় ২৫ সেপ্টেম্বর দুই দেশের কর্মকর্তারা জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের বৈঠক করেন। অনলাইনে নিয়োগের প্রক্রিয়া বাতিল ঘোষণা করার পর থেকে বাংলাদেশি কোনো কর্মীকে আর কাজের অনুমতিপত্র দেয়নি মালয়েশিয়া। কিন্তু ১ সেপ্টেম্বরের আগে কাজের অনুমতি পাওয়া ৬০ হাজার কর্মীর মালয়েশিয়া যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তার বাধা কাঠল। ৪ অক্টোবর বৃহস্পতিবার দূতাবাস থেকে দেওয়া হচ্ছে এ্্যাটাষ্টেশন।
এদিকে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া বাতিল হলেও গত ৩০ আগস্টের আগে যেসব বাংলাদেশি কাজের অনুমতিপত্র পেয়েছেন, তাঁদের সবাই আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে তাঁদের মালয়েশিয়ায় যাওয়ার ব্যবস্থা করল দেশটির সরকার। বাংলাদেশকে এ বিষয়ে আশ্বস্ত করেছে মালয়েশিয়া। এর ফলে প্রায় ৬০ হাজার বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় যেতে পারবেন।
ওই বৈঠকের দুটি দিক ছিল। প্রথমত, কর্মী নিয়োগের নতুন পদ্ধতি ঠিক করা। দ্বিতীয়ত, সে দেশে অনিয়মিত হয়ে পড়া বাংলাদেশের কর্মীদের বিষয়টি সুরাহা করা। এ ছাড়া অপেক্ষমাণ কর্মীদের মালয়েশিয়ায় যাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দূর করা। অপেক্ষমাণ কর্মীদের মধ্যে ২০ হাজার কাজের অনুমতিপত্র পেয়েছেন। তাঁরা মালয়েশিয়ার ভিসার জন্য আবেদনও করে রেখেছেন। বাকি ৫০ হাজার কর্মী মালয়েশিয়া থেকে কাজের অনুমতিপত্র পেয়েছেন।
আগের পদ্ধতি বাতিল হওয়ার পর নতুন প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করার আগে অন্তরবর্তীকালীন পদ্ধতি অনুসরণ করবে দুই দেশ। তবে এ প্রক্রিয়ার আওতায় কর্মী নিয়োগ শুরুর আগে এমওইউ (দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারক) সংশোধন করা হবে। এই সংশোধনীর জন্য দুই দেশের মন্ত্রিসভার সম্মতি এবং আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে অন্তত কয়েক সপ্তাহ লাগবে। এর আগ পর্যন্ত কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে দুই দেশ অন্তরবর্তীকালীন ব্যবস্থায় একই সঙ্গে অনলাইন ও সনাতন পদ্ধতির সমন্বয়ে হবে।
একটি সূত্রে জানা গেছে, অনলাইন পদ্ধতিতে সব সময় স্বচ্ছতা নিশ্চিতের সুযোগ থাকায় শেষ পর্যন্ত অনলাইনেই হবে চূড়ান্তব্যবস্থা। আর এসপিপিএতে সুফল পাওয়ায় চূড়ান্ত ভাবে আবার সেই পদ্ধতিতে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছে সে দেশের সরকার।
বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে অভিবাসন ব্যয় কমিয়ে কোনো হার নির্ধারণ হয়েছে কি না জানতে চাইলে শ্রম কাউন্সিলর জানান, অভিবাসন ব্যয় কমানোর বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষ বিস্তারিত আলোচনা করেছে। তবে কোনো হার বৈঠকে চূড়ান্ত না হলেও এরই মধ্যে শুরু হয়েছে সিন্ডিকেট করার পায়তারা।
মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্টরা বারবার জানিয়ে আসছেন কোনো মতেই তারা সিন্ডিকেশন করতে দিবেন না। বাংলাদেশের সংশ্লিষ্ট কিছু ব্যবসায়ি সিন্ডিকেশন করতে মালয়েশিয়ায় টু বাংলা করছে। আবার মালয়েশিয়ার কথিত কমিউনিটির অনেকেই দোড় শুরু করেছে।