মেনোপোজ ও হৃদরোগের সম্পর্ক


502 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
মেনোপোজ ও হৃদরোগের সম্পর্ক
সেপ্টেম্বর ৫, ২০১৫ ফটো গ্যালারি স্বাস্থ্য
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
মেনোপোজ মেয়েদের জীবনের একটা অবিচ্ছেদ্য অংশ। প্রত্যেক মহিলার সন্তান জন্মদানের সক্ষমতার প্রতীক, নিয়মিত মাসিক হওয়া বা মেয়েদের জীবনে বয়ঃসন্ধিকাল থেকে ৪৫-৫০ বছর পর্যন্ত সন্তান জন্মদানের সক্ষমতা থাকে। বয়সজনিত কারণে অথবা চিকিৎসা ব্যবস্থার পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া হিসেবে স্থায়ীভাবে মাসিক বন্ধ হওয়াকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় মেনোপোজ হিসেবে অবহিত করা হয়। মেনোপোজ শুধু মাসিক বন্ধ হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। শারীরিক অনেক আচার-আচরণ, অনেক ধরনের অনুভূতি, সামাজিক আচার-আচরণ, পারস্পরিক সম্পর্ক এসব প্রক্রিয়াতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনয়ন করে। এসব পরিবর্তনের মূল কারণ হিসেবে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হওয়াকে দায়ী করা হয়। যেমন- রক্তে ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরনের মাত্রা কমতে থাকে এবং লিউটেনাইজিং হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকে। যা যৌবনকালের থেকে সম্পূর্ণ বিপরীত ভারসাম্য।

হঠাৎ খুব বেশি গরম অনুভূত হওয়া, অস্থিরতা অনুভূত হওয়া এবং এর সঙ্গে সঙ্গে কারও কারও শরীর অত্যধিক ঘেমে যাওয়া, যা অল্পক্ষণ হয়ে থাকে, তারপর ধীরে ধীরে কিছুটা সুস্থতা অনুভূত হওয়া। অনেকের এসব উপসর্গের সঙ্গে বুক ধড়ফড় করা, বুকে-মাথায় অথবা শরীরে অস্বাভাবিক অনুভূতি পরিলক্ষিত হয়ে থাকতে পারে। উদ্বিগ্নতা বৃদ্ধি পাওয়া বা খুব সহজেই মেজাজ খিটখিটে হয়ে যাওয়া, অতি সহজেই উত্তেজিত হওয়া, একবার উত্তেজিত বা উদ্বিগ্ন হলে তা বেশ অনেকক্ষণ ধরে বিদ্যমান থাকা, কাজ-কর্মে অমনোযোগী হয়ে পড়া এবং অনীহা দেখা দেওয়া, খুব সহজেই মন খারাপ হয়ে যাওয়া বা অন্যের ওপর সামান্য কারণেই অভিমান করা বা ছোটখাটো ভুলের জন্য অন্যকে দোষারোপ করা ইত্যাদি। এসবের সঙ্গে কিছু শারীরিক উপসর্গ দেখা দেয়। যেমন- প্রস্রাবে কষ্ট, জ্বালা-যন্ত্রণা, ঘন ঘন প্রস্রাবের বেগ হওয়া, প্রস্রাব করার পর আবার বেগ অনুভূত হওয়া, প্রস্রাবের বেগ হলে তা ধরে রাখতে না পারা বা খুব তাড়াতাড়ি টয়লেটে যেতে বাধ্য হওয়া।

প্রাকৃতিক নিয়মে : সাধারণভাবে ৪৫-৫০ বছর বয়সকে মেনোপোজের সময় ধরা হয়। তবে কারও কারও ৪০ বছর বয়সে এবং কারও কারও এটা ৬০ বছরেও হতে পারে। এটা পশ্চিমাদের হিসাব। আমাদের জনগোষ্ঠীর ক্ষেত্রে সব হিসাব দুই-চার বছর কম হতে পারে।

জরায়ু অপারেশন : শুধু জরায়ু অপসারণ করে চিকিৎসা নিলে মাসিকে রক্তস্র্রাব না হলেও হরমোনাল সাইকেল ঠিক থাকায় মেনোপোজের লক্ষণ পরিলক্ষিত হয় না। তবে জরায়ুর সঙ্গে ডিম্বাশয় অপসারণ করলে অথবা তলপেটে রেডিও-থেরাপি গ্রহণ করলে অপারেশন পরবর্তী সময় থেকেই মেনোপোজ শুরু হয়ে যাবে এবং উপসর্গ পরিলক্ষিত হতে থাকে।

মেনোপোজ ও হৃদরোগ : সাধারণভাবে ধরা হয় যে, সন্তান জন্মদানে সক্ষম মহিলাদের মধ্যে সেক্স হরমোনের (ইস্ট্রোজেন ও প্রজেস্টেরন ইত্যাদি) প্রভাবে হৃদরোগ স্ট্রোক, কোলেস্টেরলের আধিক্য, অস্থি-সন্ধির ক্ষয়জনিত সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপ ইত্যাদির প্রবণতা কম থাকে। সুতরাং এটা বলাই বাহুল্য, মেনোপোজ পরবর্তী জীবনে মহিলাদের মধ্যে হৃদরোগ ও উচ্চ রক্তচাপের প্রবণতা একটু বেশি হয়। কারণ হৃদরোগ এবং রক্তচাপ মেনোপোজ পরবর্তী সময়ে লিইটেনাইজিং হরমোন এবং ইস্ট্রোজেন প্রজেস্টেরনের অভাবে বৃদ্ধি ও রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকে। কারও যদি ডায়াবেটিস হয় তবে এসব অসুখের মাত্রা দ্রুততার সঙ্গে বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং যাদের বংশগত হৃদরোগের প্রবণতা আছে তাদের মাঝে হৃদরোগের তীব্রতা এ সময় অনেক বেশি হারে দেখা দেয় এবং মেনোপোজ সময় থেকে হৃদরোগের লক্ষণগুলো প্রকাশ পেয়ে থাকে।

ডা. এম শমশের আলী, সিনিয়র কনসালট্যান্ট, ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং মুন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, বাবর রোড, শ্যামলী।–সুত্র:-বাংলাদেশ প্রতিদিন।