মোদির মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাচ্ছেন কারা ?


200 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
মোদির মন্ত্রিসভায় ঠাঁই পাচ্ছেন কারা ?
মে ৩০, ২০১৯ প্রবাস ভাবনা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

লোকসভা নির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয়ের পর প্রধানন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে যাচ্ছেন নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় হতে যাওয়া শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান ঘিরে এরই মধ্যে সব ধরনের আয়োজন সম্পন্ন হয়েছে।

বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটের সরকারে মন্ত্রী কে হবেন, এ নিয়ে বুধবার দিনভর টানাপড়েন চলেছে দিল্লিতে। তবে নরেন্দ্র মোদি সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে চান বলেই মনে করা হচ্ছে।

আনন্দবাজার পত্রিকা বলছে, অন্তত চারটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় তথা মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটিতে যত কম সম্ভব বদল চান নরেন্দ্র মোদি।

বুধবার রাতে পাঁচ ঘণ্টা, দুপুরে তিন ঘণ্টা মন্ত্রিসভার তালিকা নিয়ে ম্যারাথন বৈঠক করেছেন নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ। দুপুরেই প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি লিখে অরুণ জেটলি জানিয়ে দিয়েছেন, অসুস্থতার জন্য আর কোনও দায়িত্ব নিতে চান না। কিন্তু সন্ধ্যায় তার বাড়িতে যান মোদি।

সূত্রের খবর, জেটলিকে অর্থ মন্ত্রণালয় অথবা দফতরহীন মন্ত্রী কমপক্ষে ক্যাবিনেট মর্যাদার পদ দিতে আগ্রহী মোদি।

অর্থ মন্ত্রণালয়ে খোদ অমিতের নাম ঘিরেও অনেক দিন ধরে জোর আলোচনা চলছে রাজধানীতে। আবার বিজেপিরই একটি অংশ বলছে, এখনও বিজেপি সভাপতি পদে অমিত শাহের উত্তরসূরি নিয়ে জট কাটেনি।

সঙ্ঘেরও অনেকের মত, সভাপতি পদে থেকে অমিত শাহ সংগঠনকে নিয়ন্ত্রণে রেখে যে আক্রমণাত্মক যাত্রা শুরু করেছেন, মন্ত্রিসভায় চলে গেলে তা থেমে যাবে। গুরুত্বপূর্ণ রাজ্যগুলির বিধানসভা ভোট সামলে পরে তাকে মন্ত্রিসভায় নিয়ে যাওয়া যেতে পারে। অমিত নিজেও এখন মন্ত্রিসভায় যেতে আগ্রহী নন।

অমিত শাহ যদি মন্ত্রী না হন ও জেটলি যদি রাজি না হন তবে অর্থমন্ত্রী কে হবেন?

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে অমিতের বৈঠকের পরেই পীযূষ গয়ালকে ডেকে পাঠান বিজেপি সভাপতি। বিজেপি সূত্রের দাবি, এই সরকার তার আগের সরকারের ধারাবাহিকতা বজায় রাখবে। ফলে অন্তত প্রধান চারটি মন্ত্রণালয়ে বিশে‌ষ বদলের পক্ষপাতী নন প্রধানমন্ত্রী।

বুধবার জেটলির বাড়িতে যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে সেনার একটি অনুষ্ঠানে হাজির ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, বিদেশমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী নির্মলা সীতারামন। তারা সকলেই মন্ত্রিসভার নিরাপত্তা বিষয়ক কমিটির সদস্য।

সূত্রের খবর, যেমন ওই কমিটিতে বড় বদল চান না মোদি তেমনই প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয়েও বড় মাপের পরিবর্তন চান না তিনি।

বুধবার অমিত শাহের বাড়িতে মোদির দুই গুরুত্বপূর্ণ আমলা নৃপেন্দ্র মিশ্র ও পি কে মিশ্র দীর্ঘ বৈঠক করেন। অন্য দিকে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালকে ডেকে পাঠান। তাকেও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদে ফের নিয়োগ করা হতে পারে।

বিদায়ী সরকারের মাঝপথে ধর্মেন্দ্র প্রধান, প্রকাশ জাভড়েকরের মতো যে মন্ত্রীদের গুরুত্ব বেড়েছে তাদের গুরুত্ব আরও বাড়তে পারে। তার সকলেই টিম অমিত শাহের সদস্য।

রাহুল গান্ধীকে হারানোর পরে স্মৃতি ইরানিও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় পেতে পারেন। এর ওপরে শরিকদেরও মন্ত্রী করা হবে। বিজেপি সূত্রের মতে, আপাতত যে সূত্র মেনে চলা হচ্ছে, তা হল প্রতি সাত জন সাংসদ পিছু একটি ক্যাবিনেট মন্ত্রণালয়।

সূত্রের খবর, নীতীশ কুমার বুধবার অমিত শাহের বাড়ি যান। রেল মন্ত্রণালয় চেয়েছেন। তার দল সাংসদ সংখ্যার বিচারে একটি ক্যাবিনেট ও একটি স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রীর পদ পেতে পারে।

জনতা দল (জেডিইউ) সূত্রে খবর, তাদের পক্ষে লাল্লন সিংহ ও সন্তোষ কুশওয়াহার নাম দেওয়া হয়েছে। শিবসেনাকে দুটি, অকালি, আপনা দলের মতো দলকে একটি করে মন্ত্রিপদ দেওয়া হতে পারে। রামবিলাস পাসোয়ান ও আপনা দলের অনুপ্রিয়া পটেল ফের মন্ত্রী হতে পারেন।