মিল্কভিটার শাখা অফিসে নানা অভিযোগের কারণে তদন্ত কমিটি সাতক্ষীরায়


347 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
মিল্কভিটার শাখা অফিসে নানা অভিযোগের কারণে তদন্ত কমিটি সাতক্ষীরায়
জানুয়ারি ১৩, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

আব্দুর রহমান :
সাতক্ষীরার মিল্কভিটায় দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে পড়া দুগ্ধ সমবায়ী ও খামারিদের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কার্য চলছে। বুধবার বিনেরপোতাস্থ বিসিক শিল্পনগরীতে অবস্থিত মিল্কভিটার শাখা অফিসে এ তদন্ত কমিটির একটি টিম অভিযোগকারী ও কর্মকর্তাদের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন এবং আজও তদন্ত করা হবে বলে জানা যায়।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, প্রন্তিক খামারিদের জিম্মি করে একটি চক্র দুধের ন্যায্য মূল্য থেকে খামারিদের বঞ্চিত করছে। ল্যাব টেকনিশিয়ান মোস্তাইন বিল্লাহ ও তার সহকারী রাসেল আহম্মেদ মিল্কভিটায় যোগদানের পর গত এক বছর ধরে খামারি ও সমবায় সমিতির কর্মকর্তাদের এ হয়রানি করে যাচ্ছে।
আধুনিক পদ্ধতিতে এনালাইজারের মাধ্যমে দুধের ফ্যাট পরীক্ষা করার নিয়ম থাকলেও তারা তা না করে সাবেক পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রতি লিটার দুধে থাকা চার দশমিক সাত পয়েন্ট ফ্যাটের পরিবর্তে চার দশমিক শূন্য বা তার কাছাকাছি পয়েন্ট করে দিচ্ছেন।

এভাবে দুধের মান খারাপ দেখিয়ে খামারিদের দাম কম দেওয়া হচ্ছে। এতে তারা প্রতিদিন মোটা অঙ্কে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। ফ্যাট বেশি থাকার পরও দুধে কম ফ্যাট দেখানোর পর মাপের সমতা ফিরিয়ে আনতে ক্যানে পানি মেশাচ্ছেন ওই কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। এমনকি প্রতিবাদকারীকে জব্দ করতে ক্যানের মধ্যে কৌশলে রাসায়নিক পদার্থ (অ্যালকোহল) দিয়ে দুধ নষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। এভাবে সিন্ডিকেট প্রতিদিন সুকৌশলে হাতিয়ে নিচ্ছে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।

তারা জানান, কখনো ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কেন্দ্র পরিদর্শন করতে এলে শুধু তাদের সামনেই আধুনিক পদ্ধতির এনালাইজার প্রতীকী হিসেবে ব্যবহার করা হয়। যে কারণে খোদ মিল্কভিটার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ধরতে পারচ্ছেন না দুর্নীতি ও চালাকি। অবিলম্বে অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধ করা না গেলে প্রতিষ্ঠানের লোকসান ঠেকানো যাবে না। এ অবস্থায় সুষ্ঠু তদন্ত না হলে যে কোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে জেলার দুগ্ধ খামার বলে মনে করছে দুগ্ধ সমবায়ী ও খামারিরা।

তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে ছিলেন প্রধান কার্যালয়ের এজিএম আবুল বাশার, ডিজিএম (মান নিয়ন্ত্রন) আবু মোঃ শরিফুল ইসলাম, উর্দ্ধতন সহকারী ব্যবস্থাপক ড. নজরুল ইসলাম, জেলা সমবায় কর্মকর্তা মাসুদা পারভীন, সদর সমাজসেবা অফিসার শফিকুল ইসলাম ও তালা সমবায় অফিসার।
এ ব্যাপারে মিল্কভিটা সাতক্ষীরার বিসিক শিল্পনগরী শাখা অফিসের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক হামিদুল ইসলামের সঙ্গে কথা বললে তিনি বলেন তদন্ত কাজ এখনও চলছে, আগামীকালও তদন্ত হবে। পরবর্তীতে এ কমিটি ঢাকায় গিয়ে তদন্ত প্রতিবেদন প্রদান করবেন।