মাশরাফির কুমিল্লাকে হারিয়ে দিল ঢাকা


333 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
মাশরাফির কুমিল্লাকে হারিয়ে দিল ঢাকা
নভেম্বর ২৩, ২০১৫ খেলা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভযেস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের ছুঁড়ে দেওয়া ১১১ রানের টার্গেটে ব্যাটিংয়ে নেমে সহজ জয় তুলে নিয়েছে কুমার সাঙ্গাকারা-নাসির হোসেনদের ঢাকা ডায়নামাইটস। নির্ধারিত ২০ ওভার শেষে কুমিল্লা ৮ উইকেট হারিয়ে তোলে ১১০ রান।

৪ উইকেট হারিয়ে ১৯.২ ওভার ব্যাটিং করে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ঢাকা। ফলে, নিজেদের প্রথম ম্যাচে ঢাকার জয় ৪ বল হাতে রেখে ৬ উইকেটের।

সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় প্রথম দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে মাঠে নামে মাশরাফি বিন মর্তুজার কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স এবং কুমার সাঙ্গাকারার ঢাকা ডায়নামাইটস। টস জিতে আগে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেন কুমিল্লার দলপতি মাশরাফি। কুমিল্লার হয়ে ব্যাটিং উদ্বোধন করতে নামেন ইমরুল কায়েস এবং লিটন দাস।

ব্যাটিংয়ে নেমে সূচনাটা ভালো হয়নি কুমিল্লার। ইনিংসের প্রথম ওভারেই শূন্য হাতে ফেরেন ইমরুল। আবুল হাসানের তৃতীয় বলে ফরহাদ রেজার তালুবন্দি হন তিনি। পরের ওভারে লিটনকেও ফিরিয়ে দেয় ঢাকা। ফরহাদ রেজার বলে মুস্তাফিজের হাতে ধরা পড়ার আগে লিটন করেন ৩ রান। দলীয় ৮ রানের মাথায় দুই ওপেনারকে হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে কুমিল্লা।

তৃতীয় ওভারে বিপর্যয় থেকে বিপদ বাড়িয়ে তোলে কুমিল্লা। চার নম্বরে নামা শুভাগত হোমকে ফিরিয়ে দেন আবুল হাসান। দলীয় ২১ রানের মাথায় ব্যক্তিগত ৪ রান করে ইয়াসির শাহর তালুবন্দি হয়ে ফেরেন শুভাগত। স্কোরবোর্ডে আর মাত্র ৬ রান যোগ হতেই ফিরে যান তিন নম্বরে নামা ওয়েস্ট ইন্ডিজের তারকা ব্যাটসম্যান মারলন স্যামুয়েলস। ৯ বলে ৮ রান করে কাটার মাস্টার মুস্তাফিজের বলে বোল্ড হন ক্যারিবীয় তারকা। দলীয় ২৭ রানের মাথায় ফিরে যান স্যামুয়েলস।

অষ্টম ওভারে রান আউট হয়ে ফেরেন ড্যারেন স্টিভেন্স। দলের পঞ্চম ব্যাটসম্যান হিসেবে ফেরার আগে স্টিভেন্স ১৪ বলে করেন ৫ রান। দলীয় ১২তম ওভারে মোশাররফ হোসেন ফেরান আরিফুল হককে। সাঙ্গাকারার স্ট্যাম্পিংয়ের ফাঁদে পড়ার আগে ১৩ বলে ১৩ রান করেন আরিফুল। এক ওভার পর আবারো আক্রমণে এসে মোশাররফ ফিরিয়ে দেন মাহমুদুল হাসানকে। উইকেটের পেছনে সাঙ্গার গ্লাভসবন্দি হওয়ার আগে মাহমুদুল করেন ২২ রান। তার ৩০ বলের ইনিংসে ছিল দুটি রাউন্ডারি।

সাত উইকেট হারালে দলের হাল ধরেন মাশরাফি এবং ক্রিস সান্তোকি। এ দুজন মিলে স্কোর বোর্ডে আরও ৪৩ রান যোগ করেন। মাশরাফি শেষ ওভারে আবুল হাসানের বলে উইকেটের পেছনে সাঙ্গার হাতে ধরা পড়ার আগে ২৬ বলে ২৫ রান করেন। তার ইনিংসে ছিল দুটি ছক্কা। আর অপরাজিত থাকা সান্তোকির ব্যাট থেকে আসে ১৬ বলে ২১ রান।

ঢাকার হয়ে আবুল হাসান তিনটি আর মোশাররফ হোসেন দুটি উইকেট তুলে নেন। ফরহাদ রেজা আর মুস্তাফিজ একটি করে উইকেট পান।

জয়ের লক্ষ্যে ঢাকার হয়ে ব্যাটিংয়ের উদ্বোধন করতে নামেন শামসুর রহমান এবং নাসির জামসেদ। কুমিল্লার হয়ে বোলিং শুরু করেন মাশরাফি। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে মাশরাফি ফিরিয়ে দেন ওপেনার শামসুর রহমানকে। দলীয় ২৯ রানের মাথায় স্যামুয়েলসের হাতে ধরা পড়েন ১৭ বলে তিনটি চারে ১৯ রান করা শামসুর রহমান।

৫৫ রানের জুটি গড়ে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নেন সাঙ্গাকারা এবং নাসির জামসেদ। ইনিংসের ১৪তম ওভারে সুনীল নারাইনের বলে এলবির ফাঁদে পড়ে বিদায় নেন নাসির। আউট হওয়ার আগে এ পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান করেন ৪৪ বলে ৪৪ রান। ঢাকার এ ওপেনারের ইনিংসে ছিল ৮টি বাউন্ডারি।

দলীয় ১৬তম ওভারে বিদায় নেন সাঙ্গাকারা। আবু হায়দার রনির দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড হওয়ার আগে লঙ্কান তারকার ব্যাট থেকে আসে ২৫ রান। ২৯ বলে সাজানো তার ইনিংসে কোনো বাউন্ডারি না থাকলেও ছিল একটি ওভার বাউন্ডারি। জয়ের জন্য মাত্র ৬ রান দূরে থাকতে ১৯তম ওভারে মোসাদ্দেক হোসেন রনির বল তুলে মারতে গেলে ১৪ বলে ৭ রান করেই নারাইনের হাতে ধরা পড়েন।

নাসির হোসেন ও রায়ান টেন ডয়েসক্যাট অপরাজিত থেকে বাকিটা পথ পাড়ি দেন।

দিনের প্রথম ম্যাচে সাকিব আল হাসানের রংপুর রাইডার্স তামিম ইকবালের চিটাগং ভাইকিংসের বিপক্ষে মাঠে নামে। উদ্বোধনী এ ম্যাচে উত্তেজনা ছড়িয়ে শেষ বলে জয় তুলে নেয় রংপুর। ভাইকিংসের ১৮৭ রানের জবাবে দুই উইকেটের জয় পায় রংপুর।