‘মুক্তবায়ু পরমায়ু’ স্লোগানে সাতক্ষীরায় কবিতা উৎসব’১৬


667 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘মুক্তবায়ু পরমায়ু’ স্লোগানে সাতক্ষীরায় কবিতা উৎসব’১৬
নভেম্বর ৫, ২০১৬ ফটো গ্যালারি সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

সুভাষ চৌধুরী :

‘রক্ত নয় শান্তি চাই’ ‘যুদ্ধের দামামা নয় শান্তির ললিত বাণী  চ্ইা’ ‘দূষিত জলবায়ু নয় , চাই দীর্ঘ পরমায়ু’ এমন সব কবিতার ভাষায় উদভাসিত হয়ে উঠেছিল পুরো মিলনায়তন।

ভাষা আন্দোলনে কবিতা, মুক্তিযুদ্ধে কবিতা, সন্ত্রাস ও জঙ্গি দমনে কবিতা , জীবনের জন্য কবিতা এই  অনুভূতি প্রকাশের মধ্যেই  জাগ্রত হয়েছিল কবিতাঙ্গন। নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কবিরা বলেন ‘ আমরা এসেছি কবিতায় জীবনের গান গাইতে’।

রাত ও দিনের বৃষ্টিতে আচ্ছন্ন  ঠান্ডা হাওয়ার মধ্যে শনিবার সকালে সাতক্ষীরা কেন্দ্রিয়  পাবলিক লাইব্রেরী মিলনায়তন কবিতাপ্রেমীদের পদচারনায় টইটুম্বুর হয়ে উঠেছিল।

আবৃত্তি, আলোচনা আর ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হয়ে ওঠেন সবাই। এবারের কবিতা উৎসবের স্লোগান কবিতায় মুক্ত বায়ু পরমায়ুর আহবান জানিয়ে কবিতার ভাষার লালিত্যে ভরে ওঠেন অভ্যাগতরা।

দ্বাদশ কবিতা উৎসব উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন পশ্চিম বাংলার কথা সাহিত্যিক অমর মিত্র ও  অরিন্দম বসু।

সাতক্ষীরার সদর আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মীর মোস্তাক আহমেদ রবি টেলিফোনে বক্তব্য দিয়ে উৎসবের উদ্বোধন ঘোষনা করেন।

জাতীয় সঙ্গীত, পতাকা উত্তোলন, একুশের  গান , স্বাধীনতার গান ও উৎসব সঙ্গীত দিয়ে শুরু হওয়া উৎসবের ফাঁকে সাত গুণিজনকে সম্মাননা পদকে ভূষিত করা হয়।

এরা হলেন সাহিত্যে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খান, সঙ্গীতে তৃপ্তি মোহন মল্লিক, শিক্ষায় অধ্যক্ষ আবদুর রহমান, গবেষণায় ড. মিজানুর রহমান, প্রবন্ধে শুভ্র আহমেদ , কবিতায় সালেহা আকতার ও নাটকে জিএম সৈকত।

আলোচনায় অংশ নিয়ে কবিরা বলেন কবিতা শুধুই সৃষ্টি সুখের উল্লাসে। কবিতা মানব সম্পদ  গড়ে। শৈল্পিক ভাষা দিয়ে কবিতা গড়ে তোলে মানচিত্র। কবিতা রুখবে  দুঃসময়।

কবিতা মানবতার কথা বলে । কবিতা অসাম্প্রদায়িক চেতনার স্ফূরন ঘটায়। কবিতা শান্তির  মিছিলের কথা বলে। উচ্চারনে আবৃত্তিতে অংশ নিয়ে কবিরা  আরও বলেন ‘ আমি তো এসেছি তিতুমির আর হাজী শরিয়ত থেকে ।

আমি তো এসেছি গীতাঞ্জলি আর অগ্নিবীণার সাথে’। কবিতা উন্নয়ন আর বিষ্ময়ের কথা বলে। কবির ভাষায় উঠে আসে ‘আমিও নদীর মতো হারিয়ে যাবো , ফিরবো না আর কোনোদিন’।

কবিতা উৎসবে উঠে আসে মাত্রাতিরিক্ত কার্বন নিঃসরনে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত জীব বৈচিত্র্যে ক্ষয়ক্ষতির কথা। মানব জীবন ও জীবিকার ওপর আঘাত হানার কথা। সুন্দর পরিবেশ  আর জীবন বায়ু পেতে কবিতা এখন আরও সোচ্চার হবে এমন আকাংখা ব্যক্ত করে  তারা বলেন নীরব ঘাতক বায়ুদূষনের  বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে।

কবিতার ললিত ভাষা রুখে দেবে পরিবর্তিত জলবায়ুর পীড়ন।বিশ্বব্যাপী নান্দনিক নিসর্গ লালনে কবিতা নতুন নতুন ছন্দে মুখরিত করে তুলবে। কবিদের লক্ষ্য মুক্ত বাতাস  , মুক্ত আকাশ আর মুক্তমনের প্রতিধ্বনি।  সত্য , সুন্দর ও প্রগতিশীলতার  ধারক বাহক কবিতাই হবে আমাদের চলার পথ। কবিতাই জীবন , আর জীবনের জন্যই কবিতা।

কবিতা উৎসব সভাপতি কবি আমিনুর রশীদের সভাপতিত্বে ও  আহবায়ক মন্ময় মনিরের সঞ্চালনায়  অনুষ্ঠিত তিনপর্বের অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সাহিত্যিক প্রফেসর মো.

ওয়ালিউল্লাহ,প্রফেসর আবদুল মান্নান, প্রফেসর গাজি আজিজুর রহমান, শুভ্র আহমেদ, লেখক সিরাজুল ইসলাম, কবি পিয়াস মজিদ, সম তুহিন, বিশ্বজিত সাধু, শাহানা মহিদ, কবি

সালেহা আকতার, কবি দিলরুবা রোজ, শেখ সিদ্দিকুর রহমান। পশ্চিম বাংলার কবি অমর মিত্র বলেন কবিতায় জীবন দেখতে পাই। কবিতায় জীবনের পরিধি ফুটে ওঠে। অন্তরের ভেতরের অনুভব থেকে কবিতা উঠে আসে।

কবিতা সুশীল সমাজ আর কাংখিত জীবন গঠনে সহায়তা করে। কবিতা দিয়ে মোকাবেলা করতে হবে সব অসত্য সব অমঙ্গল আর সব জঞ্জালকে।
##