‘রং ফর্সার’ ৮ ক্রিমে বিপজ্জনক মাত্রায় পারদ


227 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘রং ফর্সার’ ৮ ক্রিমে বিপজ্জনক মাত্রায় পারদ
মার্চ ২, ২০২০ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

রং ফর্সা করে দাবি করা আটটি ক্রিমে মাত্রাতিরিক্ত পারদ (মার্কারি) ও হাইড্রোকুইনোনের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। মান নিয়ন্ত্রণকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) তাদের ল্যাবে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১৩টি ক্রিম পরীক্ষার পর এ তথ্য জানিয়েছে। এর মধ্যে ৬টি স্কিন ক্রিমে বিপজ্জনক মাত্রায় ক্ষতিকর পারদ (মার্কারি) এবং দুটি ব্র্যান্ডের ক্রিমে পারদ ও হাইড্রোকুইনোন উভয়ের উপস্থিতি পাওয়অ গেছে।

সোমবার গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিএসটিআই। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এসব ক্রিম বিক্রি-বিতরণ বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে তারা।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পাকিস্তানে উৎপাদিত গৌরী কসমেটিকস (প্রা.) লিমিটেডের গৌরী ব্র্যান্ডের স্কিন ক্রিমে মার্কারির মাত্রা ৭৫৫ দশমিক ৮৫ পিপিএম; এসজে এন্টারপ্রাইজের চাঁদনী ব্র্যান্ডের স্কিন ক্রিমে মার্কারির মাত্রা ৬২৯ দশমিক ৯৬ পিপিএম; কিউসি ইন্টারন্যাশনালের নিউ ফেস ব্র্যান্ডের স্কিন ক্রিমে মার্কারির মাত্রা ৫৯০ দশমিক ৩৮ পিপিএম; ক্রিয়েটিভ কসমেটিকস (প্রা.) লিমিটেডের ডিউ ব্র্যান্ডের স্কিন ক্রিমে মার্কারির মাত্রা ২৮৫ দশমিক ৮৮ পিপিএম; গোল্ডেন পার্ল কসমেটিকস প্রাইভেট লিমিটেডের গোল্ডেন পার্ল ব্র্যান্ডের স্কিন ক্রিমে মার্কারির মাত্রা ৬৫৪ দশমিক ১৩ পিপিএম; পুনিয়া ব্রাদার্স (প্রা.) লিমিটেডের ফাইজা ব্র্যান্ডের স্কিন ক্রিমে মার্কারির মাত্রা ৫৯০ দশমিক ৪৫ পিপিএম; নুর গোল্ড কসমেটিকসের নুর ব্র্যান্ডের স্কিন ক্রিমে মার্কারির মাত্রা ১৯৩ দশমিক ৬৮ পিপিএম ও হাইড্রোকুইনোনের মাত্রা ১৯৮০ দশমিক ৬৮ পিপিএম মিলেছে। এছাড়া হোয়াইট পার্ল কসমেটিকসের হোয়াইট পার্ল প্লাস ব্র্যান্ডের স্কিন ক্রিমে মার্কারির মাত্রা ৯৪৮ দশমিক ৯৩ পিপিএম ও হাইড্রোকুইনোনের মাত্রা ৪৩৪ দশমিক ৭৩ পিপিএম পাওয়া গেছে।

স্কিন ক্রিমের সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশ মান (বিডিএস ১৩৮২:২০১৯)-এ মার্কারির গ্রহণযোগ্য সর্বোচ্চ মাত্রা ১ পিপিএম এবং হাইড্রোকুইনোনের গ্রহণযোগ্য সর্বোচ্চ মাত্রা ৫ পিপিএম। মাত্রাতিরিক্ত মার্কারি (পারদ) ও হাইড্রোকুইনোনযুক্ত এসব ক্রিম দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগসহ বিভিন্ন জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে।

নিয়মিত সার্ভিল্যান্স টিমের মাধ্যমে বাজার থেকে এসব ব্র্যান্ডের পণ্য কিনে বিএসটিআইর ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষা করা হয় বলে জানানো হয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

বিএসটিআইয়ের পরিচালক (সিএম) প্রকৌশলী সাজ্জাদুল বারী সমকালকে বলেন, বিএসটিআই এর ল্যাবে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ১৩টি ক্রিম পরীক্ষা করা হয়েছে। এরমধ্যে নাম করা অনেকগুলো ক্রিম আছে। তবে ৬টি স্কিন ক্রিমে বিপজ্জনক মাত্রায় ক্ষতিকর পারদ এবং দুটি ব্র্যান্ডের ক্রিমে পারদ (মার্কারি) ও হাইড্রোকুইনোন উভয়ের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।

তিনি বলেন, জনস্বাস্থ্য রক্ষার স্বার্থে মাত্রাতিরিক্ত পারদযুক্ত এসব রং ফর্সাকারী ক্রিম বিক্রি-বিতরণ বন্ধে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তা না হলে আমদানিকারক, সরবরাহকারী ও বিক্রেতাদের (অনলাইনসহ) বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একইসঙ্গে বিএসটিআইয়ের অনুমোদনহীন এসব স্কিন ক্রিম ব্যবহার হতে বিরত থাকার জন্য ক্রেতা সাধারণকে অনুরোধ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে এসব ক্ষতিকারক ক্রিম বন্ধে বিএসটিআই অভিযান পরিচালনা করবে।