রাজকোটে ইতিহাস হলো না


206 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
রাজকোটে ইতিহাস হলো না
নভেম্বর ৮, ২০১৯ খেলা ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

স্বপ্ন বেঁচে থাক নাগপুরে

বাংলাদেশ-ভারত দ্বিতীয় টি২০

অনলাইন ডেস্ক ::

ভেতরে উদ্যম ছিল। প্রত্যাশা ছিল বড়। চাওয়া ছিল সিরিজ জয়ের। এই তিনকে এক সুতোয় বেঁধে রাজকোটের সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি২০ ম্যাচে জয়ের স্বপ্ন নিয়ে নেমেছিল বাংলাদেশ। কিন্তু জানা ছিল না, সুতোর বাঁধন হালকা। স্বাগতিক বোলারদের টানেই খুলে গেল গিঁট! ব্যাটিংস্বর্গেও তাই স্কোর হলো ৬ উইকেটে ১৫৩। এই পুঁজি রক্ষা করার মতো বোলিংয়েও জোর ছিল না। উপরন্তু ভারত করল বিস্ম্ফোরক ব্যাটিং। রোহিত শর্মার কথাই প্রমাণ হলো, কন্ডিশনের সুবিধা পেলে বড় শটস খেলে জিততে জানেন তারা। রাজকোটে শেষ পর্যন্ত জয় পেল স্বাগতিকরাই। সিরিজ এগিয়ে গেল ১-১ সমতায়। নিষ্পত্তির অপেক্ষা বাড়ল নাগপুর পর্যন্ত। সিরিজ জয়ের স্বপ্নের প্রদীপে আলো জ্বেলে রাখল দুই শিবিরই।

বাংলাদেশের ভিডিও অ্যানালিস্ট শ্রীনিবাসন চন্দ্রশেখর ম্যাচের আগের দিন স্কোর বিশ্নেষণ করে জানিয়ে ছিলেন, সৌরাষ্ট্র স্টেডিয়ামের ইনিংস গড় স্কোর ১৭৫ রান। সেদিক থেকে ২২ রান কম করেছে বাংলাদেশ। এ সুযোগ ভালোমতোই কাজে লাগায় ভারত। ১৫৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করে ২৬ বল হাতে রেখে ৮ উইকেটে ম্যাচ জেতা তারা। ভারত অধিনায়ক রোহিত শর্মা ৪৩ বলে ৮৫ রানের সাইক্লোন ইনিংস খেলেন। ছয়টি করে চার-ছক্কা হাঁকিয়ে স্ট্রাইকরেট ১৯৭.৬৭। লেগস্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লবের বলে আউট হওয়ার আগে টার্গেট স্কোরের অর্ধেকেরও বেশি যোগ করেন তিনি। শেখর ধাওয়ানও বিপ্লবের শিকার। তিনি খেলেন ৩১ রানের ইনিংস। ম্যাচের ইতি টানেন শ্রেয়াশ আয়ার ১৩ বলে ২৪ রানের ঝড় তুলে।

ব্যাটিংয়ের শুরু থেকেই মারমুখো ছিলেন রোহিত। শেখরকে সহায়ক ভূমিকায় রেখে বড় শটস খেলছিলেন তিনি। আইপিএলে খেলার সুবাদে মুস্তাফিজুর রহমানের বোলিংয়ের আদ্যোপান্ত জানা রোহিতের। তার দল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সেই তো শেষ খেলেছেন বাঁহাতি এই পেসার। গতকাল সামনে পেয়ে তাই একচোট পেটালেন কাটার-স্লোয়ারম্যানকে। বাঁহাতি এ পেসারের প্রথম ২ ওভার থেকে স্বাগতিকরা নিল ২৫ রান। আল-আমিন হোসেন চার ওভার শেষ করেন ৩২ রানে। বিপ্লব ২৯ রান দিয়ে নেন দুই উইকেট। আসলে ব্যাটসম্যানদের স্বর্গে বোলারদের কী-ই বা করার থাকে।

টি২০ ম্যাচের ইনিংস বিশ্নেষণ করা হয় তিন ভাগে- পাওয়ার প্লে, মাঝের নয় ও শেষের পাঁচ ওভার। রোহিত শর্মা ম্যাচপূর্ব সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, এই বিশ্নেষণ ধরেই দ্বিতীয় টি২০ ম্যাচের ব্যাটিং ও বোলিং কার্যকর করতে চান। বাংলাদেশ দলও একইভাবে ইনিংস বিভাজন করে। সে হিসেবে ব্যাটিংয়ের পাওয়ার প্লেতে দারুণ সফল টাইগাররা। কিন্তু পরের দুই ভাগের শাসক ভারত, অর্থাৎ বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ের ১৪ ওভার বোলিং দল প্রভাব বিস্তার করেছে। ওপেনিং জুটিতে লিটন কুমার দাস ও নাঈম শেখ টি২০-এর আদর্শ ব্যাটিং দেখান। ছয় ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫৪ রান তোলে। পাওয়ার প্লেতে ওভারপ্রতি রান ছিল ৯। ওপেনিং জুটি ভাঙে ৬০ রানে। মাঝের ৯ ওভারে ছন্দটা ধরে রাখা গেলে স্কোরবোর্ডটা হূষ্টপুষ্ট হতে পারত। সেখানে মাঝের ৯ ওভার থেকে ৫২ রান যোগ করতে গুরুত্বপূর্ণ চার উইকেট হারায় বাংলাদেশ। ওপেনিংয়ের পর একটিও বড় জুটি হয়নি। ইনিংসের ১৫ ওভারেই ব্যাকফুটে যেতে থাকে টাইগার বাহিনী। জয়ের স্বপ্ন দূরে সরে যেতে থাকে। ক্লান্ত পথিকের মতো শেষ পাঁচ ওভার পাড়ি দেন মাহমুদুল্লাহরা। স্লগের পাঁচ ওভার থেকে ৪১ রান তোলে দুই উইকেট হারিয়ে।

দিল্লিতে ওপেনিং জুটি গড়তে না পারলে দ্বিতীয় ও তৃতীয় উইকেট জুটি টাইগারদের জয়ের বন্দরে নিয়ে গেছে। প্রথম ম্যাচে সৌম্য সরকার আর মুশফিকুর রহিম ছিলেন দুর্দান্ত ছন্দে। গতকাল সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বড় জুটি হয়নি এ দু’জনের। সৌম্য ২০ বলে ৩০ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলে দিলেও মুশফিককে উইকেটে থিতু হতে পারেননি। মাহমুদুল্লাহর ২১ বলে ৩০ রানের ইনিংসটিও স্কোর বাড়াতে কার্যকর ছিল। কিন্তু বাকি ব্যাটসম্যানদের কাছ থেকে সেভাবে সাপোর্ট না পাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত রানে যাওয়া হয়নি বাংলাদেশের। অথচ লিটন দাস ও নাঈম কী দারুণ শুরু এনে দিয়েছিলেন।

লিটন-নাঈম দেখেশুনে শুরু করেন। প্রথম ওভারের শেষ বলে বাউন্ডারি হাঁকান লিটন। পরের ওভারে পরপর তিন বাউন্ডারি মেরে খলিল আহমেদকে চাপে ফেলেন নাঈম। ওই ওভার থেকে ১৪ রান যোগ করলে ভালো কিছুর ইঙ্গিত মেলে। ষষ্ঠ ওভারে উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান রিশভ পান্তের ভুলে জীবন পাওয়া লিটন বিধ্বংসী হয়ে ওঠার চেষ্টা করছিলেন। কিন্তু সপ্তম ওভারে রানআউট হলে ‘মহা’র মতো লিটন-ঝড়ও থেমে যায় তাণ্ডব চালানোর আগেই। ১৭ ও ২৬ রানে দুবার জীবন পেলেও লিটন হয়ে থাকলেন ছোট ইনিংসের ব্যাটসম্যান। ২২ গজে আর একটু মস্তিস্ক দিয়ে খেললে ভালো করতেন টি২০-এর এই ওপেনার।

লিটন না পারলেও নবাগত নাঈম শেখ ঠিকই ৩১ বলে ৩৬ রানের ইনিংস উপহার দেন। বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানকে ক্রিজে একবারের জন্যও মনে হয়নি, জীবনের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ম্যাচে ব্যাট করছেন ভারতের বিপক্ষে। স্বাগতিকদের শক্তিশালী বোলিং দেখে একটুও ঘাবড়ে যেতে দেখা যায়নি ২০ বছর বয়সী এ ওপেনারকে; বরং স্বাগতিক বোলারদের কাছ থেকে সম্মানটা আদায় করে নেন ফরিদপুরের এই তরুণ। দিল্লিতে জীবনের প্রথম আন্তর্জাতিক ম্যাচে ২৩ রান করা নাঈম দ্বিতীয় ম্যাচে খেলেন ত্রিশোর্ধ্ব ইনিংস। ওপেনিং জুটিতে ৬০ রানের জোগানের প্রধান কারিগর তিনি। ছন্দে থাকা সৌম্য সরকার যেটুকু সময় ক্রিজে ছিলেন, দায়িত্ব নিয়ে খেলেছেন। আর কিছুটা সময় ক্রিজে থাকতে পারলে রাজকোটে লেখা যেত সৌম্যনামা। এরপরও যেভাবে খেলে গেছেন, তাতে কোচিং স্টাফের কাছ থেকে প্রশংসা পাওয়ার দাবি রাখেন।

টাইগারদের ইনিংস কাঙ্ক্ষিত রানে যেতে না পারার অন্যতম কারণ স্লগ ওভারের ব্যাটসম্যানদের কেউই বিধ্বংসী হতে পারেননি। আফিফ হাসান, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব হয়তো ভুলে গিয়েছিলেন টি২০-এর স্লগে ব্যাট করছেন তারা। হাতে শট থাকার পরও মোসাদ্দেক ৯ বল খেলে অপরাজিত থাকেন ৭ রানে; স্ট্রাইকরেট ৭৭.৭৭। ছয় বলে ৮ করা আফিফের স্ট্রাইকরেট আরও কম- ৭৫.০০। অথচ ভালো টি২০ দলের স্লগ ওভার ব্যাটসম্যানরা স্ট্রাইকরেট রাখেন দেড়শ’ থেকে দুইশ’র কাছাকাছি। এদিন ভারতের বোলাররাও ভালো স্পেল করেন। খলিল ছাড়া কোনো বোলারই ব্যাটসম্যানদের চড়াও হওয়ার সুযোগ দেননি।