মেধা তালিকায় স্থান পেয়েও সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছে না রিদওয়ান


388 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
মেধা তালিকায় স্থান পেয়েও সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারছে না রিদওয়ান
জানুয়ারি ২৩, ২০১৬ ফটো গ্যালারি শিক্ষা
Print Friendly, PDF & Email

নাজমুল হক :
সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়হীনতার কারণে বছরের ২৩ দিন অতিবাহিত হলেও ভর্তি হতে পারেনি সি.এম. রিদওয়ান। সম্মিলিত মেধা তালিকায় টিএস কোটায় মেধা তালিকায় ১১৭ নং অবস্থান থাকার পরেও ভর্তি নেয়নি স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা খাতন। অন্যদিকে ভর্তির নিদের্শনা চেয়ে ৩১ ডিসেম্বর জেলা প্রশাসকের নিকট আবেদন করেও কোন সিদ্ধান্ত পাওয়া যায় নি। জেলা প্রশাসকের সাধারণ শাখার অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম জানান, এবিষয়ে ফাইল স্কুলে প্রেরণ করা হয়েছে। তবে স্কুলের প্রধান শিক্ষক মনোয়ারা খাতুন জানান, তাদের কাছে কোন ফাইল আসেনি। সামগ্রিক এ বিষয় তুলে ধওে ঐ শিক্ষার্থীর পিতা শাহেদ মোস্তফা পুরো বিষয়টি তুলে ধরে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে শনিবার লিখিত আবেদন করেছে।

শহরের বাঁকাল গ্রামের মোঃ শাহেদ মোস্তফা চৌধুরী জানান, তিনি বর্তমানে সহকারী পরিদর্শক পদে বরগুনা জেলা শিক্ষা অফিসে কর্মরত আছি। তার পুত্র মোঃ সি. এম. রিদওয়ান ২১ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় টিএস কোটায় ১১৭ নং অবস্থান করে। তিনি পুত্রকে নিয়ে গত ২৮ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে আমার পুত্রের ভর্তির জন্য ফরম সংগ্রহ করতে গেলে কর্তব্যরত শিক্ষক ফরম দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এ সময় কোটার স্বপক্ষে বরগুনা শিক্ষা অফিসের প্রত্যায়নপত্র নিয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নিকট গেলেও তিনি কোটার স্বপক্ষে প্রমাণপত্র নেই অজুহাতে ফরম প্রদান করেননি। ফলে তিনি তার সন্তানকে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি করতে ব্যর্থ হই।

তিনি আরো জানান, ভর্তির বিষয়ে সাতক্ষীরা সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি কমিটির সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল মামুনের নিকটে গেলে তিনি ভর্তির নীতিমালা অনুযায়ী ভর্তি নেওয়া যেতে পারে বলে জানান। এ সময় তিনি মোবাইলে সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ভর্তি নেওয়ার আহবানও জানান। কিন্তু এরপরেও স্কুলের প্রধান শিক্ষক আমার সন্তানকে ভর্তির সুযোগ দেননি। স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা নীতিমালার একেক সময়ে একেক ধরণের ব্যাখ্যা দান করে। ফলে আমি সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মনোয়ারা খাতুন এর আচারণে আমি হতাশ হয়ে পড়ি।

তিনি আরো জানান, এ বিষয়ে ৩১ ডিসেম্বর ২০১৫ তারিখে স্কুলের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক, সাতক্ষীরা বরাবর ভর্তি নেওয়ার জন্য আবেদন করি। কিন্তু অদ্য ২৩ জানুয়ারি ১৬ পর্যন্ত আমার সন্তানকে ভর্তি করতে পারিনি। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে খোজ নিলে আমার আবেদনের ফাইল স্কুলে পাঠানো হয়েছে বলা হয়। কিন্তু স্কুলে গেলে তাদের কাছে ফাইল আসেনি বলা হয়। এ বিষয়ে সাতক্ষীরা অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নিকট গেলেও কোন সমাধান দিতে পারেন নি। আমার সন্তান মেধা তালিকায় স্থান পাওয়ার একমাস অতিক্রান্ত হলেও রেদওয়ান উক্ত প্রতিষ্ঠানের পাঠদান কার্যক্রমের বাহিরে রয়েছে। উল্লেখ্য, বরগুনা জিলা স্কুল, বরগুনায় ৩য় শ্রেণি না থাকায় তিনি তার সন্তানকে স্থায়ী ঠিকানায় অবস্থিত সাতক্ষীরা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করান। তিনি আরো জানান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যেখানে প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে বছরের প্রথম দিনে বই দিচ্ছে। কিন্তু জেলা প্রশাসন ও স্কুলের মধ্যে সমন্বয় না থাকায় ভর্তি করতে পারছি না।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের সাধারণ শাখার অফিস সহকারী রফিকুল ইসলাম জানান, ঐ শিক্ষার্থীর ফাইল স্কুলে গেছে। ফাইল না আসলে আমরা কিছুই করতে পারবো না। তবে এ বিষয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা মনোয়ারা খাতুন জানান, জেলা প্রশাসনের নিকট থেকে কোন নির্দেশনা পায় নি। নির্দেশনা না পেলে আমরা কোন ব্যবস্থা নিতে পারবো না।