মৌসুম শুরুর আগেই সুন্দরবন থেকে মধু সংগ্রহ


261 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
মৌসুম শুরুর আগেই সুন্দরবন থেকে মধু সংগ্রহ
মার্চ ২৬, ২০২০ ফটো গ্যালারি সুন্দরবন
Print Friendly, PDF & Email

সামিউল মনির ::

মৌসুম শুরুর আগেই সাতক্ষীরা রেঞ্জের পশ্চিম সুন্দরবন থেকে এক শ্রেনীর বনজীবি মধু সংগ্রহ করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মাছ ও কাঁকড়া শিকারের অনুমতি (পাশ) নিয়ে বনে প্রবে শ করে তারা লুকিয়ে মধু সংগ্রহের পর এলাকায় ফিরছে। অসাধু বনকর্মীদের সাথে আঁতাত করে কতিপয় বনজীবি এমন অপতৎপরতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ। যদিও বনবিভাগের দাবি টহল জোরদার থাকায় দুষ্ট চক্র এধরনের সুযোগ পাচ্ছে না।
উল্লেখ্য প্রতি বছর এপ্রিল মাসের এক তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে বনজীবিরা সুন্দরবনে প্রবেশ করে মধু সংগ্রহের জন্য। একাধারে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়সীমার মধ্যে দল বিশেষ পঁচিশ/ত্রিশ থেকে সত্তর/আশি মন পর্যন্ত মধু সংগ্রহ করেন তারা।
জানা গেছে নির্ধারিত সময়ের আগেই অসংখ্য বনজীবি পশ্চিম সুন্দরবন থেকে মধু সংগ্রহ করছে। মুলত মাছ/কাঁকড়া শিকারের জন্য পাশ নিয়ে বনে প্রবেশের পর তারা এমন অপকর্ম করছে। বিষয়টি সম্পর্কে বনবিভাগ সংশ্লিষ্ট অনেকে অবহিত থাকা সত্ত্বেও অদ্যবধি মধু পাচার চক্রের কাউকে আটক করা যায়নি।
সুন্দরবনে যাতায়াতকারী বনজীবিসহ উপকুলীয় এলাকায় বসবাসরতদের দেয়া তথ্যে এমন অভিযোগ সম্পর্কে সত্যতা মিলেছে। স্থানীয় সুত্রগুলো আরও জানিয়েছে মৌসুম শুরুর আগেই সংগৃহীত এসব মধু নয়শ থেকে এক হাজার টাকা কেজির দরে বিক্রি হচ্ছে।
সুন্দরবন সংলগ্ন দাতিনাখালীর মোশারফ ও মীরগাং গ্রামের আলিম হোসেন জানায় মার্চের ১০/১২ তারিখের পর থেকে অসাধু চক্র সুন্দরবন থেকে মধু সংগ্রহ করছে। মাছ ও কাঁকড়া শিকারের অজুহাতে বনে যাওয়ার পর তারা সুযোগ বুঝে এমন কর্মকান্ড চালাচ্ছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে কালিঞ্চি গ্রামের এক ক্ষুদে ব্যবসায়ী জানায় সুন্দরবন থেকে দু’দিন আগে নিয়ে আসা মধু তিনি ক্রয়ের আগ্রহ প্রকাশ করায় কেজি এক হাজার টাকা দাম চাওয়া হয়। তবে নিকটাত্বীয় হওয়ায় ঐ ব্যবসায়ী মধু সংগহকারীর নাম পরিচয় প্রকাশ না করতে অনুরোধ করেন।
একই গ্রামের সামছুর রহমান ও গোলাখালীর বাবু জানায় যারা মধু সংগ্রহ করছে তারা বনকর্মীদের সাথে গোপন চুক্তি করছে। নির্ধারিত সময়ের আগে মধু সংগ্রহ করতে যেয়ে উৎকোচ দেয়ার কারনে আপাতত মধুর দাম একটু বেশী চাওয়া হচ্ছে।
নির্ধারিত সময়ের আগেই অবৈধভাবে মধু সংগ্রহের কথা স্বীকার করে মুন্সিগঞ্জ গ্রামের এক বনজীবি জানায়, মাছ ধরার জন্য বনে যেয়ে ফেরার পথে একটি মৌচাক থেকে তিনি মাত্র দেড়/দুই কেজি মধু কেটেছে। তবে অন্যরা কে কি করছে তার বিষয়ে তিনি অবগত নয় বলেও জানান।
এদিকে নির্ধারিত সময়ের আগে মধু সংগ্রহ করায় যথা সময়ে বনে যেয়ে আশানুরুপ মুধু মেলে না বলে দাবি করেছেন অনেক বনজীবি। কলবাড়ী গ্রামের কওছার আলী এবং দাতিনাখালীর আব্দুর রশিদ ও তার শ্যালক আবু জাফরের অভিযোগ চোরা কারবারীদের কারনে নির্ধারিত সময়ে বনে যেয়ে লক্ষ্যমাত্রা পুরণ করতে পারে না। বন বিভাগের কোবদকসহ কয়েকটি ষ্টেশনের কতিপয় কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাযশে সংশ্লিষ্টরা বনে প্রবেশ করে আগেই প্রচুর মধু সংগ্রহ করে। এসব মধুর একটা নির্দিষ্ট অংশ সংশ্লিষ্ট ষ্টেশন অফিস ও টহল ফাঁড়িতে কর্মরতরা নিয়ে নিজেরা বেঁচা-বিক্রি করে বলেও তাদের দাবি।
বনবিভাগ তৎপর হলে বৈধভাবে বনে প্রবেশ করে লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশী মধু তারা সংগ্রহ করতে সক্ষম হতেন বলেও জানান তারা।
তবে সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালীনি ষ্টেশন অফিসার মোঃ আক্তারুজ্জামান জানান, টহল অনেক জোরদার করা হয়েছে। তারপরও বনবিভাগের চোখ ফাঁকি দিয়ে কেউ কোন এমন অপকর্ম করছে তথ্য পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

#