মোবাইল আসক্তি ডেকে আনছে বিপদ


364 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
মোবাইল আসক্তি ডেকে আনছে বিপদ
সেপ্টেম্বর ৮, ২০২০ তালা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অর্ঘ্য ঘোষ ::

আমাদের দৈনন্দিন জীবনে যে প্রযুক্তিগুলো ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে তার মধ্যে স্মার্টফোন অন্যতম। এটি যেমন দরকারি, তেমনি এর প্রতি আসক্তি শিশুদের নানা বিপদে ফেলছে। কম্পিউটার, টিভি ও মোবাইল ট্যাব শিশুদের দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিচ্ছে। দুনিয়াজুড়ে লাখ লাখ শিশু ভুগছে দৃষ্টিশক্তির সমস্যায়। বাংলাদেশেও এর থাবা বিস্তার করছে।
ক্ষীণদৃষ্টিকে একসময় ভাবা হতো প্রবীণদের সমস্যা। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কর্মক্ষমতাও হারায় শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ। ফলে বয়স বাড়লে অন্তত চল্লিশের ওপর গেলে অনেকেই আক্রান্ত হয় ক্ষীণদৃষ্টির সমস্যায়। কম বয়সীদের ক্ষেত্রে ক্ষীণদৃষ্টির সমস্যা যে ছিল না এটি ঠিক করে বলা যাবে না। তবে সে সংখ্যা ছিল নগণ্য এবং এর কারণ ছিল প্রধানত অপুষ্টি।
কালের বিবর্তনে দেশে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুর সংখ্যা কমছে। কিন্তু ভয়াবহভাবে বাড়ছে ক্ষীণদৃষ্টির সমস্যা। যে সমস্যার পেছনে অপুষ্টি নয় বরং দায়ী তথ্যপ্রযুক্তি-আসক্তি।
কম্পিউটার, ল্যাপটপ, ট্যাব, মোবাইল ফোন, টেলিভিশনে আসক্তি শিশুর দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিচ্ছে এমন তথ্যই জানিয়েছেন চোখের চিকিৎসায় দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের চিকিৎসকরা। তারা শিশুদের চোখের সমস্যার তিনটি কারণের কথা বলেছেন। এর মধ্যে কোনো কোনো শিশু চোখে সমস্যা নিয়েই জন্মায়। ভিটামিন ‘এ’-র অভাবে শিশু রাতকানা রোগে ভুগতে পারে, এমনকি অন্ধও হয়ে যেতে পারে। তৃতীয়ত, স্ক্রিনের দিকে বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকার কারণে শিশুরা চশমা ছাড়া দূরের জিনিস দেখতে পায় না।
জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটে মাসে গড়ে সাড়ে ৩ হাজার শিশু আসে। এর ৭০ শতাংশ দূরের জিনিস ভালো দেখতে পায় না। বেসরকারি হাসপাতালগুলোর তথ্যও অভিন্ন। ডাক্তারি ভাষায় রোগটিকে বলা হয় ক্ষীণদৃষ্টির সমস্যা। একই সঙ্গে এ রোগকে বলা হচ্ছে ‘কম্পিউটার ভিশন সিনড্রোম’।
জাতিসংঘের শিশুবিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের তথ্যানুযায়ী, প্রতিদিন ১ লাখ ৭৫ হাজার শিশু নতুনভাবে ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে। কম্পিউটার, টিভি ও মোবাইল ফোন আমাদের যাপিতজীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে জীবনের সব ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য নিয়ে আমাদের শিশুরাও যুক্ত হচ্ছে কম্পিউটার, টিভি, মোবাইল ট্যাবের সঙ্গে। কিন্তু অতিআসক্তির কারণে তাদের এক বড় অংশ সর্বনাশের শিকারও হচ্ছে। শুধু দৃষ্টিশক্তির সমস্যা নয়, নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যারও শিকার হচ্ছে তারা। এ বিপজ্জনক ধারা থেকে শিশুদের রক্ষায় বাবা-মা’দের সতর্ক হতে হবে। তাদের শিশু যাতে কম্পিউটার বা মোবাইল-আসক্তি নামের সর্বনাশের দিকে পা না বাড়ায় সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে।
বর্তমান যুগে আমরা সবাই মুঠোফোন বা মোবাইলে আসক্ত থাকি। দেখা যায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ২২ ঘণ্টাই এই যন্ত্র নিয়ে পড়ে থাকি। যার কারণে পরিবার-আত্মীয়-স্বজন থেকে আমাদের একটা দূরত্ব তৈরি হয়। আমাদের একটি নতুন জগৎ তৈরি হয়ে যায়, যা আমাদের শরীর-মনকে অনেক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করে। অনেক চেষ্টা করেও আমরা মোবাইল ফোনে আসক্তি থেকে বের হতে পারি না।
আমি বিকালে মাঠে খেলতে গিয়ে দেখি মাঠে উপস্থিত ১০০ ভাগের মধ্যে ৩০ ভাগ শিশু খেলা করে আর ৭০ ভাগ মানুষ মোবাইলে পাবজি বা ফ্রি ফায়ারের মতো অনেক গেম খেলে। এর ফলে শিশুদের শারীরিক বা মানষিক অনেক সমস্যা হয়।
মোবাইলের আসক্তি কমাতে করণীয় হচ্ছে; নিজের মনকে স্থির করতে হবে এবং বলতে হবে ‘আমি আমার মোবাইল ফোনটি প্রতিদিন দুই বা তিন ঘণ্টার বেশি ব্যবহার করব না’ এবং কোনোভাবেই এই চিন্তার বাইরে যাওয়া যাবে না। খুব বেশি জরুরি প্রয়োজন না হলে মোবাইল ফোনটি একেবারে কাছে রাখার দরকার নেই। শুয়ে-বসে হাত বাড়ালেই ফোনটি পাবেন, আসক্তি দূর করতে চাইলে এমন নৈকট্য পরিহার করুন। প্রিয় ফোনটি দূরে রেখে এবার প্রিয় বইটি কাছে এনে রাখুন। হাত বাড়ালেই হয়তো ফোনটি পাওয়া যাচ্ছে না, কিন্তু বইটি তো রয়েছে!
এভাবেই অভ্যাস ভাঙার চেয়ে বেশি কাজে লাগবে নতুন অভ্যাস গড়ে তোলা। হতেই পারে বই আপনার পছন্দের নয়। কিন্তু এমন অনেক জিনিস আছে আপনার পছন্দের, মোবাইল ফোনটি দূরে সরিয়ে এবার তাদের সঙ্গে সময় কাটান।
পরিশেষে বলছি, আমরা চাইলেও মোবাইল থেকে দূরে থাকতে পারি না। কিন্তু নিজের সুস্থতার জন্য হলেও মোবাইলে আসক্ত হওয়া থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করুন।

লেখক, শিক্ষার্থী, ৭ম শ্রেণী। তালা বি. দে. সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়। তালা,সাতক্ষীরা।