মাশরাফির জন্য খেলবে বাংলাদেশ


299 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
মাশরাফির জন্য খেলবে বাংলাদেশ
এপ্রিল ৬, ২০১৭ খেলা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::
কেন এত হাহাকার?

খানিকটা ঝুঁকি নিয়ে তো বলে দেওয়াই যায়, লাল-সবুজের জার্সিতে তাকে ২০১৯ বিশ্বকাপেও দেখা যাবে। শরীরে ধকল সইবে না বলে হয়তো প্রিয় ফরমেট টেস্টে খেলা হবে না। কিন্তু পঞ্চাশ ওভারি ক্রিকেটে বাংলাদেশ তো আগামী দিনগুলোতে খেলবে তারই নেতৃত্বে। ক্রিকেটকে বিদায় বলেননি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকেও না। এখনকার মতোই বল হাতে দুরন্ত গতিতে ছুটে যাবেন, ফিল্ডার হয়ে বল আটকাতে ঝাঁপিয়ে পড়বেন, ব্যাট হাতে বড় শট খেলবেন, আর অধিনায়ক হিসেবে মাঠে ও মাঠের বাইরে সতীর্থদের পিঠ চাপড়ে দেবেন, সাহস জুগিয়ে যাবেন। বাংলাদেশ দলের সাফল্য অর্জনে নেতৃত্ব দেবেন যুদ্ধজয়ী সেনাপতির মতো। তবু কেন চারদিকে এত হাহাকার আর ‘আহা, আহা’ ধ্বনি? টি২০ তো ক্রিকেটের তিন সংস্করণের একটি মাত্র, তা থেকে বিদায় কি আহামরি কিছু, বিশাল কিছু?

উত্তরটা অনেকভাবে দেওয়া যায়। সরল ভাষার সাধারণ উত্তর_ ‘অবশ্যই বিশাল কিছু।’ এই বিদায়ে ‘আহা’ ধ্বনি আছে, ‘মরি’ ‘মরি’ ধ্বনি আছে। আহামরি বলেই ‘হায়’ ‘হায়’ময় হাহাকার আছে। কারণটাও পরিষ্কার, এ বিদায় অন্য দশটি বিদায়ের মতো নয়; এ বিদায় বাংলাদেশের ক্রিকেটের একজন মহীরুহের বিদায়। অবসর হয়তো স্রেফ একটা ফরমেট থেকে, কিন্তু টি২০র রাজ্যে শিরদাঁড়া করে দাঁড়ানোর চেষ্টায় থাকা বাংলাদেশ দলের জন্য এই বটবৃক্ষটির ছায়া আর শক্তি খুব দরকার ছিল আরও কিছু দিন। তার উপস্থিতিই যেখানে বড় শক্তি, সেখানে উপস্থিতির শেষ মুহূর্ত ক’টি তো হাহাকার ভরা থাকবেই। বাংলাদেশের টি২০ মানচিত্রে মাশরাফি নামের অদম্য সেই শক্তির শেষ উপস্থিতি দেখা যাবে আজ। কলম্বোর প্রেমাদাসার ক্রিকেট লড়াইটির আনুষ্ঠানিক নাম ‘বাংলাদেশ-শ্রীলংকা দ্বিতীয় টি২০’, কিন্তু এ দেশের ক্রিকেটে তা মাশরাফি নামের এক ‘স্বর্ণালি অধ্যায়ের সমাপ্তি’ ম্যাচ। এই ‘সমাপ্তি পর্ব’ এসেছে আচমকাই। ঘোষণা দিয়েছেন মঙ্গলবার সন্ধ্যায়। সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তার ঘণ্টা ষোলো আগে, সোমবার মাঝরাতে। এতটা দ্রুত যে সিদ্ধান্তটা নিতে হবে, সেটা তার নিজের ভাবনাতেই ছিল না। যে কারণে সিদ্ধান্ত নিয়েও মাশরাফি নিজেই ঠিক মেনে নিতে পারছিলেন না। রাত ২টায় সিদ্ধান্ত নিয়ে ভাবতে ভাবতে ভোর ৫টা বেজেছে। ঘুম থেকে উঠে দুপুরের পর যখন সতীর্থদের খবরটা জানালেন, হতবাক হয়েছেন তারা। ফেসবুকের পোস্ট আর সংবাদমাধ্যমের কাছে দেওয়া কৈফিয়ত অনুসারে, মাশরাফির এই সিদ্ধান্তের মূলে ছিল তরুণদের জায়গা করে দেওয়ার চিন্তা। সেই তরুণদেরই একজন মোসাদ্দেক হোসেনের কথায় মনে হচ্ছে, চিন্তাটা আসলে সম্পূর্ণ ঠিক নয়, ‘তার এই সিদ্ধান্ত আমরা মেনে নিতে পারছিলাম না। আমাদের বড় ভাই বলেন, অভিভাবক বলেন, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই কিছু দিনেই ওনার কাছ থেকে অনেক পেয়েছি। তার পরও মনে হয়, ওনার কাছ থেকে আরও অনেক কিছু নেওয়ার আছে।’ শুধু মোসাদ্দেক নন, জুনিয়রদের মতো সিনিয়ররাও অবাক হয়েছিলেন মাশরাফির সিদ্ধান্ত শুনে, ‘ওই সময় (দুপুরের পর) আমরা সবাই মোটামুটি জানলাম এই সিরিজের পর আর দেশের হয়ে মাশরাফি ভাই টি২০ খেলবেন না। তিনি এই কথা বলার পর দলের সবাই স্তব্ধ হয়ে যান। তার মুখ থেকে এমন একটি সিদ্ধান্ত শোনার পর কেউ কিছু বলতে পারছিলেন না।’ খেলা শুরুর ঘণ্টা চারেক আগের এই ঘটনায় বেশ মুষড়ে পড়েছিলেন ক্রিকেটাররা। ১১ ওয়ানডে আর পাঁচটি টি২০ খেলা মোসাদ্দেকের ভাষ্যমতে, ‘মাশরাফি ভাইয়ের সিদ্ধান্ত শুনে আমরা খুব আপসেট ছিলাম। মাঠে নামার সময় কিন্তু তার অনুপ্রেরণা দেওয়ার জায়গা আগের মতোই ছিল। বলছিলেন, ‘আমরা যদি শক্ত না হই, ম্যাচ জিততে পারব না। ইতিবাচক থাকতে পারব না।’ মাশরাফির কথায় অনুপ্রাণিত হয়ে মোসাদ্দেকরা আজ ইতিবাচক থাকতে চান। আর সেটা মাশরাফির জন্যই। দলের হয়ে মোসাদ্দেক গতকাল জানিয়ে গেলেন, আজকের দ্বিতীয় টি২০তে শুধু মাশরাফির জন্যই খেলতে চায় বাংলাদেশ, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে বলব, আমরা এই ম্যাচটি খেলব শুধু মাশরাফি ভাইয়ের জন্য। আমরা সবাই চাইব, ওই ম্যাচ জিতে তাকে বিদায়ী উপহার দিতে।’