যুক্তরাষ্ট্রে কারফিউয়ে থামছে না বিক্ষোভ


148 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
যুক্তরাষ্ট্রে কারফিউয়ে থামছে না বিক্ষোভ
জুন ৪, ২০২০ প্রবাস ভাবনা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশি নিপীড়ন, বৈষম্য ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছেই। টানা নবম দিনের মতো স্থানীয় সময় বুধবারও সবগুলো শহরে হয়েছে বিক্ষোভ। তবে এদিন বেশিরভাগ জায়গায় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আন্দোলনকারীরা কারফিউয়ের পরোয়া না করেই রাজপথে বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন।

সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত কয়েকদিনের তুলনায় বুধবার কম সংঘর্ষ ও গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটেছে। সন্ধ্যায় কারফিউ শুরু হওয়ার পরও আটলান্টা, ওয়াশিংটন, সিয়াটলের মতো শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। সিয়াটলের মেয়র কারফিউ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন। নিউইয়র্কে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষ হয়েছে। এদিন ৯০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলেছে, শহর আগের তুলনায় এখন অনেক শান্ত। এর আগে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে সান ফ্রান্সিসকোতে পুলিশের গুলিতে এক তরুণ নিহত হয়েছেন।

মিনিয়াপোলিসে গত ২৫ মে জর্জ ফ্লয়েড নামের এক কৃষ্ণাঙ্গ ব্যক্তি পুলিশের হাতে খুন হওয়ার পর থেকে বর্ণবাদবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে যুক্তরাষ্ট্র। ডেরেক চাওভিন নামের যে শ্বেতাঙ্গ পুলিশ সদস্য ফ্লয়েডের ঘাড়ে হাঁটু চেপে রেখেছিলেন তাকে আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রায় ৯ মিনিট ধরে চাওভিন ফ্লয়েডের ঘাড়ে হাঁটু চেপে রেখেছিলেন। এতে শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যান ফ্লয়েড। আরও তিন পুলিশ সদস্য এ ঘটনায় জড়িত ছিলেন। তাদের গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়ে আসছিলেন বিক্ষোভকারীরা। বুধবার এদের প্রত্যেককেই ফ্লয়েড হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

আটলান্টায় অতিরিক্ত বল প্রয়োগের অভিযোগে ছয় পুলিশ কর্মকর্তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

চলমান বিক্ষোভ দমনে সেনা অভিযানের ঘোষণা নিয়ে খোদ ট্রাম্প প্রশাসনের মধ্যেই বিভক্তি দেখা গেছে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী মার্ক এসপার বিক্ষোভ দমনে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে একমত নন। অনেকে মনে করেন, এই মতবিরোধিতার জেরে এসপারকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিতে পারেন ট্রাম্প। সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেমস ম্যাটিস বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে ট্রাম্পই প্রথম প্রেসিডেন্ট যিনি দেশের মানুষের মধ্যে ঐক্যের বদলে বিভক্তি সৃষ্টি করেছেন।’ সিরিয়া থেকে সেনা প্রত্যাহার নিয়ে মতবিরোধের জেরে ম্যাটিসকে বহিষ্কার করেছিলেন ট্রাম্প।

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফ্লয়েডের ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, গত এপ্রিলে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছিলেন তিনি। তবে তার মৃত্যুতে ভাইরাসের কোনো প্রভাব ছিল না। এর আগে আরও দু’টি ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে, ফ্লয়েডের মৃত্যুক হত্যাকাণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

বার্তা সংস্থা এপির বরাত দিয়ে আলজাজিরা জানিয়েছে, গত ৯ দিনের বিক্ষোভ থেকে ৯ হাজার ৩০০ আন্দোলনকারীকে গ্রেপ্তার করেছে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সবচেয়ে বেশি দুই হাজার ৭০০ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন লস অ্যাঞ্জেলসে। নিউইয়র্কে গ্রেপ্তার হয়েছেন দেড় হাজার বিক্ষোভকারী। এ ছাড়া ডালাস, হিউস্টন, ফিলাডেলফিয়ার মতো শহরগুলো থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে শত শত মানুষকে। তবে প্রকৃত গ্রেপ্তারের সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।