মিন্টু বাঁচতে চায়


346 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
মিন্টু বাঁচতে চায়
নভেম্বর ৫, ২০১৫ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

পলাশ কর্মকার, কপিলমুনি (খুলনা) :
‘মরিতে চাহিনা আমি সুন্দর ভূবনে, মানবের মাঝে আমি বাঁচিবার চা’   রবি ঠাকুরের এই চিরস্মরনীয় বাণী এখন মৃত্যু পথযাত্রী মিন্টু’র হৃদয় মন্দিরে স্থান নিয়েছে। পাইকগাছা উপজেলার কপিলমুনি ইউনিয়নের শেষ প্রান্তে ডুমুরিয়া উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রাম রামনগর । এই গ্রামের  মোঃ সাইফুল¬াহ খানের তৃতীয় সন্তান মোঃ মিন্টু খান, যার শৈশবকাল কেটেছে চরম দারিদ্রতার মধ্যে দিয়ে । শিশু বয়সে সবাই  যখন খেলা করে সময় পার করত, সে তখন খাতা কলম কেনার অর্থ জোগাড় করার জন্য অন্যের গরু চরাতে মাঠে যেত । বড়দের সাথে মৎস্য ঘেরে সারাদিন কাজ করে কিছু টাকা রোজগার করত ।
বাবা-মা  কষ্ট করে সামান্য যে কয়টি টাকা আয় করতেন তা দিয়ে দু’বেলা দু’ মুঠো অন্নের ব্যবস্থা করাই কঠিন ছিল। এভাবে নিজের উপার্জিত  টাকা দিয়ে চরম দারিদ্রতার মাঝে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে থাকে মিন্টু। সে ২০০৫ সালে কে.আর .আর  মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কাশিমনগর  থেকে  ৪.১২ পেয়ে এস.এস.সি পাস করে  এবং ২০০৭ সালে  কপিলমুনি কলেজ থেকে  ৪.৪০ পেয়ে  এইচ.এস.সি পাস করে । ২০১৩ সালে বি.এল. বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে বি.এ (অনার্স) অর্থনীতি বিষয়ে  ২য় বিভাগে উত্তীর্ণ হয় । বর্তমানে সে মাস্টার্স শেষ বর্ষের ছাত্র ।
মিন্টুর মায়ের পরের বাড়ী কাজ করে অর্জন করা টাকা আর তার নিজের অর্জিত টাকা দিয়ে  দারিদ্রতার কাছে মাথা নত না করে সুন্দর একটা ভবিষ্যত গড়ার লক্ষ্যে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল সে । দারিদ্রতার চরম নির্মমতার শিকার মিন্টু দু’বেলা খাবারের বিনিময়ে একটি টিউশনি করত এবং অন্য একটি টিউশনি করে কিছু টাকা অর্জন করে মেসে থেকে মানবেতর জীবন যাপন করছিল । কিন্তু হঠাৎ  অগ্ন্যাশয়ের প্যানক্রিয়াস রোগে আক্রান্ত হলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি  করা হয় ।
প্রথমে তাকে  খুলনা ২৫০  শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা  হয়েছিল । সেখানে রোগীর অবস্থার উন্নতি না হলে গ্রামবাসীর আর্থিক সহযোগীতায় খুলনা নার্সিং হোমে ভর্তি হয়। তার পরিবারের পক্ষে  এ চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা কোনভাবেই সম্ভব  হচ্ছে না । এলাকার কিছু উদ্যমী শিক্ষিত  ছেলে আশে পাশের স্কুল ও কলেজ থেকে অর্থ  সংগ্রহ করে কোন মতে তার  চিকিৎসা ব্যয়   নির্বাহ করছে । ডাক্তারের ভাষ্য মতে , তাকে অনেক দিন সেখানে চিকিৎসা গ্রহণ করতে হবে । তার অসহায় পরিবার তাদের আশার প্রদীপকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য সমাজের হৃদয়বান মানুষের কাছে  অর্থ সাহায্য প্রার্থনা করছে । সমাজের হৃদয়বান ব্যক্তিরা একটু সাহায্যের হাত  প্রসারিত করলে  হয়তো  তার সম্ভাবনাময় জীবনটি বাঁচানো সম্ভব হবে। সাহায্যের ঠিকানা :মোঃ মিন্টু খানপিতা: মোঃ সাইফুল¬াহ খান গ্রাম : রামনগর ইউনিয়ন : কপিলমুনি  পাইকগাছা , খুলনা, বিকাশ নম্বর : ০১৭৩৯২৩০১৬৪।