মিয়ানমারে নতুন বিক্ষোভ, বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো অবরুদ্ধ


180 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
মিয়ানমারে নতুন বিক্ষোভ, বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো অবরুদ্ধ
মার্চ ২২, ২০২১ প্রবাস ভাবনা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

মিয়ানমার সামরিক বাহিনী নির্বিচার গুলি চালাচ্ছে। গত এক সপ্তাহে বহু মানুষ মেরেছে। বিক্ষোভ থামাতে আরও কত পদক্ষেপ। এরপরও থেমে নেই জনগণ। বরং কঠোর থেকে কঠোরতর আন্দোলনে যাচ্ছে একের পর এক। এমনকি রাতেও রাজপথে অবস্থান করছে। সেই জায়গা থেকে এবার জান্তাবিরোধী আরও নতুন পরিকল্পনা নিয়েছেন বিক্ষোভকারীরা।

সোমবার দক্ষিণ এশিয়ার দেশটিতে নতুন রূপে ফিরেছে বিক্ষোভ। আন্দোলন পরিকল্পনাকারীরা শহরগুলোর গুরুত্বপূর্ণ চৌরাস্তা দিয়ে বিক্ষোভ সমর্থন করে হর্ন বাজিয়ে গাড়ি চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। একইসঙ্গে অভ্যুত্থানবিরোধী ‘থ্রি ফিঙ্গার স্যালুট’ দেওয়ার আহ্বান করছেন। বলা হচ্ছে, রোববার ছুটির দিনে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে আরও নিহত হওয়া সত্ত্বেও বিক্ষোভ সম্প্রসারিতই। খবর রয়টার্সের

সংবাদমাধ্যমের খবর, সোমবার ভোরে বিক্ষোভকারীরা দেশটির গুরুত্বপূর্ণ শহর ইয়াঙ্গুনের বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে অবস্থান নিয়েছেন। এসব রাস্তার কমপক্ষে দুই অংশ অবরুদ্ধ করে বিক্ষোভ চলছে। এর আগে রোববার সূর্যোদয়ের আগে ম্যান্ডলে শ্বেতাঙ্গ পোশাকে বহু মেডিক্যাল স্টাফসহ কয়েকশ লোক মিছিল করে জান্তাবিরোধী স্লোগানে উত্তেজনা ছড়ান।

নোবেলজয়ী নারী অং সান সু চির নেতৃত্বে নির্বাচিত সরকারকে গত ১ ফেব্রুয়ারি ক্ষমতাচ্যুত করার পর দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশটি চরম সংকটের মধ্যে পড়েছে। অচলাবস্থার মধ্যে মিয়ানমার। প্রায় ১০ বছরের অস্থায়ী গণতান্ত্রিক সংস্কারের অবসান ঘটিয়ে ক্ষমতা দখলে নিয়েছে সামরিক বাহিনী।

রোববার একটি কমিউনিটি গ্রুপ রক্তদাতাদের জন্য ফেসবুকে একটি আহ্বান জানালে সেখানে এক চিকিৎসক জানান, মিয়ানমারের মধ্য শহর মনোয়াতে ব্যারিকেড বসানো গোষ্ঠীর ওপর পুলিশ গুলি চালালে একজন গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। এছাড়া বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।

মিয়ানমার নাও নিউজপোর্টালের খবরে বলা হয়েছে, একটি বাসায় জান্তাবিরোধী ঘাঁটি স্থাপনের জন্য গুলি চালিয়েছে নিরাপত্তা বাহিনী। এ ঘটনায় দেশটির দ্বিতীয় শহর মান্ডলে একজন নিহত হন। এছাড়া আরেকজন আহত হন। বিক্ষোভকারীরা সেখানে সেনাবাহিনীর অপচেষ্টা প্রতিরোধ করতে পরিকল্পনা করছিলেন।

দেশটির অ্যাসিস্ট্যান্স অ্যাসোসিয়েশন ফর পলিটিক্যাল প্রিজনারস অ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপের তথ্যমতে, মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ২৫০ জন নাগরিক নিহত হয়েছেন নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে। এই সহিংসতা অনেক নাগরিককে অভিনব উপায়ে বিক্ষোভ করার চিন্তা করতে বাধ্য করেছে।