‘মা, তোমারে কতো ভালোবাসি’


487 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘মা, তোমারে কতো ভালোবাসি’
মে ১৩, ২০১৮ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::
‘মা’ শব্দটা উচ্চারণ করতেই চোখে ভাসে মমতা আর ভালোবাসায় পরিপূর্ণ একটি মুখ। পৃথিবীতে সন্তানের কাছে যে মুখ সবচেয়ে প্রিয়। তাই মা’কে যেভাবেই শ্রদ্ধা জানানো হোক না কেন, মন ভরে না যেন। এভাবে মায়ের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা জানাতে গিয়ে কালক্রমে একটি দিনকে বেছে নেয় বিশ্ববাসী, আন্তর্জাতিক মা দিবস হিসেবে। মে মাসের দ্বিতীয় রোববার দিবসটি বিশ্বব্যাপী যথাযোগ্য শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় পালিত হয়। আসুন জেনে নিই, কিভাবে এ মা দিবস পালনের শুরু হলো।

প্রাচীন গ্রিসে মাতৃ আরাধনা প্রথা থেকে দেবী সিবেলের উদ্দেশ্যে পালন করা হতো মা দিবস। এশিয়া মাইনরে মহাবিষ্ণুবের সময়ে ও তারপর রোমে আইডিস অব মার্চ নামে ১৫ মার্চ থেকে ১৮ মার্চের মধ্যে এই উৎসবটি পালিত হতো।

প্রাচীন রোমানদের ম্যাত্রোনালিয়া নামে দেবী জুনোর প্রতি উৎসর্গ করা একটি ছুটির দিন ছিল, যেদিন মায়েদের উপহার দেওয়া হত। অর্থাৎ খ্রিষ্টের জন্মের আগে থেকে মিসর, রোম ও গ্রিসে মা দিবস পালন করা হতো। তবে সে দিবস ছিল দেবতাদের মায়েদের আরাধনার জন্য।

এরপর ১৬ শতকে ইংল্যান্ডে মা দিবস পালন শুরু হয়। মাদারস ডে হিসেবে পালিত দিনটিতে সরকারি ছুটি ছিল। এরপর ১৮৭০ সালে আমেরিকার জুলিয়া ওয়ার্ড হাও নামে এক গীতিকার মা দিবস পালনের প্রস্তাব দেন। তিনি আমেরিকার গৃহযুদ্ধের সময় একটি দেশাত্মকবোধক গান লিখেছিলেন, যেটি তখন বেশ জনপ্রিয়তা পায়।

গৃহযুদ্ধে আমেরিকায় হাজার হাজার মানুষ খুন হচ্ছিলেন। বিষয়টি মা জুলিয়াকে বেশ ব্যথিত করে। তিনি এই হত্যাযজ্ঞ বন্ধের জন্য আমেরিকার সব মা’কে একত্রিত করতে আন্তর্জাতিক মা দিবস পালন করার উদ্যোগ নেন। তার পরিকল্পনা ছিল দিনটি সরকারি ছুটি হিসেবে ঘোষণার দাবি তোলার।

জুলিয়া ব্যাপকভাবে সাড়া না পেলেও তার শহর বোস্টনে দিবসটি পালিত হচ্ছিল। এদিকে ভার্জিনিয়ার নারীদের একটি দল জুলিয়া ওয়ার্ডের প্রস্তাবিত মা দিবস বেশ মর্যাদার সঙ্গে পালন করতে থাকেন। এই দলের নেত্রী অ্যানারিভেস জারভিস গৃহযুদ্ধের সময় মাদারস ফ্রেন্ডশিপ ডে পালনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। দিবসটি পালন গৃহযুদ্ধ সময় শান্তির বার্তা বয়ে এনে দিয়েছিল।

অ্যানারিভেস জারভিস জীবনের ২০ বছর কাটান ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার গ্রাফটনের একটি গির্জায়, সানডে স্কুলের শিক্ষকতা করে। জারভিসের মৃত্যুর পর তার মেয়ে অ্যানা জারভিস মা দিবস পালন করতে থাকেন। দিবসটিতে তিনি জীবিত ও মৃত সব মায়ের প্রতি সম্মান জানাতে চাচ্ছিলেন।

এজন্য ১৯০৮ সালে গ্রাফটনের গির্জার সুপারিনটেনডেন্টের কাছে একটি আবেদন জানানো হয়। ওই আবেদনের পর ওই বছর ওয়েস্ট ভার্জিনিয়া ও পেলসিলভেনিয়ার কয়েকটি গির্জায় মা দিবস পালিত হয়। এভাবে অনেকেই প্রতি বছর মা দিবস পালন করতে শুরু করে।

এরপর ১৯১৪ সালে আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট উড্রো উইলসন মে মাসের দ্বিতীয় রোববারকে জাতীয় মা দিবসের মর্যাদা দেন। আর ১৯৬২ সালে আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি স্বীকৃতি পায়।

বিভিন্ন দেশে ভিন্ন ভিন্ন রীতিতে দিবসটি পালিত হয়। আর্জেন্টিনায় অক্টোবরের তৃতীয় রোববার মা দিবস পালন করা হয়। এ সময়টায় সেখানে বসন্তকাল থাকায় পরিবারের সবাই মিলে ঘুরতে বের হন ও মায়ের সম্মানে খাওয়া-দাওয়া করেন। মায়ের উদ্দেশে চিঠি ও নিজ হাতে কার্ড লিখেও মাকে উপহার দেন তারা। দিবসটিতে দেশটির সন্তানরা মায়ের কথা শোনেন। পরিবারের বাবা রান্না ও ঘরের কাজ করেন।

ফ্রান্সে ১৯২০ সাল থেকে মে মাসের শেষ রোববার সরকারিভাবে মা দিবস পালন করা হয়। দিনটিতে সেখানে যে মায়ের আট বা তার বেশি সন্তান রয়েছে, তাকে স্বর্ণপদক দিয়ে সম্মান জানানো হয়। কোনো মায়ের ছয়-সাত সন্তান থাকলে রৌপ্য পদক এবং চার-পাঁচ সন্তান থাকলে তাকে ব্রোঞ্জ পদক দেওয়া হয়।

জাপানে ১৯১৩ সাল থেকে মে মাসের দ্বিতীয় রোববার মা দিবস পালন করা হয়। এ দিন জাপানিরা মাকে ফুল, রুমাল ও হাতব্যাগ উপহার দেয়। আর ঘরে ঘরে আয়োজন করা হয় ঐতিহ্যবাহী জাপানি খাবারের।

মেক্সিকোতে অনেক আগে থেকেই ১০ মে মা দিবস পালন করা হয়। এদিন সকালে দেশটির নাগরিকরা পরিবারের সবাই মিলে মাকে গান শুনিয়ে দিবসের শুরু করেন।

দেশে দেশে মা দিবস পালনের রীতি ও দিন আলাদা। তবে মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা জানানো ভাষা সব দেশেই এক।