‘রিভিউয়ে’ ফাঁসির আসামির সাজা কমল


387 বার দেখা হয়েছে
Print Friendly, PDF & Email
‘রিভিউয়ে’ ফাঁসির আসামির সাজা কমল
আগস্ট ৩, ২০১৫ জাতীয় ফটো গ্যালারি
Print Friendly, PDF & Email

ভয়েস অব  সাতক্ষীরা ডটকম ডেস্ক :
মানিকগঞ্জের শিবালয় থানার শিবরামপুর গ্রামের তরুণ শুক্কুর আলীকে এখন মৃত্যু পর্যন্ত কারাগারে কাটাতে হবে।

প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বে চার সদস্যের আপিল বেঞ্চ সোমবার রায় পুর্নবিবেচনার (রিভিউ) আবেদন নিষ্পত্তি করে এই আদেশ দেন।

শুক্কুরের আইনজীবী এম কে রহমান আদেশের পর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বাংলাদেশের বিচার বিভাগের ইতিহাসে ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার পর দণ্ড কমানোর ঘটনা ‘তার জানা মতে’ এই প্রথম।

শুক্কুর এখন রাষ্ট্রপতির অনুকম্পা (মার্সি) চাইবেন জানিয়ে তার আরেক আইনজীবী নাজনীন নাহার  দীপু বলেন, “আশা করি সেখানে প্রতিকার পাব।”

রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম আদেশের সময় আদালতে উপস্থিত ছিলেন।

১৯৯৬ সালের ১১ জুন মানিকগঞ্জের শিবরামপুর গ্রামে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে ১৯৯৯ সালে ১৪ বছর বয়সী কিশোর শুক্কুর আলীর বিচার শুরু হয়।

২০০১ সালের ১২ জুলাই মানিকগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল শুক্কুরকে আলীকে মৃত্যুদণ্ড দেয়।

শুক্কুর আলীর পক্ষে মানবাধিকার সংগঠন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট) হাই কোর্টে গেলে ২০০৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি সেখানেও মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকে।

পরের বছর ২৩ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগেও শুক্কুরের সর্বোচ্চ সাজা বহাল থাকে। শুকুর আলী রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করলে ওই বছরের ৪ মে তাও খারিজ করে দেয় আপিল বিভাগ।

এদিকে বিচারিক আদালতের রায়ের এক বছর আগে ১৯৯৫ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন রহিত করে নতুন আইন প্রণয়ন করে সরকার। নতুন আইনে ধর্ষণ করে হত্যার ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়। অথচ আগের আইনে ধর্ষণ করে হত্যার দায়ে কেবল মৃত্যুদণ্ডের বিধান ছিল, যা প্রযোজ্য হয়েছিল শুক্কুরের ক্ষেত্রে।

এ বিষয়টি তুলে ধরে শুক্কুর আলী ও ব্লাস্ট ২০০৫ সালের নভেম্বর হাই কোর্টে রিট আবেদন করেন। ২০১০ সালের ২ মার্চ হাই কোর্ট ওই ধারা সাংঘর্ষিক ঘোষণা করে। তবে আপিল বিভাগে শুক্কুর আলীর মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকায় হাই কোর্ট তাতে কোনো হস্তক্ষেপ করেনি।

ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১০ সালের ২৮ এপ্রিল আবারও আপিল বিভাগে আসেন শুক্কুর ও ব্লাস্ট। এছাড়া ওই আইনে সাজাপ্রাপ্ত আরও ১১টি আবেদনও শুনানির জন্য আসে।

শুনানি শেষে গত পাঁচ মে আপিল বিভাগের রায়ে বলা হয়, ধর্ষণ করে হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ড ছাড়া বিকল্প শাস্তির বিধান না রেখে প্রণীত ১৯৯৫ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন (বিশেষ বিধান) আইন সংশোধনের পর আগের মামলাগুলো পুরনো আইনে চালানোর বৈধতা দিয়ে ২০০০ সালের আইনে যুক্ত একটি ধারা (৩৪ এর ২) সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

একইসঙ্গে ধর্ষণের শাস্তি সংক্রান্ত ১৯৯৫ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন (বিশেষ বিধান) আইনের ৬ (২), ( ৩) ও (৪) ধারাও শাসনতন্ত্রের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হয়।

কিন্তু শুক্কুরের দণ্ড বহাল থাকায় তিনি আপিল বিভাগে আবারও রিভিউ আবেদন করেন। তার নিষ্পত্তি করে সর্বোচ্চ আদালত সোমবার সাজা কমানোর আদেশ দিল।