যশোরে অনুষ্ঠিত হলো মানব পাচার প্রতিরোধ বিষয়ক বিভাগীয় সম্মেলন


438 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
যশোরে অনুষ্ঠিত হলো মানব পাচার প্রতিরোধ বিষয়ক বিভাগীয় সম্মেলন
মার্চ ২, ২০১৬ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

স্টাফ রিপোর্টার :
‘মানব পাচার প্রতিরোধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করতে হলে সরকার, প্রশাসন ও সাধরণ জনগনের মধ্যে সমন্বয় ও যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে হবে এবং ইউনিয়ন ও উপজেলা মানব পাচার প্রতিরোধ কমিটি (সিটিসি) গুলোকে আরো কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি নিরাপদ অভিবাসনের সুযোগ ও সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করতে পারলে মানব পাচারকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং উইনরক ইন্টারন্যাশনাল ও ইউএসএইড-এর বিসিটিআইপি প্রকল্পের সহযোগিতায় ২ ফেব্রুয়ারি বুধবার সকালে যশোর সার্কিট হাউজ মিলনায়তনে ‘মানব পাচার এবং জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৫-১৭: মানব পাচার প্রতিরোধ কমিটির ভূমিকা’ শীর্ষক এক বিভাগীয় সম্মেলনে বক্তারা উপরোক্ত মত প্রকাশ করেছেন। মানব পাচারপ্রবণ এলাকায় গণসচেতনতা সৃষ্টি এবং মানব পাচার প্রতিরোধ কমিটি (সিটিসি) গুলোর কার্যক্রম বেগবান করার লক্ষ্যে এই সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

DSC_0039
বুধবার সকালে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক) ও মানব পাচার প্রতিরোধ সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির ফোকাল পয়েন্ট  আবু হেনা মো: রহমাতুল মুনিম।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার মো: আবদুস সামাদ।

যশোরের জেলা প্রশাসক ড. মো.  হুমায়ূন কবীর-এর সভাপতিত্বে সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন উইনরক ইন্টারন্যাশনাল-এর চিফ অব পার্টি ইরিনেল কোকোস। পরে ‘মানব পাচার এবং জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৫-১৭: মানব পাচার প্রতিরোধ কমিটির ভূমিকা’, জাতীয় কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে মানব পাচার প্রতিরোধ কমিটির করণীয়’ শীর্ষক পৃথক দুটি বিষয়ভিত্তিক আলোচনা উপস্থাপন করেন ইনসিডিন বাংলাদেশ-এর নির্বাহী পরিচালক একেএম মাসুদ আলী। এসব বিষয়ের উপর অংশগ্রহণকারীরা মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন এবং মতামত তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে সার্ভাইভার এবং ভলেনটিয়ারদের পক্ষ থেকে দু’জন প্রতিনিধি আলোচনা করেন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর পাচার বিরোধী চলচ্চিত্র ‘সোল্ড’ প্রচার করা হয়।
সম্মেলনে যশোর, ঝিনাইদহ, নড়াইল, সাতক্ষীরা এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা থেকে মানব পাচার প্রতিরোধ কমিটির সদস্য হিসেবে জেলা, উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, আন্তর্জাতিক সংস্থা, এনজিও, গণমাধ্যম প্রতিনিধি, সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

DSC_0064
প্রধান অতিথির বক্তব্যে  আবু হেনা মো. রহমাতুল মনিম বলেন, দেশের মানব পাচার প্রতিরোধ কার্যক্রমের মূল কাজটি সরকারের পক্ষ থেকে করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একাজে সহযোগিতা করে এনজিওরা। তবে, তৃণমূল পর্যায়ে মানব পাচার প্রতিরোধ কার্যক্রমের তদারকী কমিটি হিসেবে ‘মানব পাচার প্রতিরোধ কমিটি (সিটিসি)’র যে দায়িত্ব ও কর্তব্য রয়েছে তা তারা সঠিকভাবে পালন করতে পারছে না বা করছে না। এটা দুঃখজনক। কিন্তু, মানব পাচার প্রতিরোধ করতে হলে ইউনিয়ন ও উপজেলা মানব পাচার প্রতিরোধ কমিটিগুলোকে সত্যিকার অর্থেই কার্যকর ভূমিকা পালন করতে হবে।
সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা মানব পাচার প্রতিরোধে জাতীয় কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নকে দেশের জন্য উল্লেখযোগ্য অর্জন অভিহিত করে বলেন, এর বাস্তবায়নের উপরই পাচার প্রতিরোধে সাফল্য নির্ভর করছে। কারণ এই পরিকল্পনার আওতায় সরকার, সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ জনগনের জন্য পৃথক ভূমিকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যে যার জায়গা থেকে এই ভূমিকাগুলি সঠিকভাবে পালন করতে পারলে মানব পাচার প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে।