মিডিয়ায় চরম দুর্দিন চলছে : আবুল হায়াত


91 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
মিডিয়ায় চরম দুর্দিন চলছে : আবুল হায়াত
সেপ্টেম্বর ১০, ২০১৯ ফটো গ্যালারি বিনোদন
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

আবুল হায়াত। বরেণ্য অভিনেতা, নাট্যকার ও নির্দেশক। সম্প্রতি তিনি পঁচাত্তর পেরিয়েছেন। বর্তমানে এ অভিনেতা ব্যাংককে অবস্থান করছেন। সেখান থেকে মুঠোফোনে জীবনের এই দীর্ঘ পথচলা ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হলো তার সঙ্গে-

কেমন আছেন?

ভালো আছি। গেল শনিবার ৭৫ বছর পূর্ণ করে ৭৬-এ পা রেখেছি। সৃষ্টিকর্তার কাছে অসীম কৃতজ্ঞতা। অসুস্থ স্ত্রীকে নিয়ে ব্যাংককে এসেছি। তাই হাসপাতালেই জন্মদিন উদযাপন করতে হয়েছে। চিকিৎসা নিয়ে স্ত্রী এখন কিছুটা সুস্থ, এটাই ছিল জন্মদিনের আনন্দ।

বিশেষ দিনের কোনো আয়োজন ছিল কি?

‘অভিনয় শিল্পীসংঘ’ ও ‘নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়’-এর যৌথ উদ্যোগে আমাকে সম্মাননা জানানোর কথা ছিল। কিন্তু দেশের বাইরে থাকায় তা আর করা সম্ভব হয়নি। জন্মজয়ন্তীতে সংস্কৃতি অঙ্গনসহ দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের ১০০ বিশিষ্ট ব্যক্তির লেখা নিয়ে একটি বই প্রকাশিত হয়েছে। ‘সার্থক জনম তোমার হে শিল্পী সুনিপুণ’ বইটিতে সৈয়দ হাসান ইমাম, আতাউর রহমান, আলী যাকের, আসাদুজ্জামান নূর, সুবর্ণা মুস্তাফা, সুলতানা কামাল, কবি-স্থপতি রবিউল হুসাইন, বিপাশা হায়াত, তৌকীর আহমেদ, অপূর্ব, সজল, তিশাসহ আরও অনেকের লেখা রয়েছে। এটি সম্পাদনা করেছেন জিয়াউল হাসান কিসলু। প্রকাশ করেছে প্রিয় বাংলা প্রকাশন।

অভিনয় জীবনের পাঁচ দশক পার করেছেন। এই দীর্ঘ পথপরিক্রমাকে কীভাবে দেখছেন?

অভিনয়ে পাঁচ দশক পার করছি; এটা ভাবতেই অবাক লাগে। মনে হয়, এই তো সেদিন অভিনয় ভুবনে এসেছি। বাবার মঞ্চ নাটক দেখার শখ ছিল। তার সঙ্গে যেতাম মঞ্চ নাটক দেখতে। সেই থেকেই শুরু হয় নাটক আর অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা। মাত্র দশ বছর বয়সেই সুযোগ পেয়ে যাই মঞ্চে অভিনয়ের। পড়াশোনা শেষ করে যোগ দিই ঢাকা ওয়াসার প্রকৌশলী পদে। এ পেশায় কাজ শুরু করলেও মূল আকর্ষণ ছিল অভিনয়ের প্রতি। শেষমেশ অভিনয়ে থিতু হই। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মনে হয়েছে ‘জীবন এক অভিজ্ঞতাময় সফর’।

ক্যারিয়ারে কাদের অবদান বড় করে দেখছেন?

শুরুতে আমি আমার বাবা এবং মায়ের কাছে কৃতজ্ঞ। এরপর আমার স্ত্রীর কাছে। কারণ আমি চাকরি নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। কিন্তু আমার সংসার, আমার সন্তানদের আগলে রেখেছিলেন স্ত্রী। আমার নাটকের দল নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের প্রতি কৃতজ্ঞ। কৃতজ্ঞ গোলাম মুস্তাফা, সৈয়দ হাসান ইমাম, আবুল খায়ের ও সিরাজুল ইসলামের কাছে। যাদের আমি গুরু বলে মেনে চলি, তাদের আদর্শ আমার চলার পথের পাথেয়।

টিভি মিডিয়ার বর্তমান অবস্থা কেমন মনে হয়?

মিডিয়ায় চরম দুর্দিন চলছে। কারণ, এটি এখন পুরোপুরি ব্যবসায়ীদের হাতে চলে গেছে। সৃজনশীল মানুষের হাতে নেই। অভিনয়, পরিচালনা- সব ক্ষেত্রেই চাপ নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। বাজেট কমেছে। বেড়েছে এজেন্সিনির্ভরতা। যে জন্য কাজের মান নেমে যাচ্ছে। এখনকার নাটকে সিনিয়র শিল্পীদের চরিত্র থাকেই না। এসবের মধ্যেও কাজ চলছে, কাজ করছি।

জীবনে কোনো অপ্রাপ্তি আছে?

জীবনে চেয়েছি কম, পেয়েছি বেশি। এ কারণেই আমি সুখী। সাংসারিক, অভিনয় জীবনে আমি ধন্য। পরিপূর্ণ জীবনে সবার ভালোবাসা নিয়ে বাকি জীবনটা হাসিখুশিতে কাটিয়ে দিতে চাই।