মুশলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই চলছে ভিসি পতনের আন্দোলন


114 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
মুশলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই চলছে ভিসি পতনের আন্দোলন
সেপ্টেম্বর ২৩, ২০১৯ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

মুশলধারে বৃষ্টি উপেক্ষা করেও ভিসির পদত্যাগ দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। ইতোমধ্যে ৪ দিন গড়িয়ে ৫ম দিনে পড়েছে ভিসি ড. প্রফেসর খোন্দকার নাসির উদ্দিনের পতনের আন্দোলন।

রোববার বিকাল খেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত টানা বৃষ্টি হয়েছে। প্রায় ১৬ ঘণ্টা বৃষ্টিতে ভিজেই শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে আমরণ অনশন করেছেন।

আন্দোলনরত শিক্ষার্থী আইন বিভাগের ছাত্র সোহাগ হোসেন বলেন ‘বৃষ্টিসহ যত প্রতিকূলতাই আসুক না কেন ভিসির পদত্যাগ না করিয়ে আমরা ঘরে ফিরবো না। এ কষ্ট আমাদের কষ্ট মনে হচ্ছে না।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলা, অর্থনীতি, সিএসিই বিভাগের শিক্ষার্থীরা জানান, আমাদের গায়ে হাত পড়েছে। আমাদের ২০ সহপাঠী আহত হয়েছে। বোনদের শরীরেও হাত দেওয়া হয়েছে। হামলাকারীদের হাত থেকে বাঁচতে তারা বিল ঝাপিয়ে আত্মরক্ষা করেছে। এখনও আমরা ভিসি পতনের আন্দোলনে অনড় অবস্থানে রয়েছি। হল ত্যাগ না করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বন্ধের মধ্যেই খেয়ে না খেয়ে আমরা আন্দোলন করছি। সেই কষ্টের কাছে বৃষ্টি কিছুই না। কোন কিছুই আমাদের আন্দোলন দমাতে পারবে না।

বিভিন্ন দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, বিনা কারণে অন্যায়ভাবে বহিস্কারসহ শিক্ষার্থীদের বাকস্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ, শিক্ষকদের মানসিক নির্যাতন, কথায় কথায় শোকজসহ ভিসির নির্যাতনে অতিষ্ঠ হয়ে আন্দোলন শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ও সাংবাদিক ফোতেমা-তুজ-জিনিয়াকে অন্যায়ভাবে বহিস্কারের পর ফেসবুকে ব্যাপক প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ১৮ সেপ্টেম্বর জিনিয়ার বহিস্কারাদেশ প্রত্যাহারের পর ১৯ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভিসি পতনের আন্দোলনে নেমে প্রশাসনিক ভবনের সামনে আমরন অনশন কর্মসূচি শুরু করে। ২১ সেপ্টেম্বর আন্দোলন বানচাল করার লক্ষ্যে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা ও হল ত্যাগের নির্দেশ দিয়ে আবাসিক হলের খাবার, পানি, বিদ্যুৎসংযোগ বন্ধ করে দেয় প্রশাসন। একইসঙ্গে বহিরাগত ও ভাড়া করা স্থানীয় সন্ত্রাসী দিয়ে শিক্ষার্থীদের ওপর নৃশংস হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে ভিসির বিরুদ্ধে। তবে ভিসি নাসির উদ্দিন শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার কথা অস্বীকার করেছেন।

এদিকে শিক্ষার্থীদের ওপর বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে সহকারী প্রক্টর পদ থেকে অব্যাহতি নেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক হুমায়ুন কবির। এছাড়াও উচ্চতর শিক্ষা লাভের জন্য জাপান ভ্রমণ বাতিল করে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন গণিত বিভাগের শিক্ষক মিনারুল হক। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলনে সমর্থন করে সংহতি প্রকাশ করেছেন সচেতন শিক্ষক সমাজসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষিকারা।