মিয়ানমারে ‘ইস্টার এগ’ প্রতিবাদ


158 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
মিয়ানমারে ‘ইস্টার এগ’ প্রতিবাদ
এপ্রিল ৫, ২০২১ প্রবাস ভাবনা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

ইস্টার সানডের উদযাপনকে প্রতিবাদের রঙে সাজিয়েছেন মিয়ানমারের সেনাবিরোধী বিক্ষোভকারীরা। ইস্টার উৎসবের ডিমের গায়ে সেনাশাসন অবসানের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান লেখা হয়েছে। সেসব ডিম নিয়ে রোববার রাস্তায় বিক্ষোভ করেন হাজারো গণতন্ত্রপন্থি। তারা গেরিলা কায়দায় প্রতিরোধ গড়ে তোলার ডাক দিয়েছেন। এ দিন বিক্ষোভে জান্তার পক্ষে চীনের তৎপরতার নিন্দা করা হয়। গণতান্ত্রিক এই বিক্ষোভ মিয়ানমারের প্রতিবেশী থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককেও অব্যাহত রয়েছে।

রোববার রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবার ইস্টারের ডিম সেনাশাসনের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শনের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করছেন বিক্ষোভকারীরা। ইয়াঙ্গুন, মান্দালয়সহ বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের হাতে স্লোগান লেখা এসব ডিম দেখা গেছে।

সংবাদমাধ্যম মিয়ানমার নাউয়ের খবরে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে সামরিক শাসনবিরোধী প্রায় দুই মাসের বিক্ষোভে নিহত সংখ্যা রোববার পর্যন্ত ৫৫৭ জনে দাঁড়িয়েছে। অধিকার সংস্থা অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনার্স (এএপিপি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ অবস্থায় দেশটিতে সেনা শাসনের অবসান দাবিতে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। ক্রমেই বিক্ষোভ সহিংস হয়ে উঠছে। এরইমধ্যে দেশটির ১১টি সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সমর্থন জানিয়েছে। তারা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াইয়ের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে।

বিক্ষোভকারীরা দিনে যেমন রাস্তায় নামছেন, তেমনি রাতেও তারা বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন। নিহতদের সম্মান জানাতে রাতে মোমবাতি ও মোবাইল ফোনের টর্চ জ্বালিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়াচ্ছেন তারা।

এএফপির খবরে বলা হয়েছে, মিয়ানমারে বিক্ষোভে নিহত সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫৬০। গ্রেপ্তার বা আটক ব্যক্তিদের সংখ্যা আড়াই সহস্রাধিক। হত্যা, গ্রেপ্তারের পাশাপাশি এখন মানুষ বাস্তুচ্যুতও হচ্ছে। জান্তা বাহিনীর বিমান হামলায় এরই মধ্যে ১২ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, আন্দোলনকারীরা গত শনিবার রাতে প্রতিবাদী মোমবাতি প্রজ্বালনের পর অনলাইনে ইস্টার ডিমের ছবি পোস্ট করেন। ছবির সঙ্গে তারা জুড়ে দিয়েছেন সেনা শাসনবিরোধী নানা স্লোগান। রাজপথে বিক্ষোভের পাশাপাশি ধর্মঘট-অসহযোগের মতো আন্দোলন চলছে। বিক্ষোভকারীরা ব্যতিক্রমধর্মী বিভিন্ন প্রতিবাদ কর্মসূচি আয়োজন করছেন। ‘ইস্টার এগ’ তেমনই এক ব্যতিক্রমী প্রতিবাদে রূপ নিয়েছে।

ডিমের ওপর যেসব স্লোগান লেখা হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে- ‘আমরা অবশ্যই জয়ী হব’, ‘বসন্ত বিপ্লব’, ‘বিদায় হও এমএএইচ (সেনাপ্রধান)’ ইত্যাদি। মিয়ানমারেরর সেনা কর্তৃপক্ষ দেশটিতে তথ্যের প্রবাহ বাধাগ্রস্ত করতে নানা কৌশল অবলম্বন করেছে। তারা বিশেষ করে ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ করছে। গত শুক্রবার তারা ইন্টারনেট সেবাদাতাদের ওয়্যারলেস ব্রডব্যান্ড সেবা বন্ধ করে দিতে নির্দেশ দেয়।

সামরিক শাসনের বিরোধিতা করায় প্রায় ৪০ জন সেলিব্রিটিকে গ্রেপ্তারে পরোয়ানা জারি করেছে জান্তা কর্তৃপক্ষ। এই দলে সামাজিক মাধ্যমের তারকা, সংগীতশিল্পী ও মডেল রয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে মতবিরোধ প্ররোচিত করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এই অভিযোগে তাদের সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড হতে পারে।

মিয়ানমারে গত ১ ফেব্রুয়ারি রক্তপাতহীন সামরিক অভ্যুত্থান হয়। ক্ষমতা দখল করে সেনাবাহিনী। গ্রেপ্তার করা হয় গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নেত্রী ও দেশটির রাষ্ট্রীয় পরামর্শক অং সান সু চি এবং তার দল ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) শীর্ষ নেতাদের। সেনাবাহিনী মিয়ানমারে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা জারি করে। সেনা অভ্যুত্থানের পর সেখানে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে জান্তা বাহিনী শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নিয়েছে।

মিয়ানমারে সেনাবাহিনীর রক্তক্ষয়ী দমন-পীড়নের মুখেও দেশটির গণতন্ত্রপন্থিরা টানা বিক্ষোভ-প্রতিবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন। এদিকে বিক্ষোভকারীরা দেশবাসীর প্রতি জান্তার বিরুদ্ধে ‘গেরিলা কায়দায় প্রতিরোধ’ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন। মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থান ও নৃশংসতার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিন্দা-সমালোচনার ঝড় বইছে। মিয়ানমারের জান্তার ওপর নিষেধাজ্ঞাসহ নানাভাবে চাপ বাড়িয়ে চলছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়।