মোবাইল ফোন ধরিয়ে দিল ৬ ‘খুনি’


130 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
মোবাইল ফোন ধরিয়ে দিল ৬ ‘খুনি’
জানুয়ারি ২৫, ২০২৩ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

#চট্টগ্রামে কায়েস খুন

অনলাইন ডেস্ক ::

চট্টগ্রামে কায়েস হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে নগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সোমবার রাতভর নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ছয়জন হলেন- হুমায়ুন কবির মাসুদ, মো.খোকন, রফিকুজ্জামান সানি, নজরুল ইসলাম, মো. রায়হান ও আব্দুল কাদের জীবন।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, খুন হওয়া ব্যক্তির লাশের পাশ থেকে উদ্ধার হওয়া মোবাইলের সূত্র ধরে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়েছে। গত ২১ জানুয়ারি সকালে কর্ণফুলী উপজেলার সিডিএ আবাসিক এলাকা সংলগ্ন সড়ক থেকে মোহাম্মদ কায়েসের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার পেটে-বুকে ধারালো অস্ত্রের ৭-৮টি আঘাতের চিহ্ন ছিল।

ডিবি পুলিশ জানায়, হুমায়ুন ও কায়েস পুলিশের সোর্স হিসেবে কাজ করতেন। চার মাস আগে নিষিদ্ধ মাদক ক্রিস্টাল মেথ বা আইস সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহের জন্য রাঙামাটিতে তারা একজন পাহাড়ি মাদক বিক্রেতার কাছে যান। পরে আরেকদিন হুমায়ুন একা গেলে তাকে পুলিশের সোর্স বলে আটকে কয়েকজন পাহাড়ি ব্যক্তি মারধর করে এবং ইট দিয়ে শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে আঘাত করে। হুমায়ুন কোনোমতে প্রাণে বেঁচে ফিরেন।

তার সন্দেহ, কায়েস সোর্সের বিষয়টি তাদের জানিয়ে দিয়েছে। তখন হুমায়ুন কায়েসের ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার পরিকল্পনা করে। গত ২০ জানুয়ারি বিকেল চারটার দিকে মোবাইলে কায়েসকে ডেকে কর্ণফুলী থানার মইজ্জ্যারটেক এলাকায় নিয়ে যায় হুমায়ুন। চা-নাস্তা খাইয়ে সন্ধ্যার পর সিডিএ আবাসিক এলাকার সামনে রাস্তায় নিয়ে একটি অটোরিকশার ভেতরে বসায়। এরপর আরও পাঁচ বন্ধু মিলে কায়েসকে ছুরি ও লোহার ধারালো পাত দিয়ে আঘাত করে। প্রাণে বাঁচতে কায়েস চিৎকার করে সড়কের পশ্চিম পাশে সিডিএ আবাসিক এলাকায় নালার দিকে দৌড় দেয়। তারা ধাওয়া দিয়ে কায়েসকে ধরে আবার ছুরিকাঘাতে মৃত্যু নিশ্চিত করে লাশ রেখে পালিয়ে যায়। পরদিন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

নগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. কায়সার হামিদ বলেন, লাশ উদ্ধারের সময় পাশে খুন হওয়া কায়েসের মোবাইল পাওয়া যায়। সেখানে কথোপকথনের সূত্রে একটি নম্বর পাই। কিন্তু সেটি বন্ধ ছিল। তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে অবস্থান শনাক্ত করে প্রথমে ওই মোবাইল নম্বর ব্যবহারকারী হুমায়ুনকে গ্রেপ্তার করি। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাকি পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।