মোড়েলগঞ্জে সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা হানিফ হত্যার এক মাস পেরিয়ে গেলেও গ্রেফতার হয়নি আসামিরা


486 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
মোড়েলগঞ্জে সেচ্ছাসেবক লীগ নেতা হানিফ  হত্যার এক মাস পেরিয়ে গেলেও গ্রেফতার হয়নি আসামিরা
আগস্ট ১৯, ২০১৬ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এম.পলাশ শরীফ,মোড়েলগঞ্জ :
বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের গার্মেন্টস ব্যবসায়ী ও পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগের ৫নং ওয়ার্ড সভাপতি আবু হানিফ হত্যার এক মাস ১১দিন পেরিয়ে  গেলেও  গ্রেফতার হয়নী আসামিরা। তদন্তের মামলাটির ভবিষ্যত নিয়েও সংশয়ী নিহতের পরিবার।

এর আগে, ৫জুলাই মধ্য রাতে বাজারের কাপুড়িয়া পট্রিতে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় সাইমুম গার্মেন্টসের মধ্যে থেকে পুলিশের উদ্ধার করা অঙ্গার কঙ্কালটি হানিফের বলে দাবি করে স্ত্রী নূরুন্নাহার বেগম ৬ জনকে আসামী করে অগ্নিকান্ডের ২০দিন পর জেলা জুডিসিয়াল মেজিট্রেটের আদালতে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-সিআর ১৫০/১৬, তারিখ-২৫/৭/১৬। মামলাটি আমলে নিয়ে বিজ্ঞ আদালত ২৮ জুলাই মোড়েলগঞ্জ থানাকে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যাবস্থা গ্রহনের জন্য নির্দেশ দেন।

মামলায় বলা হয়, ব্যাবসায়ী আবু হানিফকে দোকানের পাওনা টাকা চাওয়া নিয়ে বিরোধের জের ধরে পরিকল্পীত ভাবে হত্যা করা হয়েছে। ৪ জুলাই রাত পোনে ১২টার দিকে নিজ ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান হেনা গার্মেন্টসের সামনে থেকে হানিফকে ডেকে নিয়ে যায় মাদক বিক্রেতা রফিক। গভীর রাত পর্যন্ত আড্ডা দেয় স্থানীয় হালিম আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার শাহীনের কাছে। রাত ১টার দিকে পূর্ব পরিকল্পা অনুযায়ী মাদক বিক্রেতা রফিক ও হোটেল ম্যানেজার শাহীন দু’জনে মিলে ব্যাসায়ী আবু হানিফকে পৌর পার্কের পিছনে নদীর তীরে নিয়ে যায়। সেখানে আগে থেকে অপেক্ষামান আরো ৪ জন মিলে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে আবু হানিফকে। হত্যাকান্ডের পর লাশ ভষ্মিভূত করতে কাপুড়িয়া পট্রির সাইমুম গার্মেন্টসের বেড়া কেটে দোকানের ভেতরে ঢুকিয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয় হত্যাকারীরা। আগুনে হানিফের লাশ সম্পূর্ণ দগ্ধ হওয়ার পাশাপাশি ৫টি দোকান পুড়ে ১০ কোটি টাকার ক্ষতিসাধিত হয়। পরের দিন সাকালে ঘটনাস্থল থেকে পুড়ে অঙ্গার হানিফের কঙ্কাল উদ্ধার করে ময়না তদন্তের পর বেওয়ারিশ হিসেবে বাগেরহাটে দাফন দেয়ার ব্যবস্থা করে পুলিশ। ১২ জুলাই পুলিশের কর্ডন করা লাশ ভষ্মিভূত এলাকা পরিষ্কার করার সময় আবু হানিফের ব্যবহৃত চাবির গোচা উদ্ধার করে পুলিশ।

এ বিষয়ে মোড়েলগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ মো. রাশেদুল আলম বলেন, হানিফ হত্যা মামলার তদন্ত নিয়ম অনুযায়ী এগুচ্ছে। ডিএনএ পরিক্ষায় আলামত পাঠানোর প্রক্রিয়া শেষের পথে। রিপোর্ট হাতে পেলে ব্যাবস্থা নেওয়া হবে। মামলাটি নিয়ে আন্তরিক আছে পুলিশ।
তবে তদন্তের ধীরগতি আর হত্যাকারীরা গ্রেফতার না হওয়ায় আতঙ্কে রয়েছেন নিহত হানিফের পরিবার। মামলাটির সঠিক তদন্ত ও ন্যায় বিচারের স্বার্থে ডিবি অথবা সিআডিতে হস্তান্তরের দাবি জানিয়েছেন তারা। ##