মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর খরচ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব


142 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর খরচ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাব
জুন ২, ২০২২ জাতীয় প্রবাস ভাবনা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

জেডব্লিউজি বৈঠক আজ

অনলাইন ডেস্ক ::

সীমিত সংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সির সিন্ডিকেট, নাকি সবাই পাবে কর্মী পাঠানোর সুযোগ- এ নিয়ে ব্যবসায়িক টানাপোড়েনে ছয় মাস আগে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হলেও বাংলাদেশিদের জন্য খোলেনি মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। কীভাবে কোন পদ্ধতিতে কর্মী পাঠানো হবে, তা নির্ধারণে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় ঢাকায় হবে দুই দেশের জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের (জেডব্লিউজি) বৈঠক।

কর্মী পাঠানোর খরচ পুনর্নির্ধারণ করতে প্রস্তাব দেবে বাংলাদেশ। খাতওয়ারি কর্মীদের বেতন কত হবে, তাও নির্ধারিত হবে বৈঠকে। জনশক্তি ব্যবসায়ীদের একটি সূত্র সমকালকে জানিয়েছে, শ্রমবাজার খুলতে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কর্মী পাঠাতে রাজি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তবে এ দাবির সত্যতা নিশ্চিত করতে প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য জানা যায়নি।

বৈঠক হবে দুই দেশের কর্মকর্তা পর্যায়ে। তবে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদের আমন্ত্রণে গতকাল বুধবার মধ্যরাতে ঢাকায় আসার কথা মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী এম সারাভানের। আজ তাঁদেরও বৈঠক হবে। মালয়েশিয়ান মন্ত্রী সাক্ষাৎ করতে পারেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে।
মালয়েশিয়ার সরকারের ‘আশীর্বাদপুষ্ট’ এবং বাংলাদেশের জনশক্তি ব্যবসায়ীদের একাংশ ২৫টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী পাঠাতে চায়। এই ২৫টি এজেন্সি সিন্ডিকেট নামে পরিচিত। জিটুজি প্লাস নামে পরিচিত ২০১৫ সালের চুক্তিতে বাংলাদেশের মাত্র ১০টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে পৌনে তিন লাখ কর্মী নেয় মালয়েশিয়া।

এ পদ্ধতিতে প্রথমে ৩৭ হাজার এবং পরে ১ লাখ ৬০ হাজার কর্মী নেওয়া হয়। অভিবাসন ব্যয় ধরা হলেও কর্মীপ্রতি সাড়ে তিন থেকে চার লাখ টাকা নিয়েছে এজেন্সিগুলো। এতে অন্তত পাঁচ হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে অভিযোগ করে ২০১৮ সালে ক্ষমতায় ফিরে মাহাথির সরকার জিটুজি প্লাস বাতিল করে। আবারও একই পদ্ধতিতে কর্মী নিয়োগে বাংলাদেশকে রাজি করাতে চাপ দেওয়া হচ্ছে। রাজি না হলে অন্য দেশ থেকে কর্মী নেবে মালয়েশিয়া- এমন প্রচারণা রয়েছে। সম্প্রতি প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়-সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কর্মী পাঠাতে খোদ প্রধানমন্ত্রীকে চাপ দেওয়া হয়েছে।

মালয়েশিয়ার সংবাদমাধ্যম ও বাংলাদেশের জনশক্তি ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, দেশটিতে বিদেশি কর্মীর তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া থেকে কর্মী পায়নি তারা। বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে নিয়োগকারীদের চাপ রয়েছে মালয়েশিয়ার সরকারের ওপর। ২৫ এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের প্রস্তাব নিয়ে আসছেন মালয়েশিয়ান মন্ত্রী। এতে বাংলাদেশ রাজি হলে আবারও সিন্ডিকেট হবে।

জনশক্তি ব্যবসায়ীদের সংগঠন বায়রার সাবেক মহাসচিব শামীম আহমদ চৌধুরী নোমান বলেছেন, তাঁরা জানতে পেরেছেন, মালয়েশিয়ার মন্ত্রিসভা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগ পদ্ধতি অনুমোদন করেনি। তারপরও এ প্রস্তাব বাংলাদেশকে দেওয়া হচ্ছে।
মালয়েশিয়ায় রাজনৈতিক অস্থিরতাও চলছে। সংসদ বিলুপ্ত করতে শিগগির রাজাকে পরামর্শ দেবেন বলে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ইসমাইল সাবরি ইয়াকুব ঘোষণা দিয়েছেন। ফলে বর্তমান সরকার কত দিন টিকবে, তার নিশ্চয়তা নেই। এ অবস্থায় সিন্ডিকেটের দুর্নীতির অভিযোগদুষ্ট পদ্ধতিতে কর্মী নিয়োগের সিদ্ধান্ত হলে অতীতের মতোই নতুন সরকার এসে তা বাতিল করতে পারে। ফলে মালয়েশিয়া যেতে যাঁরা টাকা দেবেন, তাঁদের বিনিয়োগ ঝুঁকিতে পড়বে। শেষ পর্যন্ত কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন বলে অভিমত বায়রার সাবেক মহাসচিবের। তিনিসহ ১ হাজার ৩০০ রিক্রুটিং এজেন্সির বেশিরভাগের মালিক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।

সীমিতসংখ্যক এজেন্সি তথা সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কর্মী পাঠানোর পক্ষে এজেন্সি মালিক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী সমকালকে বলেছেন, কীভাবে কর্মী পাঠানো হবে, এই বিতর্কে ছয় মাস নষ্ট হয়েছে। তাঁরা আর সময়ক্ষেপণ চান না। তাঁরা চান, কর্মী পাঠানোর পদ্ধতি যা-ই হোক, আগে শ্রমবাজার খুলুক। তাঁর দাবি, সব এজেন্সির জন্য শ্রমবাজার উন্মুক্ত হলে তাঁরা আপত্তি করবেন না।

জনশক্তি ব্যবসায়ীরা বলছেন, আবারও সিন্ডিকেট হলে তিন-চার গুণ টাকায় মালয়েশিয়ায় যেতে হবে কর্মীদের। আগেরবার যাঁরা সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রক ছিলেন, এবারও তাঁদের অধিকাংশই মাঠে রয়েছেন। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মালয় নাগরিক দাতো নূর আমিন দেশটির রাজনীতিকদের ঘুষ দিয়েছেন বাংলাদেশকে চাপ দিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কর্মী নিয়োগে রাজি করাতে- এমন অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে আছে। গত ১৪ জানুয়ারি চিঠিতে ২৫ মূল এজেন্সি এবং তার অধীনে ১০টি করে সাব-এজেন্সির মাধ্যমে কর্মী নিয়োগের প্রস্তাব করেন মালয়েশিয়ার মানবসম্পদমন্ত্রী।

১৭ জানুয়ারি ফিরতি চিঠিতে এজেন্সি সংখ্যা নির্ধারণে আইনি বিধিনিষেধের কথা জানিয়ে জেডব্লিউজি বৈঠকে নিয়োগ পদ্ধতি ঠিক করার প্রস্তাব করেছিলেন প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী ইমরান আহমদ। তার সাড়ে চার মাস পর বৈঠক হতে যাচ্ছে। জিটুজি প্লাসে কর্মীদের নূ্যনতম বেতন নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ হাজার ২০০ রিঙ্গিত। মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, এবার তা দেড় হাজার রিঙ্গিত করার প্রস্তাব করবে বাংলাদেশ। মালয়েশিয়া যেতে কর্মীপ্রতি ব্যয় দুই দেশে সার্ভিস চার্জ, বিমান ভাড়াসহ দুই লাখ টাকার বেশি প্রস্তাব করা হতে পারে। তবে এ বিষয়ে প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রীর বক্তব্য জানতে পারেনি সমকাল।
প্রবাসীকল্যাণ সচিব ড. আহমদ মুনিরুছ সালেহীন বলেছেন, বৃহস্পতিবার (আজ) বৈঠক। তাতে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়গুলো ঠিক হবে। এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি সচিব।