রাবি’র ভর্তি পরীক্ষা : থেমে নেই প্রতারক চক্র


321 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
রাবি’র ভর্তি পরীক্ষা : থেমে নেই প্রতারক চক্র
নভেম্বর ৮, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এ আর আশিক, রাবি প্রতিনিধি:
সোমবার থেকে রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ে শুরু হচ্ছে মেধাবীদের মেধার ভর্তি যুদ্ধ। ইতো:মধ্যে বিভিন্ন পাবলিক বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা শুরু এবং ফলাফলও বেরিয়েছে। এসব প্রতিযোগিতামূলক ভর্তি পরীক্ষায় একদল প্রতারক চত্র অসৎ উপায়ে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে করে একদিকে যেমন মেধাবীদের মেধার অবমূল্যয়ন এবং ভর্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অন্যদিকে কম মেধাবীরা টাকার বিনিময়ে ভর্তির সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে। এমনিভাবে চলতে থাকলে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো সময়ের ব্যবধানে মেধাশুন্য হয়ে পড়বে এবং জাতি মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে ব্যর্থ হবে। তবে প্রতি বছরের মত এ বছরও সক্রিয় রয়েয়ে প্রতারক চক্র। পরীক্ষার দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই সক্রিয় হয়ে উঠছে এসব প্রতারক চক্রগুলো। নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকার বিনিময়ে ভর্তির শতভাগ গ্যারান্টিও দিচ্ছে এসব চক্রের সদস্যরা।

ক্যাম্পাসের কয়েকটি সূত্রে জানা যায়, এ বছর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আসন্ন ভর্তি পরিক্ষাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী মেসগুলোতে অবস্থান নিয়েছে প্রতারক চক্রের একটি শক্তিশালী গ্রুপ। তারা তূলনামুলক কম মেধাবী ভর্তিচ্ছুদেরকে ভর্তি করার নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ফন্দি পেতেছে। জালিয়াতি চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন মেসে গিয়ে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে টাকার বিনিময়ে চান্স পাওয়ার শতভাগ গ্যারান্টিও দিচ্ছে বলে একাধিক ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী থেকে জানা যায়। তাছাড়া ভর্তি পরীক্ষার সময় আবাসিক হল ও পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে এসব চক্র ভূয়া প্রশ্নপত্র কেনা বেচা করে বলে বিশ্বস্থ সূত্র জানিয়েছে।

জানা যায়, ভর্তি পরীক্ষার আবেদন পত্র দুই পার্ট বিশিষ্ট হওয়ার কারণে তারা সহজেই প্রতারকরা এসব বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে বলে জানা গেছে। অথচ ঢাবিসহ অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রবেশপত্রের তিনটি অংশ করা হয়। একটি অংশে লেখা থাকে পরীক্ষার হলে যাচাই করার জন্য। শিক্ষক মন্ডলী পরীক্ষার হলে যাচাই করে থাকে। কিন্তু রাবিতে এই পদ্ধতি অবলম্বন করা হয় না বিধায় প্রতারক চক্র সুযোগ পাচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন।
এছাড়া রাবিতে ভর্তি পরীক্ষার্থীদের সিট বসানোর ক্ষেত্রেও কোন সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি নেই। হল রুমে এক বেঞ্চে গাদাগাদি করে পূর্বপরিচিত অথবা প্রতারক চক্রের সদস্যরা একই সাথে ৩/৪ জন করে বসে ইচ্ছেমত পরীক্ষা দিয়ে থাকেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাবি’র এক শিক্ষার্থী জানায়, রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থী এ প্রতারক চক্রের সাথে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। তারা প্রতি বছর ভর্তিচ্ছুদের প্রতারনার ফাঁেদ ফেলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। এ বছরও তারা অফার দেয় যে, প্রক্সি দেয়ার জন্য তাদের কয়েকজন শিক্ষার্থী লাগবে বিনিময়ে সে প্রতি প্রক্সি বাবদ ২০-২৫ হাজার টাকা করে দিবে। পরীক্ষার সময় যাতে কোন সমস্যা না হয় এ জন্য পরীক্ষার হলে ও বাইরে তার অনেক লোক থাকবে বলেও জানান তিনি।

প্রতি বছর ভর্তি পরীক্ষার সময় পুলিশের সহযোগীতায় রাবি প্রশাসন এসব প্রোক্সি ব্যবসার সাথে জড়িতদের বিপুল পরিমাণ অবৈধ কাগজপত্র ও সিলমোহরসহ আটক করলেও অজ্ঞাত কারণে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। ফলে প্রতারক চক্রের সদস্যরা এ বছরও সক্রিয়ভাবে প্রোক্সি ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠছে।

এবিষয়ে রাবি প্রো-ভিসি প্রফেসর চৌধুরী সারওয়ার জাহান বলেন, এবার বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে এবং সকল প্রকার জালিয়াতি ও অনিয়ম রোধ করতে বিশ^বিদ্যালয় কর্তপক্ষ বদ্ধপরিকর। কেউ যেন প্রতারনার মাধ্যমে পরীক্ষা দিতে না পারে সেজন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ব্যাবস্থা নেয়া হয়েছে। প্রতারক চক্রকে ধরতে কৌশলে গোয়েন্দা বিভাগ কাজ করছে বলে জানান তিনি।

ক্যাম্পাসের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দেখা যায়, পরীক্ষার্থীদের অনেকেই ক্যাম্পাসের বিভিন্ন আবাসিক হলগুলো, বিশ^বিদ্যালয় পাশর্^বর্তী বিভিন্ন মেস, বাসা বাড়ী ছাড়াও নগরীর বিভিন্ন স্থানে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকরা অবস্থান করছেন।

উল্লেখ্য, এবার রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষায় ৮টি ইউনিটে মোট ১,৬৬,৭৬৬ জন শিক্ষার্থী আবেদন করে এবং প্রতি আসনের জন্য ৪৩ জন শিক্ষার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এ বছর ৮টি অনুষদের অধীনে ৫০টি বিভাগে ৩৮২৮ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করানো হবে। এ ছাড়াও মুক্তিযোদ্ধা পুত্র/কন্য, শারিরিক প্রতিবন্ধী, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী কোটায় ৪৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির সুযোগ পাবে।