রাড়ুলী ভূবন মোহনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য চেয়ারম্যান মজিদ গোলদারের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র


207 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
রাড়ুলী ভূবন মোহনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য চেয়ারম্যান মজিদ গোলদারের বিরুদ্ধে নানা ষড়যন্ত্র
অক্টোবর ৩, ২০২০ খুলনা বিভাগ ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

এস, এম, আলাউদ্দিন সোহাগ ::

পাইকগাছার ঐতিহ্যবাহী রাড়ুলী ভূবন মোহনী মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের দাতা সদস্য ও ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ গোলদারের বিরুদ্ধে এলাকার একটি মহল চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্র করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। মহলের কতিপয় ব্যক্তিদের কারণে স্কুলের অভিভাবকরা বিভ্রান্ত হচ্ছে। অনেক অভিভাবকদের ভুলবুঝিয়ে দাতা সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করালেও পরবর্তীতে অভিভাবকরা তাদের অভিযোগ প্রত্যাহার করেছে। এ ধরণের ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার পাশাপাশি প্রশাসনের আশুহস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ইউপি চেয়ারম্যান ও তার কর্মী সমর্থকরা।

জানাগেছে, উপজেলার রাড়–লীতে ১৮৫০ সালে বিশ্ব বরেণ্য বিজ্ঞানী স্যার আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র পি.সি রায়ের পিতা হরিশ্চন্দ্র রায় স্ত্রী ভূবন মোহনীর নামে দেশের প্রথম বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৮৬ সালের পূর্বপর্যন্ত বিদ্যালয়টি নন এমপিও ছিল। এমপিও ভুক্ত করার লক্ষে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ গোলদার ১৯৮৬ সালে ইউনিয়নের কুলে শ্রীকণ্ঠপুর মৌজায় এসএ ৮৮ খতিয়ানের ১২৯৫ দাগে ১.৩০ একর সম্পত্তি স্কুলের নামে দানপত্র করে দেন। এর ফলে বিদ্যালয়টি মাধ্যমিক পর্যায়ে এমপিও ভুক্ত হয়। যে সম্পত্তি নিয়ে দাতা সদস্যকে জড়িয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে এলাকার একটি মহল। মূলত উক্ত মৌজায় ২৪৪টি দাগে এলাকার ২৩জন ব্যক্তি ১৯৫৬-৫৭ সালে ৯৫.৮ একর সম্পত্তি নিলামে ক্রয় করেন। উক্ত ২৩ জনের মধ্যে শ্রীকণ্ঠপুর গ্রামের মৃত শহর আলী গাজীর ছেলে কোরবার আলী গাজীর নিকট থেকে ১.৩০ একর সম্পত্তি কোবলা দলিল মুলে ক্রয় করেন ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ গোলদার। ৭/৮/৯৪ সালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উক্ত মৌজার সম্পত্তি এলাকার ২৩ জনের নামে বন্দোবস্ত দেন। যার বিরুদ্ধে ডিসি, ইউএনও, এসিল্যান্ড ও বন্দোবস্ত গ্রহীতা সহ ৮৬ জনকে বিবাদী করে সিদ্দিক আলী মোড়ল গং সহ ২৯৪ জন বাদী হয়ে খুলনা চতুর্থ সাব জজ আদালতে দেওয়ানী মামলা করে। যার নং- ৪৪২/৯৪। পরবর্তীতে চতুর্থ জজ আদালতে জজ না থাকায় মামলাটি দ্বিতীয় সাবজজ আদালতে স্থান্তর হয়। যার নং- ২৫/২০১০। যা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। গত ২৬ বছরে বন্দোবস্ত গ্রহীতারা উক্ত সম্পত্তির দখলে আসতে পারেনি কিংবা তাদের অনুকুলে রেকর্ডও করতে পারেনি। এই মৌজায় ৩১ ধারায় স্কুলের পক্ষ থেকে সেটেলমেন্ট অফিসে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। জরিপ কাজ এখনো অসম্পন্ন রয়েছে। অপরদিকে স্কুলের নামে দান করা সম্পত্তি ২০০৭ সাল পর্যন্ত খাজনা পরিশোধ করা হয়েছে। জমিদাতা হিসেবে ১৯৯৪ সালে ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ গোলদার দাতা সদস্য মনোনীত হন। ২০০৪ সাল থেকে ১৯/০৯/২০২০ পর্যন্ত বর্তমান কমিটির মেয়াদের শেষ পর্যন্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন আব্দুল মজিদ গোলদার। এদিকে ইউপি নির্বাচনকে সামনে রেখে ও রাজনৈতিকভাবে ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে এলাকার একটি মহল স্কুলের অভিভাবক শ্রী নাথ দেবনাথ, বনফুল ও বিশ্বনাথকে দিয়ে ২৪/১২/২০১৯ দাতা সদস্য মজিদ গোলদারের বিরুদ্ধে যশোর বোর্ড চেয়ারম্যান বরাবর অভিযোগ করান। বোর্ড কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্তপূর্বক প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ইউএনও’কে নির্দেশনা দেন। ইউএনও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে তদন্ত সম্পন্ন করে ১/৭/২০২০ তারিখ বোর্ড কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করেন। বোর্ড কর্তৃপক্ষ প্রতিবেদনের আলোকে স্কুলের নামীয় সম্পত্তি ভোগদখলে না থাকায় এবং উক্ত সম্পত্তি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান থাকায় ২৯/৯/২০২০ তারিখে মজিদ গোলদারকে দাতা সদস্যের পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করেন। এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মজিদ গোলদার জানান, এলাকার একটি মহল যে সব অভিভাবকদের ভুলবুঝিয়ে অভিযোগ করিয়েছিল সে সব অভিভাবকগণ তাদের অভিযোগ উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত আবেদন করার মাধ্যমে প্রত্যাহার করে নিয়েছে। এছাড়া জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আদালতে মামলা হতেই পারে। যে মামলাটি আদালতে চলমান রয়েছে সে মামলায় স্কুলও বাদী রয়েছে। অব্যাহতি প্রদানের বোর্ডের কোন চিঠি এখনো হাতে পায়নি। চিঠি পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে ইউপি চেয়ারম্যান জানান।

#