মির্জা আব্বাসের বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়েছে বিএনপি


111 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
মির্জা আব্বাসের বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়েছে বিএনপি
এপ্রিল ২২, ২০২১ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ‘গুমের’ বিষয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়েছে দল। আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে এ বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে লিখিতভাবে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দলটির নির্ভরযোগ্য সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে বিএনপির কেন্দ্রীয় দফতরের একজন বার্তা বাহকের মাধ্যমে ওই চিঠি মির্জা আব্বাসের শাহজাহানপুরের বাসায় পৌঁছানো হয়েছে। তবে এ বিষয়ে মির্জা আব্বাস সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি কোনো চিঠির আশা করেন না। আর যদি একান্ত এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে তবে সেটি হবে দুর্ভাগ্যজনক।

গত ১৭ এপ্রিল এক ভার্চুয়াল সভায় দেওয়া বক্তব্যে ইলিয়াস আলীর ‘গুমের’ জন্য বিএনপিরই কতিপয় নেতাকে দায়ী করেন মির্জা আব্বাস। ওই নেতাদের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ‘দলের ভেতরে লুকিয়ে থাকা এই ব্যক্তিদের অনেকেই চেনেন।’ আওয়ামী লীগ সরকার ইলিয়াস আলীকে গুম করেনি বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির কেন্দ্রীয় এ নেতা।

তার বক্তব্যে বিএনপির ভেতরে বাইরে তোলপাড় শুরু হলে বিষয়টি সামাল দেওয়ার জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এ বিষয়ে মির্জা আব্বাসকে বলার জন্য একটি লিখিত বক্তব্য তৈরি করে দেন। ওই বক্তব্যে ‘ভুল বোঝাবুঝি ও দুঃখ প্রকাশের’ কথা উল্লেখ ছিল। কিন্তু দলের পুরনো ও ত্যাগী নেতা মির্জা আব্বাস সেটি বিবেচনায় না নিয়ে ১৮ এপ্রিল নিজের মতো সংবাদ সম্মেলন করেন। শাহজাহানপুরের নিজ বাসায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তার বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন হয়েছে বলে অভিযোগ করে উল্টো তিনি গণমাধ্যমে দায়ী করেন। কিন্তু এতে আরও ক্ষুব্ধ হন তারেক রহমান। তিনি বিষয়টি নিয়ে স্থায়ী কমিটির একাধিক নেতার সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্বাক্ষরিক এক চিঠি পাঠিয়ে মির্জা আব্বাসের কাছে তার বক্তব্যের বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।

সূত্র জানায়, মির্জা আব্বাসের বক্তব্যে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী এবং দেশবাসী হতভম্ব ও বিব্রত হয়েছে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, চিঠির বক্তব্যে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো পর্যন্ত উষ্মা প্রকাশ করেছে। কারণ ওই বক্তব্য ইলিয়াস আলী ‘গুমের’ সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অপরাধীদের বিষয়ে প্রতিষ্ঠিতি সত্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলছে।

চিঠিতে আব্বাসকে উদ্দেশ্য করে বলা হয়েছে, ‘দেশে সরকারের বিরুদ্ধে আজ সার্বজনীনভাবে এক ধরনের জনমত তৈরি হয়েছে। ঠিক এই মুহূর্তে আপনার বক্তব্য বিরোধী জনমতকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। শুধু তাই নয়; এই সুযোগে অবৈধ সরকার তার বক্তব্যকে ভিন্নখাতে প্রচার করে তাদের অপরাধের কৌশল আড়াল করতে মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়েছে।

চিঠিতে দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতি সম্পর্কে মির্জা আব্বাসকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়সহ সকলের কাছে স্বীকৃত যে, ২০০৯ সাল থেকে এদেশে অবৈধ একটি সরকার ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য রাজত্ব কায়েম করেছে। তার অংশ হিসেবেই রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে ইলিয়াস আলীসহ বিরোধী দলগুলোর শত-সহস্ত্র নেতাকর্মীকে প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্যে গুম ও হত্যা করছে। সরকারের এসব কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক মহলেও স্বীকৃত।’

এতে আরও বলা হয়, ‘জাতীয় ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা এসব হত্যা ও গুম বন্ধেরও দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু সরকার বিরোধীদের দমন করার জন্য গুম ও হত্যাকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে। অথচ এরকম এক পরিস্থিতির মধ্যেই গত ১৭ এপ্রিল এক সভায় ইলিয়াস আলী গুমের বিষয়ে আপনি বক্তব্য রেখেছেন। ওই বক্তব্যের ফলে দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মী ছাড়াও ইলিয়াসের পরিবার এবং ভুক্তভোগীরা বেদনাহত হয়েছেন। এই ভুল বোঝাবুঝি দূর করা এবং দলীয় ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা গ্রহণ এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। আর এজন্য দলের একজন নীতিনির্ধারক হিসেবে আপনার কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি শুভান্যুধায়ীরাও প্রত্যাশা করে।’