মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশীদের দ্বারা প্রতারিত হয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে ফিরছেন প্রবাসীরা


297 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশীদের দ্বারা প্রতারিত হয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে ফিরছেন প্রবাসীরা
আগস্ট ১২, ২০১৮ প্রবাস ভাবনা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

শেখ সেকেন্দার আলী,মালয়েশিয়া ::
ডেডলাইন ৩০ই আগস্ট । মালয়েশিয়া সরকারের দেওয়া সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বৈধ হওয়ার আওতায় রেজিস্ট্রেশন করার পরও প্রতারিত হয়ে দেশে ফিরতে হচ্ছে শতশত বাংলাদেশিকে । অনুসন্ধানে জানা গেছে , প্রতারণার ফাঁদে ফেলে বাংলাদেশীদের আকৃষ্ট করে মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত দালালরা । বৈধতার আশ্বাস , পাসপোর্ট নিয়ে যেখানে ইচ্ছা কাজ করার সুযোগ ,আর কিস্তিতে টাকা পরিশোধ করার প্রলোভন দেখিয়ে বাংলাদেশিদের রেজিস্ট্রেশন করানো হয় ওইসব বাংলাদেশীদের বিবাহিত স্ত্রীদের নামে খোলা কোম্পানিতে । সহজ সরল বাংলাদেশীদের এই দলে ভিড়িয়ে হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্রটি কোটি কোটি টাকা । মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর,জোহর বারু,পোটকিলাং, পেনাং,সেরেমবান,কুয়ান্তান , টেরেংগিনু সহ মালয়েশিয়ার প্রত্যন্ত অঞ্চলে গড়ে ওঠা, মুদি দোকান , সহ বিভিন্ন ভুইফোড় কোম্পানির নামে রেজিস্ট্রেশন করে বিবাহিত বাংলাদেশিদের স্ত্রীদের নামে ওইসব কোম্পানিতে বৈধ হওয়ার আওতায় রেজিস্ট্রেশন করায় । ওইসব কোম্পানির অদ্য কোন কাজ না থাকলেও দিব্যি বৈধ হওয়ার জন্য রেজিস্ট্রেশন করানো শত শত বাংলাদেশীদের । হাতে গোনা কয়েকজন ঐসব কোম্পানির নামে ভিসা পেলেও অধিকাংশরা ভিসা না পেয়ে দেশে ফিরতে হচ্ছে ৩০ ই আগস্টের মধ্যে । একজন অবৈধ শ্রমিককে বৈধ হওয়ার কথা বলে সর্বনিম্ন ১ থেকে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা পযন্ত হাতিয়ে নিয়েছে । এ ব্যাপারে কথা হয় রিহায়রিংয়ের আওতায় রেজিস্ট্রেশন করা সৈয়দপুর জেলার জাজিরা উপজেলার দক্ষিণ দবিকান্দি গ্রামের ফাইছালের সাথে । ফাইসাল এই প্রতিবেদককে শেখ সেকেন্দার আলী কে জানায় , এন এস ওয়ান ডেভেলপমেন্ট মালয়েশিয়া এসডিএন বিএইচডির নামে বৈধ হওয়ার সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশি কামাল কে আমার গ্রুপের ১৫ জন সবাই দেড় লক্ষ টাকা করে দেয় । দীর্ঘদিন ধরে ঘুরিয়ে এখন বলছে ভিসা হবে না । বর্তমানে তার ফোন বন্ধ করে দিয়েছে । জানি না কি করবো এখন। ইমিগ্রেশন বিভাগ এর কঠোর অবস্থানের কারণে ভিসা না পেয়ে এখন দেশে যাওয়ার জন্য ইমিগ্রেশন থেকে আউট পাস সংগ্রহ করার অপেক্ষায় আছি । আমাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে দেড় থেকে ২ লক্ষ টাকা করে ভিসা দেওয়ার কথা বলে নিলেও ভিসা দেওয়া তো দূরে থাক ভিসা দেওয়া তো দূরে থাক কোন যোগাযোগই করা যাচ্ছে না। বৈধ হওয়ার সুযোগ হাতছাড়া হলে আমরা টাকা ফেরত চাইলে বিভিন্ন তালবাহানা শুরু করে বর্তমানে আর যোগাযোগ করা যাচ্ছে না ।
এদিকে বাংলাদেশ হাই কমিশন বরাবর ডিএমএ সার্ভিস এসডিএন বিএইচডির পক্ষ থেকে বাংলাদেশি নাগরিক সাঈদের বিরুদ্ধে ৫০ জন বাংলাদেশির কাছ থেকে প্রায় ৬৮ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ জমা পড়েছে । প্রাপ্ত অভিযোগে জানা যায় , মালয়েশিয়ার জহরবারুই অবস্থিত ডিএমএ সার্ভিস এসডিএন বিএইচডির হয়ে বৈধ হওয়ার আবেদন কারী ৫০ জন বাংলাদেশীর কাছ থেকে জন প্রতি ১ লক্ষ ৩৬ হাজার টাকা করে নিয়েও ভিসা না দিয়ে বিভিন্ন তালবাহানা করায় অবস্থিত বাংলাদেশ হাই কমিশন ও পুলিশের কাছে অভিযোগ দাখিল করেন কোম্পানির মালিক মুজাহিতি বিনতে মোহাম্মদ ।
এমনই প্রতারনার শিকার মালয়েশিয়াজুড়ে শতশত বাংলাদেশিকে ফেরত যেতে হচ্ছে আত্মসমর্পণের মাধ্যমে ।