রাজধানীতে পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ-কাঁদানে গ্যাস


109 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
রাজধানীতে পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ-কাঁদানে গ্যাস
ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২১ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

অনলাইন ডেস্ক ::

রাজধানীতে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ছাত্রদলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। নেতাকর্মীদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস ছুড়েছে পুলিশ। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল মেরেছেন নেতাকর্মীরা।

রোববার সকাল সোয়া ১১টার দিকে এ সংঘর্ষ শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, কর্মসূচি ঘিরে সকাল ১০টার দিক থেকে ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা প্রেসক্লাব এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। সোয়া ১১টার দিকে তারা রাস্তায় নামেন।

তখন তাদের বাধা দেয় পুলিশ। একপর্যায়ে পুলিশ লাঠিপেটা শুরু করে। পুলিশের লাঠিপেটায় নেতাকর্মীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। তারপর নেতাকর্মীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছুড়তে থাকেন। ভাঙচুর করেন আশপাশে। তখন তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ ফাঁকা গুলি ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে। নেতাকর্মীদের যাকে সামনে পায়, তাকে লাঠিপেটা করে। চলে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাবন্দি অবস্থায় লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যু ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কেন্দ্রীয় ছাত্রদল বিক্ষোভ সমাবেশ ডাক দিয়েছিল। জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশটি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সমাবেশ শুরুর আগেই পুলিশের সঙ্গে ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষে সমাবেশটি পণ্ড হয়ে যায়।

পূর্বঘোষণা অনুযায়ী রোববার সকাল ১০টার দিকে ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা জাতীয় প্রেসক্লাব ও তার আশপাশের এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। সকাল ১১টার পর নেতাকর্মীদের একটি অংশ প্রেসক্লাবের ভেতর থেকে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা করে। তাদের বাধা দেয় পুলিশ। একপর্যায়ে ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী বেরিয়ে সড়কে বসে পড়েন। এ সময় পুলিশ তাদের লাঠিপেটা করে তুলে দেয়। তারপরই এলাকায় উপস্থিত ছাত্রদল ও বিএনপির নেতাকর্মীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ছাত্রদল-বিএনপির নেতাকর্মী, পুলিশ ও সাংবাদিক রয়েছেন।

ছাত্রদলের এ সমাবেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের আসার কথা ছিল। এছাড়া ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। ছাত্রদলের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি ফজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন, ঢাকা দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক এমএ গাফফারসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার নেতা আনিসুর রহমান খন্দকার অনীক বলেন, লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদ, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিল, জিয়াউর রহমানের খেতাব বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ছাত্রদলের বিক্ষোভ সমাবেশের কর্মসূচি ছিল। কর্মসূচি পালনের জন্য জাতীয় প্রেসক্লাবের ভেতরে প্রায় ৫০০ নেতাকর্মী জড়ো হয়েছিলেন। সকাল ১১টার পর হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের নেতৃত্বে তারা বের হওয়ার চেষ্টা করেন। তখন পুলিশ তাদের ভেতরে ঢুকিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। নেতাকর্মীরা বের হওয়া মাত্রই পুলিশ বেপরোয়া লাঠিপেটা শুরু করে। এরপর কাঁদানে গ্যাসের শেল ও গুলি ছুড়ে। বিএনপি-ছাত্রদলের অনেকে আহত হয়েছেন। তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহত নেতাকর্মীদের মধ্যে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সভাপতি হাবিব-উন-নবী খান সোহেল, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মামুন খান, ছাত্রদলের যুগ্ম সম্পাদক করিম প্রধান ও ইডেন কলেজের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক জান্নাত জাহান রয়েছেন।

তবে পুলিশ বলছে, ছাত্রদলের সমাবেশ করার অনুমতি ছিল না। কেউ জাতীয় প্রেসক্লাবের ভেতরে অনুমতি ছাড়া অনুষ্ঠান করতে পারে। কিন্তু জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনের গুরুত্বপূর্ণ সড়কে অনুমতি ছাড়া সমাবেশ করা যাবে না।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের ডিসি সাজ্জাদুর রহমান বলেন, এখানে সমাবেশ করার জন্য ছাত্রদল কোনো অনুমতি নেয়নি। তারা অনুমতি না নিয়ে প্রেসক্লাবের ভেতর থেকে ৪০০ থেকে ৫০০ জন কর্মীসহ সড়কে নেমে পুলিশের ওপর হামলা করেছে। প্রেসক্লাবের ভেতর থেকে ইটপাটকেল ছুড়ে মারা হয়েছে। এ ঘটনায় পুলিশের সাত থেকে আটজন সদস্য আহত হয়েছেন। এছাড়া কয়েকজনকে হেফাজতে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

এ হামলাকে পূর্বপরিকল্পিত বলে দাবি করেন সাজ্জাদুর রহমান। তিনি বলেন, প্রেসক্লাবের ভেতরে এত ইট নেই। এত ইট এল কীভাবে? এ ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’