রমজান মাস মহিমান্বিত ও গৌরবময়


167 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
রমজান মাস মহিমান্বিত ও গৌরবময়
এপ্রিল ২৪, ২০২০ শিক্ষা সাতক্ষীরা সদর
Print Friendly, PDF & Email

॥ আব্দুর রহমান ॥

ইসলাম হচ্ছে আল্লাহ প্রদত্ত একটি পুর্নাঙ্গ এবং আধুনিক জীবন ব্যবস্থা। ইসলাম যে পাঁচটি বুনিয়াদের উপর প্রতিষ্ঠিত তার অন্যতম হচ্ছে রমজান মাসের রোযা। আর এই রোযার বিধান আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনের সূরা বাকারার ১৮৩ নং আয়াতের মাধ্যমে নাজিল করেন। ইরশাদ হচ্ছে ‘‘হে ইমানদারগন ! তোমাদের উপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেমন তোমাদের পূর্ববর্তী গনের উপর ফরজ করা হয়েছিল যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার”। এই আয়াতে কারিমার দ্বারা স্পষ্ট হয় যে, সব নবীদের উপরই রোজা ফরজ ছিল। সর্বযুগের সর্বশ্রেষ্ট ও অপরিবর্তনীয় বিশ্বমানবতার মুক্তি সনদ আল কোরআন যে মাসে নাজিল হয় সে মাসের পবিত্রতা ও মহিমা নিঃসন্দেহে অতুলনীয়। শুধু কোরআনই নয় রমজান মাসের বিভিন্ন তারিখে নাজিল হয় সকল আসমানী কিতাব। বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সঃ) দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষনা করেছেন – যে, রমজান মাসে বেহেস্তের দরজা গুলো খুলে দেয়া হয়, জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ করা হয় এবং শয়তানকে শৃংখলিত করা হয় (বুখারী ও মুসলীম)। রমজান শব্দটি এসেছে রমজ ধাতু থেকে আর রমজ শব্দের অর্থ হল জালিয়ে দেয়া, দগ্ধ করা। রমজানের রোজা মানুষের মনের কলুষ কালিমা পুড়িয়ে নষ্ট করে দিয়ে মনকে নির্মল ও পবিত্র করে তোলে। পাপ রাশিকে সম্পূর্ন রূপে দগ্ধ করে মানুষেকে করে তোলে পূন্যবান। রোজা ফারসী শব্দ আরবী ভাষায় রোজাকে সিয়াম বলা হয়। সাওম শব্দের বহু বচন হল সিয়াম। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পানাহার থেকে বিরত থাকা ও সংযম পালনকে ইসলামে রোজা বা সিয়াম নামে অভিহিত করা হয়। কিন্তু শুধু মাত্র খাদ্য ও পানীয় পরিহার করাই সিয়াম সাধনার আসল উদেশ্য নয়। সিয়াম এর আসল উদেশ্য হলো তাকওয়া অর্জন। হযরত উমর (রাঃ) কাব আল আহবার (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করেন, তাকওয়া কি? উত্তরে কা’ব (রাঃ) জিজ্ঞাসা করেন, আপনি যখন কণ্টকাকীর্ন পথে চলেন তখন কি পন্থা অবলম্বন করেন? হযরত উমর (রাঃ) বললেন, আমি সতর্ক হয়ে কাপড় গুটিয়ে চলি। কা’ব (রাঃ) বলেন ইহাই তাকওয়া। এককথায় সকল অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে আল্লাহর বিধান বহির্ভূত কাজ থেকে ফিরিয়ে তাঁর নির্দেশিত পন্থায় পরিচালিত করার নামই তাকওয়া। হযরত মুহাম্মদ (সঃ) ইরশাদ করেন, “যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা বা অন্যায় কাজ কর্ম পরিত্যাগ করল না, তার শুধুমাত্র খানা-পিনা পরিত্যাগ করায় আল্লাহর কোন প্রয়োজন নেই”। এ ধরনের হতভাগ্য রোজাদারদের প্রসঙ্গে তিনি আরো ইরশাদ করেন, ‘‘ অনেক রোজাদার এমন আছে যাদের ভাগ্যে পিপাসা ছাড়া অন্য কিছু জোটেনা আর অনেক রাত্রি জাগরণকারী আছে যারা রাত্রি জাগরন ব্যতীত আর কিছুই লাভ করতে পারে না”। যে ব্যক্তি আল্লাহর নৈকট্য লাভের উদ্দেশ্য এ মাসে একটি নফল কাজ করবে, সে অন্য মাসে একটি ফরজ আদায় করার সমান সওয়াব পাবে। আর যে ব্যক্তি এই মাসে একটি ফরজ আদায় করবে সে অন্য মাসের সত্তরটি ফরজ আদায়ের সমান সওয়াব লাভ করবে। এটা ধৈর্য্যরে মাস আর ধৈর্য্যরে প্রতিদান হচ্ছে জান্নাত। রমজান মহিমান্বিত মাস হওয়ার কারণ : পবিত্র কোরআনের সূরা বাকারার ১৮৫ নং আয়াতে আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, “ রমজান মাস যাতে নাজিল করা হয়েছে কোরআন। যা মানুষের হেদায়াতের জন্য এবং হেদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শন আর সত্য মিথ্যার পার্থক্যকারী”। ৬১০ খৃষ্টাব্দে রমজান মাসে কোরআন মাজিদ নাজিলের সূচনা হয় এবং বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে প্রয়োজন অনুসারে দীর্ঘ ২৩ বছর ধরে কুরআনে কারীম নাযিল হয়। আর রমজান মাস কুরআন নাযিলের কারণেই সম্মানিত ও গৌরবময়। এখানে একটি বিষয় সুস্পষ্ট যে, রমজান মাস বেশি বেশি কুরআন অনুশীলনের মাস। এ মাসে অধিক কুরআন তেলাওয়াত, কুরআন অধ্যায়ন এবং সামগ্রিক জীবনে কুরআনের বিধান অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করার অভ্যাস গড়ে তোলা। তবেই সিয়াম সাধনা স্বার্থক হবে। মনে রাখতে হবে কুরআনের অনুশীলন ছাড়া শুধু রোজা পালন, রোজাদারের জন্য তেমন কোন সুফল বয়ে আনতে পারবে না। রমজান হচ্ছে সহমর্মিতার মাস, এমন একটি মাস যাতে মুমিনের রিযিক বাড়ীয়ে দেওয়া হয়। যে ব্যক্তি একজন রোজাদারকে ইফতার করাবে সে একটি কবুল রোজার সওয়াব পাবে কিন্তু রোজাদারের রোজার সওয়াব থেকে একটুও কমবে না। সাহাবায়ে কেরাম বললেন ইয়া রাসুলুল্লাহ (সঃ) আমাদের মধ্যে অনেকেই রোজাদারদের ইফতার করানোর সামর্থ নেই। হযরত রাসুল (সঃ) বললেন পেটভরে খাওয়াতে হবে এমনটি নয়। এক চুমুক দুধ অথবা একটি খেজুর কিংবা এক ঢোক পানি দ্বারা ইফতার করালেই আল্লাহ তায়ালা তাকে সওয়াব দান করবেন। আর যে ব্যক্তি কোন রোজাদারকে তৃপ্তি সহকারে খাওয়াবে আল্লাহ তায়ালা তাকে আমার হাউজ (হাউজে কাউছার) থেকে পানি পান করাবেন। যার ফলে সে জান্নাতে প্রবেশ করার আগ পর্যন্ত পিপাসার্ত হবে না। এ মাসের প্রথমাংশ রহমত, মধ্যাংশ মাগফিরাত এবং শেষাংশ নাজাত। আর যে ব্যক্তি এ মাসে অধিনস্তদের কাজের ভার লাঘব করে দেবে আল্লাহ তায়ালা তাকে মাফ করে দেবেন। এবং দোজখ থেকে তাকে নাজাত দেবেন। মহানবী (সঃ) বলেছেন, রোজাদার দুটি সন্তুষ্টি উপভোগ করবে, আর তার মধ্যে একটি দৈাহিক ইফতারের সময় আরেকটি পরকালে আল্লাহর সহিত দিদার লাভের সময় উপভোগ করবে। নবী করিম (সঃ) উল্লেখ করেছেন রোজা ঢাল স্বরূপ যখন রোজা এসে উপস্থিত হয় তখন তোমরা অশ্লিল ভাষা এবং উচ্চ স্বরে চিৎকার করা থেকে বিরত থাকবে। রাসূল (সঃ) ইরশাদ করেন বেহেশতে রাইয়ান নামক একটি দরজা রয়েছে যে দরজা দিয়ে শুধু মাত্র রোজাদার গণই প্রবেশ করবে। সিয়াম আল্লাহর নৈকট্য লাভের অন্যতম মাধ্যম। সিয়াম পালনের মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি অর্জনের পাশাপশি দৈহিক উন্নতি সাধিত হয়। অতএব আমাদের উচিত যথাযথ ভাবে সিয়াম পালন করা।

#

লেখক : গনমাধ্যমকর্মী।