মিয়ানমারে ১০ বছরের স্বাধীনতার অবসান


305 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
মিয়ানমারে ১০ বছরের স্বাধীনতার অবসান
ফেব্রুয়ারি ১, ২০২১ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

গার্ডিয়ানের নিবন্ধ

অনলাইন ডেস্ক ::

গণতন্ত্রপন্থী নেত্রী অং সান সু চির গৃহবন্দি অবস্থা থেকে মুক্তির মধ্যদিয়ে মিয়ানমারে বছর দশেক আগে যে ‘স্বাধীন যুগ’ শুরু হয়েছিল তা আবার শেষ হলো তাকে গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে।

সোমবার মিয়ানমার সেনাবাহিনী ক্ষমতাসীন ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসির (এনএলডি) নেত্রী অং সান সু চি, দেশটির প্রেসিডেন্ট ও দলটির অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতাদের আটক করে। একই সঙ্গে দেশটিতে এক বছরের জন্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে।

গার্ডিয়ানের এক নিবন্ধে সু চির গ্রেপ্তারের ঘটনাটিকে ‘মিয়ানমারের ১০ বছরের স্বাধীনতার অবসান’ হিসেবে মন্তব্য করা হয়েছে।

এতে বলা হয়, ২০১০ সালের নভেম্বরে এমনই এক শীতের সন্ধ্যায় মিয়ানমারে শুরু হয়েছিল এক ইতিহাসের। যে দেয়াল সাধারণ মানুষ থেকে সু চিকে আলাদা করে রেখেছিল, সেই দেয়াল তুলে তাকে ‘মুক্তি’ দেয় সেনাবাহিনী।

সু চির গৃহবন্দি অবস্থা থেকে মুক্তি দেওয়ার ঘটনা বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করে। মিয়ানমারের জাতির পিতা অং সানের মেয়ে সু চি কথা বলেন গণতন্ত্রের অগ্রযাত্রা নিয়ে।

গণতন্ত্রের জন্য জান্তা শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রাম করেন সু চি। এ জন্য তাকে প্রায় ১৫ বছর গৃহবন্দি থাকতে হয়। তিনি ১৯৯১ সালে শান্তিতে নোবেল পান। ২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর তিনি গৃহবন্দি অবস্থা থেকে মুক্তি পান।

২০১৫ সালের নভেম্বরে মিয়ানমারে অনুষ্ঠিত প্রথম অবাধ নির্বাচনে সু চির এনএলডি বিপুল জয় পায়। ২০১৬ সালের শুরুর দিকে ক্ষমতায় বসে এনএলডি। সু চির সরকারের সময়েই মিয়ানমারের রাখাইনে বর্বরতার শিকার হয় রোহিঙ্গারা। লাখো রোহিঙ্গা পালিয়ে আশ্রয় নেয় বাংলাদেশে।

সর্বশেষ গত বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত নির্বাচনকে ঘিরে মিয়ানমারের বেসামরিক সরকার ও প্রভাবশালী সামরিক বাহিনীর মধ্যে কয়েকদিন ধরে দ্বন্দ্ব ও উত্তেজনা চলছিল।

এরই এক পর্যায়ে সোমবার সেনাবাহিনী দেশটিতে জরুরি অবস্থা জারি করে। সামরিক বাহিনী পরিচালিত টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভিডিও ভাষণে বলা হয়েছে, সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সিনিয়র জেনারেল মিং অং লাইংয়ের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করা হয়েছে।