মাহফুজ আনামকে নিয়ে বিশিষ্ট নাগরিকদের উৎকণ্ঠা


293 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
মাহফুজ আনামকে নিয়ে বিশিষ্ট নাগরিকদের উৎকণ্ঠা
ফেব্রুয়ারি ১৯, ২০১৬ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :

ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে হয়রানি ও অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান জানিয়েছেন দেশের ৩৫ জন বিশিষ্ট নাগরিক। গতকাল এক বিবৃতিতে তারা বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগ ও শঙ্কার সঙ্গে মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক অপপ্রচার ও হয়রানিমূলক মামলা দায়েরের ঘটনাগুলো লক্ষ্য করছি এবং এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। ২০০৭ সালের ১/১১-এর সময় রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা কর্তৃক প্রেরিত কিছু সংবাদ যাচাই না করে ছাপার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করে যে বিরল পেশাগত মূল্যবোধের পরিচয় দিয়েছেন সেজন্য তাকে প্রশংসিত না করে নানাভাবে হেনস্তা করার এসব ঘটনা অনাকাঙ্ক্ষিত, বেদনাদায়ক ও হতাশাব্যঞ্জক। এটি ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের, এমনকি যে কোনো মানুষকে স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভুল স্বীকার করতে নিরুৎসাহিত করবে এবং সমাজে মিথ্যাচারকে প্রশ্রয় দেবে। বিবৃতিতে অবিলম্বে মাহফুজ আনাম ও ডেইলি স্টারের বিরুদ্ধে সব অপপ্রচার ও মিথ্যাচার বন্ধের এবং তার বিরুদ্ধে আনীত হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহারের জোর দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে স্বাধীন সংবাদ প্রচারে রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপ বন্ধে কী ধরনের আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত করা প্রয়োজন তা নিয়ে গঠনমূলক আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানানো হয়। বিবৃতিতে তারা বলেন, বর্তমানেও গোয়েন্দা সংস্থা ও পুলিশের হেফাজতে স্বীকারোক্তির নামে যাচাই করা ছাড়াই যেসব সংবাদ গণমাধ্যমে অহরহ প্রকাশিত হচ্ছে তার যৌক্তিকতাও এই আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত হওয়া উচিত বলে আমরা মনে করি। বিশিষ্ট নাগরিকরা বলেন, আমরা এও মনে করি যে, দেশের বিভিন্ন স্থানে হাজার হাজার কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে মানহানির যে মামলাগুলো করা হচ্ছে সেটি আইন ও বিচার ব্যবস্থাকে সংকীর্ণ ও ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহারের নিন্দনীয় প্রচেষ্টা। রাজনৈতিক হাতিয়ার ও কৌশল হিসেবে আইন ও বিচার ব্যবস্থাকে ব্যবহারের অপচেষ্টায় আমরা শঙ্কিত। এ ছাড়াও মাহফুজ আনামের বিরুদ্ধে এই ধরনের নিন্দনীয় কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের বাকস্বাধীনতাকে দারুণভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করবে এবং বাংলাদেশের ভাবমূর্তির অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হবে। বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন, এম হাফিজ উদ্দিন খান, ড. আকবর আলি খান, ড. তোফায়েল আহমেদ, ব্যারিস্টার রফিক-উল হক, সৈয়দ আবুল মকসুদ, ড. এ টি এম শামসুল হুদা, ড. হামিদা হোসেন, সৈয়দ আনোয়ার হোসেন, ড. হোসেন জিল্লুর রহমান, ড. শাহদীন মালিক, ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, ড. বদিউল আলম মজুমদার, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, খুশী কবির, ব্যারিস্টার সারা হোসেন, ড. সি আর আবরার, শিরীন হক, ড. শাহনাজ হুদা, ড. আহমেদ কামাল, আসিফ নজরুল, রুবি গজনবী, মেজর (অব.) আক্তার আহমেদ বীরপ্রতীক, ব্যারিস্টার মঞ্জুর হাসান, ড. ফেরদৌস আজিম প্রমুখ।