রাইস ব্রান ও সরিষার তেল উৎপাদন বাড়ানোর চিন্তা হচ্ছে : বাণিজ্যমন্ত্রী


119 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
রাইস ব্রান ও সরিষার তেল উৎপাদন বাড়ানোর চিন্তা হচ্ছে : বাণিজ্যমন্ত্রী
মে ১৮, ২০২২ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সয়াবিন তেলের নির্ভরশীলতা কমাতে দেশীয় যোগানের রাইস ব্রান ও সরিষার তেলের উৎপাদন বাড়ানোর চিন্তা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেন, আমাদের বার্ষিক চাহিদার ৯০ ভাগ ভোজ্যতেল আন্তর্জাতিক বাজার থেকে আমদানি করতে হয়। পাম তেল ও সয়াবিন তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দেশীয় জোগানের রাইস ব্রান ও সরিষার তেল উৎপাদন বাড়ানো যায় কিনা সেটা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বুধবার দুপুরে দ্রব্যমূল্য ও বাজার মনিটরিং সংক্রান্ত টাস্কফোর্স কমিটির দ্বিতীয় সভার বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মন্ত্রী এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় মন্ত্রী সয়াবিন তেল, গম ও লবণ নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা ও বাজার পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, দেশে এখন ৫০ থেকে ৬০ হাজার টন রাইস ব্রান্ড উৎপাদন হয়। এটা খুব সহজেই ৭ লাখ টনে উন্নীত করা সম্ভব। সেক্ষেত্রে রাইস ব্রানের সুফল সম্পর্কে প্রচার করতে হবে। ডাক্তারদের এ নিয়ে কথা বলতে হবে। পাশাপাশি সরিষার উৎপাদন বাড়ানোর সম্ভাবনার কথাও কৃষি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে সয়াবিন তেলের দাম বাড়ার কারণে অভ্যন্তরীণ বাজারে সংকট তৈরি হয়েছে। এই সংকট সরকার এবং ব্যবসায়ী ও ভোক্তাদের মিলেমিশে সমাধান করতে হবে বলে মনে করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

টিপ মুনশি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বৃদ্ধির ফলে দেশের বাজারে সয়াবিনের দাম বেড়েছে। এখন আলোচনায় এসেছে এর বিকল্প কি করা যেতে পারে। রাইস ব্র্যান অয়েল নিয়ে ভাবছি। এক পর্যালোচনায় দেখা গেছে ধানের কুড়া পাওয়া যায় তা থেকে সাত লাখ টন তেল উৎপাদন সম্ভব। বর্তমানে ৬০ হাজার টন রাইস ব্র্যান অয়েল উৎপাদন হয় যার কিছু অংশ দেশে বিক্রি হয়, কিছু রপ্তানি হয়। এখন অভ্যন্তরীণ বাজারের জন্য উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপার।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, খবর রটেছে যে, ভারত গম রপ্তানি বন্ধ করেছে। কিন্তু আমি হাইকমিশনের সঙ্গে আলাপ করে জেনেছি- বাংলাদেশের জন্য রপ্তানি বন্ধ হয়নি। জিটুজি ভিত্তিতে আমদানি চালু রয়েছে। পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে বাংলাদেশি কোনো ব্যবসায়ী আমদানি করতে চাইলে সেই সুযোগ করে দেওয়া হবে। এছাড়া দেশে গমের বর্তমান যে মজুদ রয়েছে তা দিয়ে সহসা কোনো সংকট হওয়ার কথা নয়।

পেঁয়াজের উৎপাদন খরচ কেজি প্রতি ২০ থেকে ২২ টাকা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এর বাইরে বড় পরিমাণের পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যায়। এখন আমাদের ভাবনার বিষয় হচ্ছে আমরা কত দামে পেঁয়াজ খাব। কৃষকদের ও কিছু প্রণোদনা দিতে হবে তাহলে তারা উৎপাদন বাড়াবে। গতবছর কৃষক পেঁয়াজের ভাল দাম পেয়ে এবার আড়াই লাখ টন উৎপাদন বাড়িয়েছে। পেঁয়াজের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে আমরা সতর্ক আছি। এখন আমদানি অনুমোদন বন্ধ করা আছে। প্রয়োজন হলে সেটা চালু করে দেয়া হবে।

প্রতিবেশী দেশের তুলনায় দেশের লবণের দাম বেশি বলে বৈঠকে ক্লাবের পক্ষ থেকে জানানো হলে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়ে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বসে বিস্তারিত আলাপ আলোচনা করা হবে।

আন্তর্জাতিক বাজারে বেশ কিছু ভোগ্য পণ্যের দাম বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে অভ্যন্তরীণ বাজারে যে সংকট সৃষ্টি হয়েছে তা মোকাবিলায় সবাইকে মিলেমিশে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

বাণিজ্যসচিব তপন কান্তি ঘোষ, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এসএইএম সফিকুজ্জামান, টিসিবির চেয়ারম্যান ব্রি. জে. আরিফুল ইসলাম ও বিভিন্ন খাতের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি ও মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।