‘মোরা’ উপকূল অতিক্রম করছে


319 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘মোরা’ উপকূল অতিক্রম করছে
মে ৩০, ২০১৭ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::
ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করেছে। ফলে উত্তাল রয়েছে সাগর।

মঙ্গলবার  সকাল ৬টা ঘূর্ণিঝড়টি বাংলাদেশে আঘাত হানে।

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় মোরার আঘাতে টেকনাফ-সেন্টমার্টিনে বেশ কিছু বাড়িঘর বিধ্বস্ত হয়েছে; উপড়ে পড়েছে গাছপালা।

এদিকে ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ আগামী দুই থেকে তিন ঘণ্টার মধ্য বাংলাদেশের উপকূল পুরোপুরি অতিক্রম করবে বলে জানিয়েছেন আবহাওয়া অধিদফতরের পরিচালক সামসুদ্দিন আহমেদ।

মঙ্গলবার সকাল পৌনে ৮টার দিকে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আবহাওয়া অধিদফতরে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান তিনি।

সামসুদ্দিন আহমেদ জানান, মোরা ঘণ্টায় ১৩৫ কিলোমিটার বেগে টেকনাফে ও ১১৪ কিলোমিটার বেগে সেন্টমার্টিনে আঘাত করে।

তিনি জানান, কক্সবাজারের টেকনাফ, সেন্টমার্টিন ও চট্টগ্রামের কুতুবদিয়া অতিক্রম করে এটি এগোবে ভারতের মনিপুরের দিকে।

এর আগে আবহাওয়া অধিদপ্তর এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, মঙ্গলবার সকাল ৬টায় ঘূর্ণিঝড় মোরা কুতুবদিয়ার নিকট দিয়ে কক্সবাজার – চট্টগ্রাম উপকূল অতিক্রম করতে শুরু করেছে। এটি আরও উত্তর দিকে অগ্রসর হতে পারে।

প্রবল ঘূর্ণিঝড় মোরা এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় এবং সমুদ্র বন্দরসমূহের উপর দিয়ে ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রে ৬৪ কিলোমিটার এর মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৮৯ কিলোমিটার যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১১৭ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রবল ঘূর্ণিঝড়ের নিকটবর্তী এলাকায় সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

মংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৮ নম্বর মহাবিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

প্রবল ঘূর্ণিঝড় ’মোরা’-এর প্রভাবে উপকূলীয় জেলা কক্সবাজার, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা,ভোলা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪-৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

মোরার কারণে সারাদেশে নৌ চলাচল বন্ধ রয়েছে। নৌপথে বিচ্ছিন্ন রয়েছে বরিশাল বিভাগ। ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়া, রাজধানীরর সঙ্গে বিভিন্ন জেলার সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও বরিশালে বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে চট্টগ্রাম বন্দরে পণ্য ওঠানো-নামানোর কাজ।

গত শনিবার বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপটি গতকাল সকালে তা ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেয়। থাইল্যান্ডের প্রস্তাবে ঘূর্ণিঝড়টির নামকরণ করা হয়েছে ‘মোরা’, যার অর্থ ‘সাগরের তারা’।

২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর আঘাত হানা সিডরের গতি ছিল ২১৫ কিলোমিটার। ২০০৯ সালের ২৫ মে আঘাত হানা আইলার গতি ছিল ১২০ কিলোমিটার। সিডরে প্রায় আড়াই হাজার মানুষ প্রাণ হারান। আইলায় প্রাণ যায় ৩২৫ জনের। নিখোঁজ হন আরও অনেকে। সিডর ও আইলার সময়ও ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়। আট বছর পর আবারও ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেতে ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকিতে রয়েছে উপকূলবাসী।