মুখের ঘা ও তামাক পাতা জর্দার সম্পর্ক : অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী


666 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
মুখের ঘা ও তামাক পাতা জর্দার সম্পর্ক : অধ্যাপক ড. অরূপরতন চৌধুরী
জুলাই ২১, ২০১৫ ফটো গ্যালারি স্বাস্থ্য
Print Friendly, PDF & Email

বিশেষত যারা পানের সঙ্গে জর্দা খান এবং নিয়মিত অনেকবার পান খান তাদের মুখের ঘা বেশি হয় এবং লক্ষ করা গেছে অনেকেই তামাক পাতা হাতের মধ্যে নিয়ে চুনের সঙ্গে মিশিয়ে গালের মধ্যবর্তী স্থানে রাখেন, তাতে দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে ওই স্থানে ঘা হতে পারে। শুধু ঘা নয়, পরবর্তীতে এ ঘা ক্যান্সারেও রূপ নিতে পারে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলে যেখানে তামাক পাতা নেশার মতো ব্যবহৃত হয় সে সব অঞ্চলেও মুখের ক্যান্সার রোগীর সংখ্যা অন্যান্য এলাকার চেয়ে বেশি। বাংলাদেশ ক্যান্সার সোসাইটির তথ্যানুযায়ী এবং ডায়াবেটিস সমিতির বারডেম হাসপাতালে ডেন্টাল বিভাগের দুটি জরিপে দেখা যায়- যারা নিয়মিত ধূমপান করেন এবং তামাক পাতা, জর্দা দিয়ে পান খান অথবা তামাক পাতা গালের মধ্যে রেখে ব্যবহার করেন তাদের মধ্যে শতকরা ১০০ জনের মুখের ক্যান্সার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে যারা জর্দা খান বা তামাক পাতা খান তাদের রিস্কফ্যাক্টর বা ঝুঁকি হতে পারে ৫০ ভাগ এবং যারা ধূমপান করেন এবং সেই সঙ্গে তামাক পাতা ও পানের সঙ্গে ব্যবহার করেন তাদের ঝুঁকি শতকরা ১০০ ভাগ। সুতরাং যাদের মুখের ঘা রয়েছে এবং এ সমস্ত অভ্যাস ছাড়তে পেরেছেন তাদের মুখের ঘা থেকে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা শতকরা ১০০ ভাগ নিশ্চিতভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। তবে মনে রাখবেন যদি মুখের মধ্যে এ সব ঘা লক্ষ করেন এবং চিকিৎসার পরও দুই থেকে তিন সপ্তাহ স্থায়ী হয় তবে অবশ্যই বায়োপসি অথবা মাংসের টিস্যু পরীক্ষা করে দেখতে হবে কারণ মুখের এ সব ঘা বা সাদা ক্ষতগুলোকে বিজ্ঞানীরা বলে থাকেন প্রি-ক্যান্সার লিশন বা ক্যান্সারের পূর্বাবস্থার ক্ষত। সংক্ষেপে বলতে হয় যাদের ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চরক্তচাপ, রিউমাটিক ডিজিজ ও পরিপাকতন্ত্রের রোগ রয়েছে এবং যারা দীর্ঘদিন নিয়মিতভাবে ওষুধ গ্রহণ করছেন, যারা কৃত্রিম দাঁত ব্যবহার করেন, যারা ধূমপান করেন বা তামাক পাতা বা জর্দা গুল ব্যবহার করেন তারা অবশ্যই দাঁত ও মুখের যত্ন নেবেন এবং এ সব ঘা দেখা দেওয়া মাত্রই চিকিৎসার ব্যবস্থা নেবেন। সবশেষে যারা ধূমপান করেন বা তামাক পাতা জর্দা খান তাদের যেহেতু মুখের ক্যান্সার হওয়া সম্ভাবনা বা ঝুঁকি ১০০ ভাগ সেহেতু মুখের ঘা বা ক্যান্সার প্রতিরোধে আজই ধূমপান ও সেই সঙ্গে তামাক পাতা বা জর্দার ব্যবহার বন্ধ করা প্রয়োজন। সেই সঙ্গে ডায়াবেটিস ও উচ্চরক্তচাপ জাতীয় রোগগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ব্যবস্থা মেনে চলা প্রয়োজন। কারণ প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধই উত্তম।

লেখক : অনারারি সি. কনসালটেন্ট, ডিপার্টমেন্ট অব ডেন্টিস্ট্রি, বারডেম হাসপাতাল।