মুস্তাফিজের অর্জনে সব কষ্ট দূর হয়েছে ভাই পল্টুর


516 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
মুস্তাফিজের অর্জনে সব কষ্ট দূর হয়েছে ভাই পল্টুর
জুন ২৩, ২০১৫ কালিগঞ্জ খেলা জাতীয়
Print Friendly, PDF & Email

মো. আসাদুজ্জামান: বড় হয়ে ভাল কিছু করার স্বপ্ন সবার থাকে। স্বপ্ন থাকে দেশের নাম উজ্জ্বল করে নিজে আলোকিত হওয়ার। কেউ পারেন, কেউ পারেন না। তিনি নিজেও ভালো ক্রিকেটার, ভালো ব্যাটিং করেন। এলাকায় খ্যাতি আছে, তবে খেলার সুযোগ হয়নি কোনও দল বা ক্লাবে। নিজে না পারলেও স্বপ্নের অপমৃত্যু ঘটতে দেননি। ভাই মুস্তাফিজের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন পূরণে সক্ষম হয়েছেন।
বলছি, বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সদ্য অভিষিক্ত পেসার মুস্তাফিজের সেজো ভাই মোখলেছুর রহমান পল্টুর কথা। নিজে না পারলেও অজপাড়া গাঁ থেকে মুস্তাফিজকে প্রাকটিসে নিয়ে যেতে মটরসাইকেলে করে প্রতিদিন পাড়ি দিতেন দীর্ঘ ৪০কিলোমিটার পথ। তার ত্যাগ ও ধৈয্যের কারণেই হয়তো ধোনিদের ঘাম ঝরাতে সক্ষম হয়েছে মুস্তাফিজ।
পল্টু গ্রামের নামকরা ক্রিকেটার ছিলেন। এখনও সুযোগ পেলে নেমে যান মাঠে। টেনিস বলে বিভিন্ন জায়গায় ভাড়ায় খেলতে যেতেন তিনি। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে জীবিকা অর্জনে ধাবিত হতে হয় তাকে। তখন মুস্তাফিজকে সবাই চিনত পল্টুর ভাই হিসেবে। এখন সবাই বলে মুস্তাফিজের ভাই পল্টু।
নিজের মাছের ঘের শুকালে সেখানেই খেলেন পল্টুর হাতে তৈরি স্থানীয় রাজাপুর আরপি সংঘের খেলোয়াড়রা। তিনি যখন বিভিন্ন জায়গায় ভাড়ায় খেলতে যেতেন, ভালো বল করায় সঙ্গে নিতেন মুস্তাফিজকেও। সেখান থেকে পল্টুর পাশাপাশি মুস্তাফিজের পরিচিতিও বাড়তে থাকে।
নিজে বিশ্বমানের খেলোয়াড় হয়ে উঠতে না পারলেও ভাই মুস্তাফিজকে খেলোয়াড় বানাতে ঠিকই সক্ষম হয়েছেন তিনি। তাইতো সব ত্যাগ স্বীকার করে প্রতিদিন সাতক্ষীরা শহরে প্রাকটিসে নিতে আসতেন ছোট ভাই মুস্তাফিজকে। পল্টু বলেন, জাতীয় দলে আমি খেলতে পারিনি তাতে দুঃখ নেই, আমার ভাইতো জাতীয় দলে খেলছে। সে সবার মুখ উজ্জ্বল করছে। দেশের মান রক্ষা করছে। ভাইয়ের স্বপ্ন পূরণে সে সবচেয়ে বেশি আনন্দিত। তার এই অর্জনে আমার সব কষ্ট দূর হয়ে গেছে।